 |
ইসলামিক শিক্ষা - ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর আলাইহাস সালাম উনাদের মুবারক নিকাহ অনুষ্ঠানে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতি
-মুহম্মদ আবূ হুরায়রা
খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন: “আমি তোমাদের নেককার পুরুষের জন্য নেককার আহলিয়া তৈরি করেছি।” এ আয়াত শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয় যে, খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে কতো পূত-পবিত্রা, নেককার, আল্লাহওয়ালী, কতো উঁচু মাক্বামের লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হিসেবে যমীনে পাঠিয়েছেন এবং মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহান সঙ্গীনী হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছেন। মূলত, যিকির-ফিকির, রিয়াযত-মাশাক্কাত দ্বারা মুজাদিদ্দে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সহধর্মিণী হওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়টি যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব, খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সৃষ্টির শুরু থেকেই মনোনীত করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে নিকাহ মুবারক-এর দিন-তারিখ ধার্য হয়। অবশেষে ১৯৮৮ ঈসায়ী সনে রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে পরিপূর্ণ সুন্নতী তর্জ-তরীক্বায় এক অনাড়ম্বর পরিবেশে নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। খুতবা পাঠসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে খিদমতের আঞ্জাম দেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা হযরতুল আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ রুকনুদ্দীন ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি। রূহানীভাবে সকল আওলিয়ায়ে কিরাম, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম, নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম, ফেরেশতাকুল এবং রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবু রব্বিল আলামীন, ছাহিবুল মাক্বামিল আ’লা, মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতিতে নিকাহ মুবারক-এর মাহফিল জান্নাতী আবেহায়াতে পরি¯œাত হয়ে কামিয়াবী ও মক্ববুলিয়াতের চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হয়। জান্নাতে বয়ে যায় আনন্দের ফল্গুধারা। হুর-গেলমান হয় খুশিতে মাতোয়ারা। ফেরেশতাকুল ছানা পড়ে খুশির হিল্লোলে। নির্বাক নীল আকাশ মেতে উঠে অজানা রবে। পাখিরা মুখর হয় কাকলী-কূজনে। পত্র-পল্লবে কাঁপন উঠে অজানা শিহরণে। জিন-ইনসান আন্দোলিত হয় অনাবিল আবাহনে। সকলের উচ্চকিত “মারহাবা-মারহাবা” ধ্বনিতে মুখরিত হয় আসমান-যমীনসহ কুল কায়িনাত। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বাত, বাহরুল উলূম, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল খইর, আফদ্বালুন নিসা, ফক্বীহাতুন নিসা, ত্বাহিরাতুন নিসা, হামীদাতুন নিসা, মাজীদাতুন নিসা, রাহনুমায়ে দ্বীন, আত্বায়ে রসূল, ওলীয়ে মাদারজাদ, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, হাদীয়ে যামান, মাহবুবায়ে ইলাহী, বিশ্বমাতা, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি তখন কোলের শিশু। তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার নিকট ছিলেন। এমন সময় উনার সম্মানিত পিতা উনার মাদরাসার জনৈক উস্তাদ তিনি কোনো এক প্রয়োজনে সেখানে উপস্থিত হলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে দেখে তিনি বললেন: “হে মাওলানা রুকনুদ্দীন ছাহিব! আপনার এ কন্যা সন্তানের চেহারা মুবারক নূরে দীপ্তিমান। আপনারা উনার সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান করবেন। আপনার এই কন্যা সন্তান অনেক উঁচু স্তরের ওলীআল্লাহ হবেন। জগৎময় উনার সুখ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। উনার হিদায়েতের নূর সমগ্র বিশ্ব পরিম-লে পরিব্যাপ্ত হবে। উনার অতুলনীয় রূহানী কুওওয়াত ও বিস্ময়কর প্রভাবে সারা দুনিয়ায় নারী জাগরণ ঘটবে। মহিলারা খাছ শরয়ী পর্দা পালনে অভ্যস্ত হবে। বিদয়াত, বেশরা ও জুলমত দূর হবে। উনার হিদায়েত, নছীহত, ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহতে ইসলামী তর্জ তরীক্বায় নারী মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মহিলাদের ইলম, প্রজ্ঞা ও সমঝ হাছিলের বন্ধ দরজা অবারিত হবে। ইসলামসম্মত উপায়ে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত। বিশ্ব মহিলাদের হিদায়েতের জন্য তিনি এক অনন্য আলোক বর্তিকা।” অতঃপর একদিন হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ রুকনুদ্দীন ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাড়িতে উপস্থিত হলেন অন্য একজন বুযূর্গ ব্যক্তি। সেদিনও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বাত, বাহরুল উলূম, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল খইর, আফদ্বালুন নিসা, ফক্বীহাতুন নিসা, ত্বাহিরাতুন নিসা, হামীদাতুন নিসা, মাজীদাতুন নিসা, রাহনুমায়ে দ্বীন, আত্বায়ে রসূল, ওলীয়ে মাদারজাদ, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, হাদীয়ে যামান, মাহবুবায়ে ইলাহী, বিশ্বমাতা, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার কাছেই ছিলেন। সালাম বিনিময়ের পর আগন্তুক বুযূর্গ ব্যক্তি একই কথা বললেন: “হে মাওলানা রুকনুদ্দীন ছাহিব! আপনার এ কন্যা সন্তান খালিছ ওলীআল্লাহ হবেন। তিনি হবেন একজন বেমেছাল মর্যাদাসম্পন্না ওলীআল্লাহ। তিনি হবেন মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ছাহিবাতুল মুকাররমা। অন্য কারো সঙ্গেই উনার নিকাহ মুবারক সংঘটিত হবে না। উনার নেক আল-আওলাদ উনারা সকলেই হবেন লক্ষ্যস্থল খালিছ ওলীআল্লাহ। বিশেষত তিনি হবেন বেমেছাল ওলীআল্লাহ উনার বুযুর্গ পুত্র পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা।” অতঃপর বুযূর্গ ব্যক্তি আরো বললেন: “এমন মুবারক কন্যা সন্তান উনার পিতা হয়ে আপনি তুলনাহীন সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।” মূলত, মানুষের ছূরতে আগন্তুক দু’ব্যক্তি ছিলেন ফেরেশতা। সুবহানাল্লাহ! মামদূহ হযরত হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের উসীলায় উনাদের সম্মানার্থে আমরা পেয়েছি- আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা আলাইহাস সালাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম, আওলাদে রসূল, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেন দয়া করে ইহসান করে আমাদেরকে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনন্তকাল খালিছভাবে গোলামী করে তার উপর ইস্তিকামত থাকার দায়িমী তাওফিক দানে ধন্য করেন। আমীন!
|
|
 |