al-ihsan.net
বাংলা | English

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪৩১ হিজরী) উপলক্ষে রাজারবাগ শরীফ-এ আয়োজিত ৪১ দিনব্যাপী মাহফিলের ২৬তম দিনে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, উনার ৮ম দিনের ওয়াজ শরীফ (১ম অংশ)

আল্লাহ পাক যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব উনার লক্ষ কোটি রহমত, যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার লক্ষ কোটি ইহসান; যার কারণে আমাদের পক্ষে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে একচল্লিশ দিনব্যাপী মাহফিলের ইন্তেজাম করা সহজ এবং সম্ভব হয়েছে।
একচল্লিশ দিনব্যাপী মাহফিলের প্রথম আঠারো দিন প্রতিযোগিতা অতিবাহিত হয়েছে। এরপর বিশ দিন হচ্ছে ওয়াজ মাহফিল, তারপর তিন দিন হচ্ছে সামার মাহফিল। আজকে বিশ দিন ওয়াজ মাহফিলের অষ্টম দিনে শেষ প্রান্তে আমরা পৌঁছেছি।
মূলত যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক আল্লাহ পাক, আর যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনাদের রহমত, বরকত, ছাকিনা, মাগফিরাত ইহসান ব্যতীত কস্মিনকালেও এ মাহফিলের ইন্তেজাম করা সহজ এবং সম্ভব ছিল না।
উনাদের ইহসানের কারণেই সেটা সহজ, সম্ভব হয়েছে এবং এটা চলে আসতেছে, আজকেও আলোচনা হয়েছে।
যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল, যিনি নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান সংক্রান্ত বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। আজকেও চারটা বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।
প্রথমত যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে সেটা হচ্ছে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, যিনি নূরে মুজাসসাম, যিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সাথে যারা আল্লাহ পাক, উনার ওলী, শায়েখ, মুর্শিদ উনাদের নিছবত, তাওয়াল্লুক এই সম্পর্কে।
দ্বিতীয়ত আলোচনা করা হয়েছে, যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি সর্বাবস্থায়, আল্লাহ পাক, যিনি উনার বান্দাদেরকে, উনার উম্মতদেরকে পথপ্রদর্শন করে থাকেন। সেটা সেই উম্মত, সে বান্দা স্বপ্নে দেখুক, কাশফে দেখুক অথবা সরাসরি দেখুক, সর্বাবস্থায় তিনি পথপ্রদর্শন করে থাকেন।
তৃতীয়ত যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে একজন সালিক, মুরীদ তার মুর্শিদ, তার শায়েখের প্রতি আদব, ইতায়াত, খিদমত ইত্যাদি সম্পর্কে।
আর চতুর্থত যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল, যিনি নূরে মুজাসসাম, যিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার মু’জিযা সম্পর্কে। অত্যন্ত বড় বিষয়, লম্বা আলোচনা হয়েছে।
এখন প্রতিটি বিষয়ই জরুরত আন্দাজ সময় অনুযায়ী দলীল-আদিল্লাহভিত্তিক যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। এখন সেটা আমরা প্রতিদিনই বলে থাকি- আসলে এই আলোচনাগুলি প্রত্যেকটা বিষয়ই যদি আলাদা আলাদা করা হয় অনন্তকাল ধরে আলোচনা শেষ হবে না। কারণ এ আলোচনাগুলি শেষ হওয়ার মতো নয়। তারপরেও বান্দাদের উম্মতদেরকে আক্বীদা বিশুদ্ধ করার জন্য, যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক, যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং যারা নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া, উনাদের সাথে নিছবত-তায়াল্লুক মুহব্বত স্থাপন করার জন্য, রুজু করার জন্য, আক্বল, বুদ্ধি সমঝ পয়দা করার জন্য আপাতত এ অল্প সময়ে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই আলোচনা করা হয়ে থাকে। সেই জন্য প্রতিদিন আমরা এভাবে আলোচনা করে আসতেছি।
প্রথম যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যিনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সাথে আল্লাহ পাক, উনার ওলী, শায়েখ, মুর্শিদ, নায়িবে নবী, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া উনাদের নিছবত। এখন এটা তো স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহ পাক নিজেই তো বলেন, সমস্ত কায়িনাতকে আল্লাহ পাক সাবধান করে বলেন, “তোমরা সতর্ক হয়ে যাও, সাবধান হয়ে যাও। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাক, উনার ওলী উনাাদের কোন ভয় নেই চিন্তা নেই।”
আল্লাহ পাক এবং উনার যিনি হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনাদের সাথে যাঁর নিছবত থাকবে তাঁর তো ভয় থাকতে পারে না। এখানে আমরা অনেকবার বলেছি, এটা উছুল রয়েছে, সেটা হচ্ছে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাপারে।
কুরআন শরীফ-এর যে স্থানে শুধুমাত্র যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, রব আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক রয়েছে অথবা শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নাম মুবারক রয়েছে, একইভাবে হাদীছ শরীফ-এ যেখানে শুধুমাত্র যিনি খলীক্ব, মালিক রব আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক রয়েছে এবং হাদীছ শরীফ-এ শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রয়েছে, সেখানে আপসে আপই আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সংযুক্ত হয়ে যাবেন।
আবার যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রয়েছে সেখানে আপসে আপ আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক সংযুক্ত হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই আল্লাহ পাক উনার ওলী অর্থাৎ আল্লাহ পাক, উনার হাবীব, উনার ওলী যাঁরা তাঁদের কোন ভয় নেই, চিন্তা নেই।
আল্লাহ পাক উনার ওলীতো মানুষ হতে পারবে না। যিনি আল্লাহ পাক, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তায়াল্লুক-নিছবত ব্যতীত। কাজেই কোন একজন ব্যক্তি, একজন বান্দা, কোন উম্মত উনার সাথে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে, নিছবত না থাকে, সেই ব্যক্তির পক্ষে কিয়ামত পর্যন্ত যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব উনার ওলী, বন্ধু হওয়া কখনই সম্ভব নয়, নিছবত স্থাপন করা কখনই সম্ভব নয়। কাজেই যিনি খলীক্ব, মালিক, উনার ওলী, উনার বন্ধু তিনি একইভাবে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওলী উনার বন্ধু উনার সাথে নিছবত প্রাপ্ত তায়াল্লুকপ্রাপ্ত। এখন সে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়টা এবং এর পরবর্তী যে বিষয়টা দুটা বিষয় আসলে কাছাকাছি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিছবত তাওয়াল্লুকের কারণেই আল্লাহ পাক, উনার বান্দারা, উম্মতরা সম্মানিত হয়, আল্লাহ পাক উনার ওলী হয়ে থাকেন। উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার খালিছ উম্মত হয়ে থাকেন। এছাড়া তো সেটা সম্ভব নয়। যেহেতু নিছবত থাকে, সম্পর্ক থাকে। সেটা আমরা আগেই বলেছি, আসলে মূল উছুল যে বিষয় তা ইজমা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, আলোচনা হবে, অনন্তকাল ধরে আলোচনা করতে হবে। ইজমা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকের সাথে যে মাটি মুবারক স্পর্শ করে আছে সেই মাটি মুবারকের মর্যাদা আরশ, কুরশী, লৌহ, কলম, বেহেশত, কাবা শরীফ সমস্ত কিছুর চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বেশি সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! এখন একটা মাটি নিছবত করার কারণে এতো সম্মানিত হয়ে যায়, তাহলে দেখা যাচ্ছে নিছবতের সাথেই সম্মান, ইজ্জত, বুযূর্গী। মাটির তো কোন সম্মান ছিল না। ঠিক যে বান্দা, যে উম্মত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সাথে নিছবত করবে তিনি আল্লাহ পাক উনার ওলী হবেন; তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নায়িব, ওয়ারিছ হবেন। সে বিষয়টাই আলোচনা করা হয়েছে, এইটাই স্বাভাবিক।
আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে বিষয়টা হাক্বীক্বীভাবেই অনুধাবন করার তৌফিক দান করেন।
আর দ্বিতীয় যে বিষয়টা বলা হয়েছে, যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পথ প্রদর্শন করেন। এটাইতো স্বাভাবিক। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ বলেন, “হে আমার নবী, আমার হাবীব! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছে সাক্ষ্যদাতা, সতর্ককারী, সুসংবাদদাতা। আল্লাহ পাক যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব, উনার দিকে আপনি আহবান করবেন, আপনি যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ। যেমন অন্যত্র আল্লাহ পাক বলেন- এটা আম এবং খাছ; “মানুষকে হিকমতের সাথে সুন্দর কথা দিয়ে আল্লাহ পাক যিনি খলীক্ব, মালিক উনার দিকে ডাকতে হবে।”
এখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই আসলে ডেকে থাকেন। এখন সেটা সরাসরি, কাশফের মাধ্যমে, মুরাকাবার মাধ্যমে, স্বপ্নের মাধ্যমে সবভাবেই। যার ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে। অনেক আলোচনা আমরা করে থাকি আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জীবনী মুবারক থেকে। সারা পৃথিবীব্যাপী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ছড়িয়ে গেছেন। আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছেন। উনারা কি করে সারা পৃথিবীতে ছড়ালেন? প্রত্যেকটা বিষয়ই তো যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথ প্রদর্শন করেছেন। সেটা হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বোখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আমাদের দেশের হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি, অন্যান্য আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম যাঁরা এসেছেন সারা পৃথিবীব্যাপী যাঁরা ছড়িয়েছেন সকলেই। উনাদেরকে তো যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পথ প্রদর্শন করেছেন ও করে থাকেন। যেহেতু এখানে কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, সরাসরি আল্লাহ পাক নির্দেশ করেন, আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে, উনার আদেশে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, তিনি মানুষদেরকে ডেকে থাকেন, পথ প্রদর্শন করে থাকেন।
আবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বণ্টনকারী, আল্লাহ পাক হচ্ছেন দাতা।”
এখন যিনি দাতা তিনি তো হাদিয়া করেছেন। এখন বণ্টনকারী যিনি তিনি বণ্টন করবেন। এখন কাকে, কোথায় বণ্টন করবেন? বণ্টন করার অর্থই হচ্ছে- বণ্টন তো শুধু একদিকে নয়, এটা তো শুধু খাবার বণ্টন নয় বা অন্য কিছু বণ্টন নয়; সমস্ত কায়িনাতকে বণ্টন করে দেয়া। সুবহানাল্লাহ! এমনকি আল্লাহ পাক- উনার মুহব্বত, মারিফত, তায়াল্লুক-নিছবত, নূরে মুজাসসাম উনার নিজের মুহব্বত, মা’রিফত, তাওয়াল্লুক-নিছবত সমস্ত কিছু তিনি বণ্টন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন পথ প্রদর্শন করার ব্যাপারে তো অনেক রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। কাজেই এটাই তো স্বাভাবিক, তিনি সেই বণ্টন করেন, করতেছেন, করবেন। এখন সাধারণভাবে একটা কথা আসতে পারে। সেটা হচ্ছে, আল্লাহ পাক, তিনি নিজের শানেই বলেন, “আল্লাহ পাক প্রতিদিন একেক শানে থাকেন।” এখন যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে- তিনি যমীনে আসলেন, দুনিয়াবী জিন্দেগীতে তেষট্টি বৎসর অবস্থান করলেন। উনার বয়স মুবারক যখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে চল্লিশ বৎসর বয়স মুবারক হলো, তখন থেকে তিনি তেষট্টি বৎসর বয়স মুবারক পর্যন্ত ২৩ বৎসর জিন্দেগী মুবারকে যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক, উনার বিষয়টা প্রচার-প্রসার করে তিনি আল্লাহ পাক, উনার সাক্ষাতে চলে গেলেন। এই যে বিষয়টা, আসলে এইটা একটা হাল, একটা অবস্থা। এইটা একটা শান।
যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক, তিনি যেমন উনার অবস্থান থেকে সমস্ত কায়িনাত পরিচালনা করেন; ঠিক নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উনার কুদরতের মধ্যে থেকে তিনি উনার পরিচালনার যে দায়িত্ব সেটা তিনি যথাযথ পালন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! এটাই হচ্ছে মূল বিষয়। এই পথ প্রদর্শন বা পথের দিকে ডাকা, নিছবত-তায়াল্লুক স্থাপন করে দেয়া।
কাজেই আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলতের বিষয়টা, অনুধাবন করার তৌফিক যেন দান করেন।
তৃতীয় যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, একজন সালিক, একজন মুরীদের জন্য মুর্শিদ উনার খিদমত, ইতায়াত বা মুহব্বত ইত্যাদি সম্পর্কে। এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ বলেন, “হে ঈমানদাররা! আল্লাহ পাক যিনি উনাকে ইতায়াত কর, যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত কর আর যিনি নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া উনাকে ইতায়াত করো। এখন এই ইতায়াতের মধ্যে তো অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ রয়েছে। কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক অন্যত্র বলেন, সরাসরি আমার শুকরিয়া আদায় কর, আর তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় করো। এখানে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফরয করে দেয়া হয়েছে। এখন এই আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় অনেক কিছু রয়েছে। তবে জরুরত আন্দাজ যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে সুলতানুল আরেফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন আয়াত শরীফ পড়তে ছিলেন মাদরাসায়। পড়তে পড়তে এ আয়াত শরীফ উনার কাছে কেমন যেন মনে হল। তিনি উনার ওস্তাদ উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার ওস্তাদ! এটার হাক্বীক্বী অর্থটা কি? তিনি বললেন, দেখ বাবা, তুমি তো বাচ্চা মানুষ এখন বুঝবে না, বড় হলে বুঝবে? তারপর তিনি বললেন, এটার হাক্বীক্বী অর্থ কি? হাক্বীক্বী অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ পাক সরাসরি নির্দেশ করতেছেন তোমরা আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় কর এবং পিতা-মাতা উনাদেরও শুকরিয়া আদায় করো। তিনি বললেন, তাহলে আমাকে একটু দয়া করে ছুটি দিন। যেহেতু আমার মাতা তিনি রয়েছেন, উনার সাথে আমার বিষয়টা বুঝতে হবে। এই দুটা কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভব না। উনার ওস্তাদ শুনে মনে করলেন হয়তো বাচ্চা ছেলে কি বুঝেছে, ছুটি দিলেন। তিনি বাড়িতে আসলেন। এসে উনার মা যিনি উনাকে বললেন, আজকে একটা আয়াত শরীফ পড়েছি। এটার অর্থ নাকি এ রকম। আল্লাহ পাক বলেন, “আমার শুকরিয়া আদায় করো, আর পিতা-মাতা উনাদের শুকরিয়া আদায় করো।” এখন উনি বললেন, হে আমার মাতা! উনার পিতা তিনি ছিলেন না। তাহলে তো আমার পক্ষে দুইটা সম্ভব হবে না। হয় আপনি আমাকে গ্রহণ করুন আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে অথবা আমাকে আল্লাহ পাক উনার জন্য ছেড়ে দিন। দুইটার একটা। আমি দুটা করতে পারবো না। তখন উনার মাতা তিনি যেহেতু আল্লাহওয়ালী। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমার যত হক্ব ছিল আমি এটা ছেড়ে দিলাম, তুমি আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করো। তিনি উনার ইবাদতে মশগুল হলেন। এখন এই যে ঘটনাটা তিনি বাচ্চা ছিলেন আল্লাহ পাক উনার ওলীরা; আল্লাহ পাক উনার ওলী যাঁরা তাঁরা ছোট হলেও উনারা আল্লাহ পাক উনার ওলী। উনাদের এই সমস্ত ওয়াকিয়ার মধ্যে অনেক ইবরত নছীহত রয়েছে। এখন তিনি যখন এটা শুনলেন এই যে, বিষয় আল্লাহ পাক সরাসরি বললেন, আমার শুকরিয়া আদায় করো। তাহলে এখানে তো সরাসরি আমার হাবীব উনার জন্য শুকরিয়া আদায় কর। এখন তাহলে তো সরাসরি “আনিস কুরলী লি হাবীবী লি নায়িবে হাবীবী” পর্যায়ক্রমে আসতেই থাকবে। অর্থাৎ এখানে আল্লাহ পাক সরাসরি সেটা নির্দেশ করেছেন, আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় কর উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুকরিয়া আদায় কর, উনার নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া উনাদের শুকরিয়া আদায় করো। এরপর পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় করো।
এই যে বিষয়টা, এটা কুরআন শরীফ-এর দ্বারাই সাব্যস্ত হয়েছে। এখন সালিক মুরীদ তার দায়িত্ব কর্তব্য হল অবশ্যই তাঁর শায়েখ উনার ইতায়াত করা, খিদমত করা এবং আদেশ নির্দেশগুলো যথাযথ পালন করা। যেহেতু রূহানী পিতা যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং শায়েখ অর্থাৎ নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া। জিসমানী পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং সরাসরি যিনি পিতা থাকেন তিনি। তাহলে হাক্বীক্বী ঈমান দেয়া, ইছলাহ করা। যিনি খলীক্ব, মালিক, রব উনার নিছবত, তাওয়াল্লুক স্থাপন করে দেয়া। যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়া। এটা তো নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া উনার হক্ব বা কাজ।
এজন্যই তাছাউফে বলা হয়েছে, “শায়েখ মুরীদের মধ্যে এমন যেমন উম্মতের মধ্যে নবী।” সুবহানাল্লাহ! যার শায়েখ আসলে নেই, তার শায়েখ আসলে শয়তান হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এখন বিষয়টা ফিকিরের বিষয়। এটা বুঝতে হবে ফিকির করতে হবে, আলোচনা করা হয়েছে। এখন এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিষয়গুলি থেকে। এখন উনাদের যে আমল, যে আখলাক, যে আক্বীদা সেটাতো পৃথিবীর আর কেউ পাবে না। তবে উনাদেরকে অনুসরণ করে খিদমতে আঞ্জাম দেয়ার কোশেশ করতে হবে। এটা দায়িত্ব-কর্তব্য মনে রাখতে হবে। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করেন।
(অসমাপ্ত)




For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal