 |
খাইরু হাযিহিল উম্মাহ্, ছহিবুত ত্বহিরা, নবীউর রাহাত, আল মুসাহহিহুল হাসানাত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার শারীরিক পরিচর্যা ও বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে-৩
-মাওলানা মুফতী মুহাদ্দিস মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
হাদীছ শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যা দিয়ে সম্ভব হোক তোমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন কর। কেননা আল্লাহ তায়ালা পরিচ্ছন্নতার ভিত্তির উপরেই ইসলামকে স্থাপন করেছেন। আর জান্নাতে কেবল পবিত্র-পরিচ্ছন্ন লোকেরাই প্রবেশ করবে।” (আল খাফফাজী ফি শরহিশ শেফা) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ শরীর মুবারকের পরিচর্যা ও বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বাসগৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ বাসভবনের পরিচ্ছন্নতার প্রতি দৃষ্টি রাখতেন এবং পরিষ্কার রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন। তেমনি লোকদেরকেও বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিতেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, “তোমরা তোমাদের বাড়ির উঠানকে পরিচ্ছন্ন রাখ।” মসজিদের পরিচ্ছন্নতা
তিনি মসজিদের পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন। আর মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত লোকের উপর খুব খুশি হতেন। সে জন্যই যখন মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকারিনী সেই মহিলা মৃত্যুবরণ করলেন এবং লোকেরা দাফন করে দেয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি দুঃখিত হন এবং বলেন: “তোমরা কেন আমাকে জানালে না?” অতঃপর তিনি ঐ মহিলার কবরের পাশে গিয়ে নামাযে জানাযা আদায় করলেন। মসজিদের পবিত্রতার জন্য সুগন্ধি ধোঁয়া দেবার নিমিত্তে নাঈম আল মুজমের নামে এক ব্যক্তি নিয়োজিত ছিলেন। শুধু মসজিদে নববী শরীফ-এর পবিত্রতা-ই নয়, বরং এ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার হুকুম সব মসজিদের জন্য সাধারণভাবে দিয়েছেন। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বাড়িতে মসজিদ বানাতে (বাড়িতে নামাযের স্থান) নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।” (তিরমিযী শরীফ) এছাড়া মসজিদে কফ, থু থু নিক্ষেপ করতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এমনকি ক্ষুদ্র খড়কুটা, বা ময়লা হতেও মসজিদকে পরিষ্কার রাখার নির্দেশ এসেছে। আর এই ক্ষুদ্র খড় কুটা পরিষ্কার করাতেও বিরাট নেকীর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অথচ অধুনা একদল লোক বেরিয়েছে তারা মসজিদকে রান্নাবান্না করার স্থান এবং বিশ্রামাগার বানিয়ে যেন আবাসিক হোটেলে পরিণত করেছে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে হিদায়েত দিন। মূলত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সৌন্দর্যমণ্ডিত হতেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, “নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা সৌন্দর্যশীল, সৌন্দর্যশীলদের তিনি ভালবাসেন।” (আমীন) |
|
 |