 |
সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছাহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছাহিবুল মি’রাজ, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে-১
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম
“যারা এমন রসূলের অনুসরণ করে, যিনি হচ্ছেন উম্মী নবী (নবীগণের মূল)। যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়। তিনি সৎ কাজের আদেশ দান করেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আর পবিত্র বস্থগুলোকে হালাল ঘোষণা করেন এবং অপবিত্র বস্থগুলোকে তাদের জন্য হারাম করে দেন এবং তাদের উপর থেকে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দিত্ব অপসারণ করেন; যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল।” (সূরা আ’রাফ : আয়াত শরীফ ১৫৭) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ‘উম্মী নবী’ তথা নবীগণের মূল। উনাকে এ পৃথিবীতে পাঠানোর পূর্বেই আল্লাহ পাক আকাশকে গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত করেন। যমীনের সৌন্দর্য বর্ধন করেন জিন-ইনসান পশু পাখি, তরু-লতা, ফুল-ফল ইত্যাদি নানা উপকরণ দ্বারা। এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দু’লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল, আলাইহিমুস্ সালামগণকে পাঠিয়েছেন দুনিয়াবাসী সবাইকে অবহিত করার জন্য যে, অতিশীঘ্রই আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নাবিয়্যুল উম্মী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে তাশরীফ আনছেন। আর এ বিষয়কে আরো হৃদয়গ্রাহী ও গুরুত্ব দানের জন্য পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন উনার আলোচনা এবং মহান গুণাবলী। উল্লেখ্য যে, প্রেমিক চায় সব সময় প্রেমাস্পদকে খুশি রাখতে। আল্লাহ পাকও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুশী করার জন্যই সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ-এর নিকট এবং তদীয় উম্মতগণ-এর নিকট উনার মহান হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আলোচনাকে সমুন্নত রেখেছেন। হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম তদীয় উম্মতকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমনের সুসংবাদ এবং উনার যাবতীয় গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন। যা আল্লাহ্ পাক কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন এভাবে- “স্মরণ কর; যখন হযরত মরিয়ম আলাইহাস্ সালাম-এর আওলাদ হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম বললেন, “হে বণী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ পাক-এর প্রেরিত রসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন উনার নাম হবে আহমদ।” (সূরা আছ্ছফ : আয়াত শরীফ ৬) তাওরাতে বর্ণিত আছে, “তিনি হচ্ছেন মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ। উনার বিলাদত শরীফ হবে মক্কা শরীফ-এ এবং হিজরত করবেন তাইবা’র দিকে। আর উনার দেশ হবে সিরিয়া। তিনি কঠোর মেজাজের হবেন না, কঠোর ভাষায় তিনি কথাও বলবেন না, হাটে-বাজারে তিনি হট্টগোলও করবেন না। তিনি অশ্লীলতা থেকে দুরে থাকবেন।” (দালায়িলুন্ নুবুওয়াত, তাফসীরে মাযহারী) হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজ সনদে হযরত কা’ব ইবনে আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, তাওরাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এরূপ লিখা আছে যে, “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ও মনোনীত বান্দা। তিনি না কঠোর মেজাজের লোক, না অনর্থক বক্তা। তিনি হাটে বাজারে হট্টগোল করার লোক নন। তিনি মন্দের প্রতিদান মন্দ দ্বারা গ্রহণ করেন না; বরং ক্ষমা করে দেন এবং ছেড়ে দেন। উনার বিলাদত শরীফ হবে মক্কা শরীফ-এ। আর হিজরত হবে তাইবায়, উনার দেশ হবে শাম (সিরিয়া) উনার উম্মত হবে ‘হাম্মাদীন’। অর্থাৎ আনন্দ বেদনা, সুখে-দুঃখে উভয় অবস্থাতেই আল্লাহ্ পাক-এর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী।” (তাফসীরে মাযহারী) |
|
 |