 |
আপনাদের মতামত - ২৩ জুলাই, ২০১২
শানে শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম
-গোলাম মুহম্মদ জুনাইদ।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াত প্রকাশের ষষ্ঠ বছর পর যখন রিসালতের ই’লান মানুষের কাছে দিয়ে যাচ্ছেন; তখনও কুরাঈশবাসী এবং অন্যান্য লোকেরা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বর্ণনাহীন যুলুম-অত্যাচার করার চেষ্টা শুরু করে। নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুতাবিক রিসালতের সুসংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকলেন। একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা’বা শরীফ-এ নামায আদায় করছিলেন। ঠিক এমন সময় এক মালউন কাফির উনার নূরে আতহার পবিত্র জিসিম মুবারক-এর উপর উটের নাড়িভুঁড়ি রেখে চলে গেল। নাঊযুবিল্লাহ! এই সংবাদ মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে পৌঁছলে সাথে সাথে মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাযির হয়ে উনার নূরে আতহার জিসিম মুবারক হতে সেসব আবর্জনা সরিয়ে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিল খুবই অল্প অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন যা অবর্ণনীয়। যার ফলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হলেন আমার গোশত মুবারক-এর একটি অংশ মুবারক। মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এত মুহব্বত করতেন যা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তার একটি উদাহরণ: যখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে চলে যান, তখন মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় রওজা শরীফ-এ অবস্থান করতেন এবং অধিকাংশ সময় বেহুশ অবস্থায় থাকতেন। আল্লামা হযরত জামী রহমতুল্লাহি তিনি শরহে জামী কিতাবে মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার একটি ক্বাছীদা শরীফ-এর অংশ উল্লেখ করেন, অর্থাৎ মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জুদায়ীর কারণে আমার উপর এমন কষ্ট যাচ্ছে, এই কষ্ট যদি কোনো দিনের উপর রাখা হয় দিনটি রাতে পরিণত হবে, আর যদি কোনো রাতের উপর রাখা হয় রাতটি দিনে পরিণত হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে ফিকিরের বিষয় তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনাকে কত মুহব্বত করতেন। আর এ মুহব্বতের কারণেই তিনি বেশি দিন যমীনে অবস্থান করেননি বরং ৬ মাস পর এই রমাদ্বান শরীফ-এর ৩ তারিখে তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। কায়িনাতের সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদিয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতে হবে এবং উনার সীরত-ছূরত মুবারককে মাঢ়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়িয়ে ধরতে হবে। আর উনাকে সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম-পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতে হলে, হাদিয়ে আলম, নকশায়ে যাহরা আলাইহিস সালাম, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতকে লাযিম করে নিতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমাদের নিজের জানের চাইতেও বেশি মুহব্বত করার এবং হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)
|
|
 |