অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

সম্পাদকীয় - ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
 
কৃষকের মাথায় কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি বোঝা
বীজ, সারসহ জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে চরম সঙ্কটে কৃষক

সব প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম মুবারক।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তথ্য অনুযায়ী গত ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে সেচকাজে ১৫২ কোটি ৯০ লাখ লিটার ডিজেল ব্যবহার করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) হিসেবে শুধু বোরো মৌসুমে ১১০ কোটি লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। সরকার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে দেয়ায় শুধু সেচকাজে কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় হবে অন্তত ১ হাজার ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বোরো উৎপাদনে সেচকাজে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৭৭০ কোটি টাকা, যার খড়গ এখন থেকেই কৃষকের উপর সরাসরি পড়তে শুরু করেছে। সারাদেশে বোরো চাষ শুরু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বোরো চাষের প্রধান সময় হিসেবে গণ্য করেন চাষীরা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ কৃষকের পকেট থেকে কাটা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করে। এতে কৃষকদের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। একইভাবে বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণে দাম বেড়েছে। এতে সার্বিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে চাষীরা কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। লোকসানের কারণে তারা অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন।
এ অবস্থায় সেচকাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে কৃষকরা আরও হতাশ হয়ে পড়ছেন। শুধু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সার্বিকভাবে বোরো উৎপাদনে প্রতি কেজিতে ব্যয় বাড়বে এক টাকা। পরিবহন ব্যয় বাড়বে আরও ৫০ পয়সা। সার্বিকভাবে প্রতি কেজিতে ব্যয় বাড়বে প্রায় ২ টাকা। একইভাবে সেচ নির্ভর অন্যান্য কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, যার দায় সরাসরি কৃষক ও ভোক্তাদের উপর পড়বে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে গত ১৯ মাসে ৫ বার ডিজেলের দাম বেড়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ২০১১ সালের ৫ মে লিটারপ্রতি ২ টাকা বাড়িয়ে ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ৪৬ টাকা, ১৮ সেপ্টেম্বরে ৫ টাকা বেড়ে ৫১ টাকা, ১০ নভেম্বর ৫ টাকা বেড়ে ৫৬ টাকা ও গত ৩০ ডিসেম্বর মধ্য রাতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬১ টাকা করা হয়।
চলতি মৌসুমে সারাদেশে প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া ও কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলা আক্রান্ত হওয়ায় চলতি মৌসুমে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা মোটেই সহজ হবে না।
উল্লেখ্য, প্রতি হেক্টর বোরো জমিতে সাধারণত ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার হয়। সে হিসেবে ৬৮ টাকা লিটার দামে ডিজেলে খরচ হবে ১৩ হাজার ৬০০ টাকা। আর পাম্প মালিককে হেক্টরপ্রতি ভাড়া দিতে হবে আরও দেড় হাজার টাকা। গত বছর (২০১২ সালে) ৫৫ টাকা লিটার দামে ডিজেলে খরচ হয় ১১ হাজার টাকা। এর আগের বছর ২০১২ সালে এ খাতে খরচ ছিল ৮ হাজার টাকা। দুই বছরে হেক্টরপ্রতি সেচ খরচ বেড়েছে ৫ হাজার ৬০০ টাকা।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মৌসুমের শুরুতেই কৃষকের বড় পুঁজির প্রয়োজন পড়বে। এ অতিরিক্ত পুঁজির জন্য কৃষক মহাজনের কাছে জিম্মি হবে। সেচের জন্য কৃষক বিদ্যুৎ পাবে না, আবার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। অথচ মৌসুম শেষে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যও পাবে না। এরকম অবস্থা কৃষক ও ভোক্তাদের জন্য সহনীয় নয়। বোরো মৌসুমের আগে দাম বাড়ানো মোটেও সঠিক হয়নি। বরং এটা হয়েছে কৃষকের গলায় ফাঁস দেয়ার শামিল।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩০টি পাম্প দিয়ে সেচ দেয়া হচ্ছে। এর বেশিরভাগই ডিজেলচালিত পাম্প। ডিজেলচালিত পাম্পের সংখ্যা ১১ লাখ ৯২ হাজার ৬৩০টি। বিদ্যুতে চলে মাত্র ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০টি। অগভীর নলকূপ বিদ্যুতে চলে ১ লাখ ৫০ হাজার। ডিজেলে চলে ১০ লাখ ৭০ হাজার। গভীর নলকূপের মধ্যে ১২ হাজার ডিজেলে এবং ২৬ হাজার বিদ্যুতে চলে। সরকার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া বন্ধ রেখেছে। এর ফলে সেচকাজের জন্য যেসব নতুন পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে তা ডিজেলচালিত। এতে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন চাষীরা। সরকার ডিজেলের দাম বাড়ালেও এখনও ভর্তুকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে ডিজেলসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও চাষীরা কাঙ্খিত ভর্তুকি পাচ্ছেন না। বরং এ বছর ভর্তুকি আরো কমানো হয়েছে।
মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১০০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার পেতেই মূলত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বোরো চাষীরা। প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতেও। ফলে বাড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।
বর্তমান সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দেয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের কৃষকবান্ধব পরিচয় দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু বাস্তবে আজ সরকার কৃষক ও কৃষি-কে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষক কৃষি পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এই কী সরকারের কৃষকবান্ধবের নমুনা? সরকারের উচিত সেচ-সার-বীজসহ কৃষকের সব সমস্যার সমাধান করা।
মূলত সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal