 |
ইসলামিক শিক্ষা - ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদ মুবারক
-মুহম্মদ মাসউদ আলম আল-মাহদী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
যামানার মহান ইমাম ও মুজতাহিদ, হাবীবে আ’যম, গাউছুল আ’যম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এমন এক সময়ে যমীনে তাশরীফ মুবারক আনলেন, যখন বিশ্বের তামাম মুসলমান পবিত্র ঈমানী সঙ্কটে সঙ্কটাপন্ন। একদিকে মুসলমানের উপর চলছে চরম যুলুম-নিপীড়ন, অপরদিকে চলছে একের পর এক মুসলিম দেশ দখল। বিশ্বের তথাকথিত পরাশক্তি অর্থাৎ ইহুদী-নাছারা, মজুসী-মুশরিকগুলো নানা অজুহাতে মুসলমানদেরকে পৃথিবীর বুক হতে নিশ্চিহ্ন করার ব্যর্থ চেষ্টায় লাখো-কোটি মুসলমানকে নির্মমভাবে শহীদ করে চলেছে। তারা অসংখ্য মুসলিম মা-বোনদের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে, মাছুম শিশুদের করেছে ইয়াতিম। তাদের অকথ্য নির্যাতনে অনেক মুসলমানকে তাদের বস্তু-ভিটা পরিত্যাগ করে আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই নিতে হয়েছে। অন্যদিকে উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী তথাকথিত আলিমগুলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে হীনস্বার্থে বিকৃত করে সারা বিশ্বে ফিতনার জাল বিস্তার করে চলেছে। তারা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল বলে প্রচার করছে। যার কারণে মুসলমান আজ বিভিন্ন দল-মতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পবিত্র আক্বীদা-আমলে গোলমাল থাকার কারণে মুসলমানদের পবিত্র ঈমানী কুওওয়াত আজ নেই বললেই চলে। আর এ জন্যেই মুসলমান আজ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বিধর্মী, মজুসী-মুশরিক, ইহুদী-নাছারাদের তাঁবেদার হয়ে পড়েছে। তামাম পৃথিবীর মুসলমানগণ যখন পথহারা পথিকের ন্যায় এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করছে, সঙ্গতকারণেই তখন একজন পথ প্রদর্শকের একান্ত প্রয়োজন। আর সেই প্রয়োজন পূরণের লক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ্য থেকে আগমন মুবারক করলেন হিজরী পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম হযরত আস-সাফফাহ আলাইহিস সালাম। হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক আগমন আমাদের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আইয়্যামে জাহিলিয়াত বা অজ্ঞতা, অন্ধকার যুগে মুবারক তাশরীফ এনেছিলেন। উনার তাশরীফ মুবারকের বদৌলতে তমসাচ্ছন্ন পৃথিবী তথা সারা কায়িনাত হয়েছিলো নুবুওওয়াত শরীফ উনার আলোয় আলোকিত। তামাম কায়িনাত পেয়েছিল সত্য পথের দিশা। নূরে মুজাসসাস, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোহবতের মাধ্যমে অসংখ্য মাখলুক্ব হয়েছিল মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয় নৈকট্যশীল বান্দা। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই পবিত্র নুবুওওয়াত শরীফ উনার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে, মহান ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াত শরীফ’ উনাকে গোটা পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে, গোটা পৃথিবীবাসী তথা মুসলমানদের সঠিক পথের দিশা এবং অন্ধকার থেকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে তাজদীদী আলোকচ্ছটা দিক হতে দিগন্তে ছড়িয়ে দিচ্ছেন যামানার মহান ইমাম, ইমামে আ’যম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত আস-সাফফাহ আলাইহিস সালাম। আর উনার সেই মহান তাজদীদ মুবারক উনার ফলে সারাবিশ্বে ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ! পৃথিবীতে নেমে আসবে জান্নাতী সুখ। বাস্তবায়িত হবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার সকল হুকুম। কারণ তিনি হচ্ছেন হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই কায়িনাতবাসী তথা সমস্ত মুসলমান জিন-ইনসানের উচিত- হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহান তাজদীদ মুবারকে সাড়া দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।
|
|
 |