অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

সম্পাদকীয় - ২৩ জুলাই, ২০১২
 
আজ সুমহান ৩রা রমাদ্বান শরীফ
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাতি, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল ইমামাইনিল হুমামাইন, আহাব্বুন নাসি ইলান নাবিইয়ি, সাইয়্যিদাহ, ত্বাহিরাহ, যাহরাহ, যাকিয়াহ, রদ্বিয়াহ, মারদ্বিয়াহ, বতুল, উম্মু আবিহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বিছাল শরীফ

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
আজ মহিমান্বিত ৩রা রমযানুল মুবারক। লখতে জিগারে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; উম্মু আবিহা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বিছাল শরীফ।
উল্লেখ্য, এই বিছাল শরীফ-এর সুসংবাদ ছয় মাস পূর্বে স্বীয় বিছাল শরীফ মুহূর্তে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তিনি উনাকে দিয়েছিলেন। সত্যি উনিই সর্বোত্তম স্বীয় আব্বাজান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সর্বপ্রথম মিলিত হওয়ার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য নিয়েছিলেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনি সারাক্ষণ রওজা শরীফ-এ স্বীয় আব্বাজান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে বিভোর থাকতেন, মিলিত হওয়ার আকাঙ্খায় আকুল থাকতেন।
উল্লেখ্য, উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যেমন সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন; তেমনি সর্বপ্রথম তিনিই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বেহেশতে প্রবেশ করবেন। উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মূলত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অংশ বা কলিজা মুবারক-এর টুকরা মুবারক। উভয়ের অবস্থান আলাদা। কিন্তু মর্যাদা বলতে গেলে এক। পার্থক্য উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি নন। আর বাকী সব মর্যাদা, মর্তবা এবং ফযীলত ও নিয়ামতের অধিকারী সুবহানাল্লাহ!
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এর অনেক আয়াত শরীফ-এ এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ বহুবার বহু বিষয়ে উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছেন।
পবিত্র কুরআন শরীফ-এ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে সূরা আহযাব-এর ৩৩ নম্বর আয়াত শরীফ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পূত-পবিত্র।”
সূরা আলে ইমরান-এর ২১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কথা মুবারক সত্য এবং উনার দোয়া মুবারক মক্ববুল।”
সূরা শূরা-এর ৬ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুহব্বতই ঈমান।” সূরা আহযাব-এর ২৬ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার উপর দুরূদ শরীফ পড়া ওয়াজিব।” “সূরা সফফাত”-এর ১৩০ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার সালাম।”
“সূরা সফফাত”-এর ২৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুহব্বতই ক্বিয়ামতে মুক্তির উসীলা।”
“সূরা নিসা”-এর ৫৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার উপর হিংসা-বিদ্বেষকারীরা জাহান্নামী।”
“সূরা আনফাল”-এর ৩৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মতে হাবীবীর মহান কা-ারী।”
“সূরা ত্বহা”-এর ৮২ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অনুসারীগণ মহান আল্লাহ পাক উনার ক্ষমাপ্রাপ্ত।” “সূরা দাহর”-এর ৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ত্যাগের শিক্ষাই অনুসারীগণের দীক্ষা।” সূরা আর রহমান”-এর ১৯-২২ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে- “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বংশধরগণ আল্লাহ পাক উনার মনোনীত।” সূরা কাউসার-এর ১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে বংশধারা প্রবাহিত।” সূরা রা”দ-এর ২৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিকিরই মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির।” সূরা বাইয়্যিনাহ-এর ৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিই ইসলামের সত্যতার অনন্য দলীল।”
সূরা নূর-এর ৩১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ঘর মুবারক-এর প্রশংসা।” সূরা তাকাসুর-এর ৮ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে- “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিই নিয়ামত সমতুল্য অনুসরণীয় আদর্শ।” “সূরা ফুরকান-এর ৫৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বংশ মুবারক বিস্তার লাভ সম্পর্কে।”
সূরা হাজর-এর ৪৭ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে- “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক-এর প্রশংসা। ”
সূরা ফাতিহা-এর ৫ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হিদায়েতের আলোকবর্তিকা।”
এছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উপস্থিতিতে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার অন্য বিবাহ হারাম।” “উনার সাথে শত্রুতা করা কুফরী।” “উনার সাথে মুহব্বতকারীরা ক্বিয়ামতের দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একত্রিত হবেন।” “উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অবস্থান।” “হাশর দিবসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গুম্বুজের নিচে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার স্থান।” ক্বিয়ামত দিবসে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও সুপারিশকারী।” “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অনুসরণই মুক্তির উসীলা।” “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অনুসারীগণ বেহেশতী।”
এছাড়া আরও অনেক হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উনার মহিমান্বিত বিছাল শরীফ-এ উনার বেমেছাল মর্যাদা, মর্তবার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উনি নিজেই বিছাল শরীফ-এর পূর্বে গোসল সেরে নেন, বিছাল শরীফ-এর পূর্বে দাফনের কাপড় পরে নেন এবং এ কাপড় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাফনকৃত কাপড়েরই অবশিষ্টাংশ যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে হাদিয়া করেছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পর্দার চরম উদাহরণ হিসেবে উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আযরাইল আলাইহিস সালাম উনাকেও দেখা করতে অনুমতি দেননি। স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে উনার রূহ মুবারক নিয়ে যান।
প্রণিধানযোগ্য যে, উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সারাটি জীবন ব্যয় করেছেন উম্মতী হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কল্যাণ ও ক্ষমা কামনায়। একই লক্ষ্যে উনার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানদের পর্যন্ত কুরবানী করেছেন। এমনকি উনার বিছাল শরীফ পূর্ব শেষ বাক্যও ছিল উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু চরম-পরম পরিতাপ, গভীর দুঃখ ও আফসুসের বিষয় যে; সে বেমেছাল মমতাময়ী মা উম্মু আবিহা আলাইহাস সালাম উনার সন্তান- আমরা উনার কোন অবদানেরই বিন্দুমাত্র শোকরিয়া জ্ঞাপন করছিনা। শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ, রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের দেশ বাংলাদেশ সরকারও কিছু করছেনা। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা যারা আমার নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করবেনা, জেনে রাখ! আমার আযাব অনেক কঠিন।” মূলত দুর্নীতি, অসততা, মুনাফাখোরী, ভেজাল, বিষসহ হাজারো আযাবে ভরে গেছে আমাদের দেশ। এর থেকে রক্ষা পেতে হলে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবিহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মূল্যায়ন ব্যতিরেকে দ্বিতীয় কোন বিকল্প নেই।
মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ”যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
মুবারক ৩ রমাদ্বান শরীফ
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ
বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী ৩৭ বছর বয়স মুবারকে এবং উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় তিন বৎসর পূর্বে ২০ জুমাদাল উখরা তারিখে জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় তিনি যমীনে আগমন করেন। উনার বিলাদত শরীফকালে উনার সম্মানিতা আম্মা উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে কোনো মহিলাই উপস্থিত ছিলেন না- যিনি উনার খিদমতের আঞ্জাম দিবেন। ফলে তিনি কিছুটা চিন্তিত হতে না হতেই হঠাৎ উনার হুজরা শরীফ-এ চারজন মহিলার উপস্থিতি লক্ষ্য করলেন। উক্ত মহিলাদের আগমনে নূরানী ঘর আরো নূরানী বা আলোকিত হয়ে গেলো। তিনি উনাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে জানলেন উনারা হলেন- হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, হযরত আসিয়াহ আলাইহাস সালাম, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার বোন হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এ চার সম্মানিতা মহিলা আলাইহিন নাস সালাম উনারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বললেন, স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে আপনার খিদমতের জন্য পাঠিয়েছেন। কাজেই আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই। অতঃপর এ সকল সম্মানিতা মহিলা আলাইহিন নাস সালাম উনাদের মুবারক খিদমতে কুদরতিভাবে যমীনে তাশরীফ আনেন সারা জাহানের রমণীকুলের সাইয়্যিদাহ, খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, চরিত্র-বৈশিষ্ট্য এবং ছূরত-সীরতের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণভাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিদর্শনসমূহই ফুটে উঠতো। এ কারণে উনার অনন্য একটি উপাধি মুবারক হচ্ছে ‘শাবীহাতু রসূল’। জ্ঞানে-গুণে, কাজে-কর্মে, ত্যাগ-সাধনায়, কষ্ট-সহিষ্ণুতায় এবং মাধুর্যময় চরিত্র মহিমায় তিনি ছিলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মাতা উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের নিকট থেকেই শিক্ষা লাভ করেন।
হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চারজন কন্যা সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠা। কিন্তু মর্যাদার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্যা। সুবহানাল্লাহ!
বদর জিহাদের পর ২য় হিজরী সনে যিলহজ্জ মাসে খুলাফায়ে রাশিদার চতুর্থ খলীফা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার নিকাহ মুবারক অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ নিকাহ মুবারক-এর মোহর ধার্য করেন পাঁচশত দিরহাম অর্থাৎ একশ সোয়া একত্রিশ তোলার রূপার মূল্য। যা মহরে যাহরা বা সুন্নতী মোহর হিসেবে মশহূর।
উনার তিনজন ছেলে সন্তান এবং তিনজন মেয়ে সন্তান ছিলেন। বর্ণিত রয়েছে, ১৫ই শাবান ৩য় হিজরীতে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম বিলাদত শরীফ লাভ করেন। ৪র্থ হিজরী ৫ই শাবান মাসে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম বিলাদত শরীফ লাভ করেন। সম্ভবত ৫ম হিজরীতে হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম, ৬ষ্ঠ হিজরীতে হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, ৭ম হিজরী সনে হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং ৯ম হিজরী সনে হযরত মুহসিন আলাইহিস সালাম বিলাদত শরীফ লাভ করেন। প্রত্যেক সন্তানই আছর নামায পড়ার পরই বিলাদত শরীফ লাভ করেন। অতঃপর মাগরিব থেকে তিনি যথারীতি নামায আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনার এক ওয়াক্ত নামাযও তরক করতে হয়নি। এজন্য উনার একটি উপাধি হলো ত্বাহিরাহ। সুবহানাল্লাহ!
হিজরী ১১ সনে ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। উনার বিছাল শরীফ-এর পরে হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম মাত্র ছয় মাস যমীনে ছিলেন। অতঃপর উক্ত ১১ হিজরী সনের ৩ রমাদ্বান শরীফ পবিত্র সোমবার দিনে বাদ আছর তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। উনার জানাযা নামায পড়ান হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম।
হাদীছ শরীফ-এর কিতাবসমূহে হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার বহু বুযূর্গীর কথা বর্ণিত রয়েছে। একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিশেষ মজলিসে জিজ্ঞেস করলেন, একজন মেয়ের নিকট সবচেয়ে প্রিয় কোন বিষয়টি? জবাবে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, একজন মহিলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে কোনো বেগানা পুরুষকে দেখবেনা এবং কোনো বেগানা পুরুষও যেনো তাকে না দেখে। এ জাওয়াব শুনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ জাওয়াব আপনি কোথা থেকে পেলেন? তিনি বললেন, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তিনি তো আমারই দেহ মুবারক-এর টুকরো বা অংশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, কিয়ামতের দিন জনৈক ঘোষক এই বলে ঘোষণা দিবেন যে, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের মস্তক নিচু করে দৃষ্টি অবনমিত করো। কেননা, এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম এই পথ দিয়ে অতিক্রম করবেন। অতঃপর হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম সত্তর হাজার ডাগর নয়না হুরসহ বিদ্যুৎ গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করবেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি উনার বিছাল শরীফ-এর পূর্বে ওছীয়ত করেছিলেন যে, উনার জানাযা যেন রাতে দেয়া হয়। এই হলো খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তাক্বওয়া ও পরহেযগারীর নমুনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মা-বোনদের সকলকে হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পূর্ণাঙ্গ অনুসারী হওয়ার তাওফীক দান করুন। (আমীন)







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal