অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

সম্পাদকীয় - ১৮ আগস্ট, ২০১২
 
আহলান-সাহলান
সুমহান পহেলা শাওয়াল
মুবারক হো ঈদে বিলাদতে
ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুক্বাহ, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকীয়্যাহ, ত্বহিরাহ, ত্বয়্যিবাহ, নূরে হাবীবা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
আগামীকাল অথবা আগামী পরশু ইনশাআল্লাহ পালিত হবে ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এ ঈদ। ঈদ অর্থ খুশি। কিন্তু প্রচলিত খুশি নিয়েই এ ঈদ নয়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনই একবার দেখা গিয়েছে হযরত উমর বিন খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে জার জার হয়ে কাঁদছেন। অনুনয়-বিনয় করে জানা গেলো, এক মাস সিয়াম সাধনা অথবা ত্রিশ রোজা পালন, তা মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হয়েছে কীনা সে চিন্তায় উনি কান্নাকাটি করছেন। প্রতিভাত হচ্ছে ঈদুল ফিতর শুধু এক মাস রোজা রেখে রোজা ভাঙ্গার আনন্দের দিনই নয়। এর রয়েছে বহুমাত্রিকতা।
নূরুন আলা নূর কথাটি সম্পর্কে সাধারণের ধারণা রয়েছে। অর্থাৎ নূরের উপর নূর। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে ঈদের উপরও ঈদ রয়েছে। আর তা হচ্ছে ঈদে বিলাদতে ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুক্বাহ, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকীয়্যাহ, ত্বহিরাহ, ত্বয়্যিবাহ, নূরে হাবীবা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। মহা-মহিমান্বিত এ দিনটি ঈদুল ফিতরের দিন হওয়ায় তা মূলত ঈদুল ফিতরেরও ঈদ বলে বিবেচ্য।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান- “মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসসমূহকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (সূরা ইব্রাহীম : আয়াত শরীফ ৫)
প্রদত্ত আয়াত শরীফ থেকে প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানসহ কায়িনাতের সকলের জন্যই জানা জরুরী যে, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ উম্মতের তথা কায়িনাতের জন্য বেমেছাল রহমত, ফযীলত, ইতমিনান হাছিল এবং খুশির কারণ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সর্বপ্রথম ওহী নাযিল হয়েছে, ‘পড়’। অর্থাৎ জান। এদেশের পঞ্চাশভাগ লোকই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। কিন্তু তারা জানেনা কেন তারা গরীব? তারা উপলব্ধি করেনা কী কারণে তারা গরীব থাকছে? তাদের অনুভূতি নেই যে, এ গরীবি তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাদের জ্ঞান নেই যে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকার তথা প্রভাবশালীদের লুটপাটের কারণেই তাদের এ দৈন্যদশা।
পাশাপাশি উল্লেখ্য, আমাদের দেশের ৯৭ ভাগ লোক মুসলমান। কিন্তু তারা জানেনা কেন তারা ইসলামী জীবন-যাপন করেনা? কেন ইসলামী জীবন-যাপন করতে তাদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত মানসিকতা নেই? কেন তারা ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম পালনের কুওওয়াত পায়না? কেন তারা খোদায়ী রহমত পায়না? কেন সমাজ জীবনে ইসলামী আবহ নেই? কেন রাষ্ট্রযন্ত্র ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারছে না? কেন রাষ্ট্রযন্ত্র সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক বন্ধে ব্যর্থ হয়ে ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত হতে চলছে?
মূলত তথ্য অতি মূল্যবান হলেও তথ্য সব সময়ই নাগালের মধ্যে থাকেনা। অথবা তথ্য সবাই বুঝতে পারেনা। গ্রহণ করতে পারেনা।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল মুবারক-এর সময় মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন লাখ। আর বিশ্বকোষ মতে, তখন পৃথিবীতে লোক সংখ্যা ছিল ত্রিশ কোটি। অর্থাৎ প্রতি দশ হাজারে মাত্র একজন সত্য তথ্য ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তদ্রƒপ লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কিত তথ্য মুবারক কম লোকই ধারণ করতে পারবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু উনি যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার আখাচ্ছুল খাছ উসীলা তা চূড়ান্ত সত্য। উনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত পাওয়ার চরম মক্ববুল উছীলা তা অনিবার্য সত্য। উনি যে দুনিয়াবী ও উখরবী সমস্যা থেকে নাজাত পাওয়ার এবং কামিয়াবী হাছিলের মহিমান্বিত উসীলা তা অনবদ্য সত্য।
মূলত লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনি দিন দিন বিকশিত হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবিম্বরূপে। অনাগত ভবিষ্যতে উনারাই প্রতিফলিত করবেন, প্রতিষ্ঠিত করবেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার তা’লীম-তরবীয়ত, উনার আমল-আখলাক, উনার আদর্শ-প্রজ্ঞা সবকিছু। (সুবহানাল্লাহ)
লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনি ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। স্বীয় পিতা খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, আওলাদে রসূল, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুরীদদের নাজাত, ক্ষমা ও কামিয়াবীর জন্য উনারা অনুক্ষণ দোয়া করে থাকেন। (সুবহানাল্লাহ)
কাজেই অবাধ তথ্য প্রবাহের এ যুগে আমাদের তথ্য সচেতন হতে হবে যে, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মূল্যায়ন ও স্মরণে এ উম্মাহর রহমত হাছিল হবে। ঈমানী কুওওয়াত নসীব হবে। ইসলাম পালন সহজ হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে রাষ্ট্রযন্ত্র পর্যন্ত সবস্থানে অবর্ণনীয় সুফল হাছিল হবে। কাঙ্খিত কামিয়াবী আসবে। আর তার বিপরীতটি হওয়াই বর্তমানে এত অশান্তি, অরাজকতা বিরাজ করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তোমরা সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে, উনাদের খিদমত করবে।” (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ ২৩)
কাজেই আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন শুধু হযরত শাহযাদীয়ে উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ নয়, বরং গোটা কায়িনাতের জন্য সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম স্বরূপ।
সঙ্গতকারণেই আরো বলতে হয়, ঈদে বিলাদতে শাহযাদীয়ে উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পরিসর কেবল রাজারবাগ শরীফ অথবা রাজারবাগ শরীফ-এর সিলসিলাভুক্ত পরিম-লেই পরিশেষ হবার নয়।
বরং অনিবার্য কারণেই তথা নিজস্ব প্রয়োজনেই গোটা বিশ্বপরিসরেই এর পর্যালোচনা করতে হবে। গোটা বিশ্বব্যাপীই এই সুমহান বিলাদত শরীফ ব্যাপক শান-শওকত ও জওক-শওক তথা যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য এবং সর্বশেষ প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়ে পালন করতে হবে। এবং দিন দিন উত্তরোত্তর এটার ব্যাপকতা বিস্তর বিস্তার ঘটাতে হবে ইনশাআল্লাহ।
মূলত এর উপরই নির্ভর করবে ভক্ত মুরীদ-মুতাক্বিদ, আশিকীন-মুহিব্বীন বিশেষত আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত তথা আন্তর্জাতিক আল বাইয়্যিনাত-এর মূল্যায়ন অথবা অর্জিত সফলতা বা ব্যর্থতা।
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি মহান ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুক্বাহ, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকীয়্যাহ, ত্বহিরাহ, ত্বয়্যিবাহ, নূরে হাবীবা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, নাক্বীবাতুল উমাম, হাদীয়াতুল মাদানী, হাদীয়ে মাদারজাত, কায়িম-মাক্বামে ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, ক্বায়িম-মক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসা ফিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উছীলায় এ ঈদে বিলাদত শরীফ যথাযথভাবে ও পরিপূর্ণ খুলুছিয়াতের সাথে করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal