 |
বিদ্যুৎ খাতে চলছে মহা অনিয়ম আর লুটপাট
সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। কুইক রেন্টাল এবং রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে মহাসঙ্কটে দেশের জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাত। বেসরকারি খাতের এসব বিদ্যুকেন্দ্র বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসিকে) গিলে খাচ্ছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভর্তুকি দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুটি দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছে। বিশাল ক্ষতির ভার বইতে গিয়ে দেশের অর্থনীতিও এখন নাজুক অবস্থায়। বর্তমানে ভর্তুকির টাকা জোগান দেয়ার ক্ষমতাও সরকারের নেই। সরকার অস্বাভাবিক হারে ঋণ নেয়ায় ব্যাংকগুলোও পড়েছে সমস্যায়। তেলনির্ভর কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে দিন দিন এই খাতে লোকসানের বোঝা বাড়ছে। তেল-বিদ্যুৎ খাতে সংস্থা দুটি যে লোকসান দেয়, সেটাই রাষ্ট্রের ভর্তুকি। সরকার বিপিসিকে সরাসরি ভর্তুকি দিলেও পিডিবিকে দেয় ঋণ। এই ঋণের টাকায় লোকসান সামাল দিতে গিয়ে পিডিবির এখন দেউলিয়া অবস্থা। বিপিসিরও একই অবস্থা। চারদলীয় জোট সরকারের প্রথম তিন বছরে এই দুই খাতে যেখানে মোট দুই হাজার ৪০১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ভর্তুকি বা লোকসান দিতে হয়েছে, সেখানে চলতি অর্থবছর শেষে বর্তমান মহাজোট সরকারের তিন বছরে এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৩৩ হাজার ৭৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা বিএনপি সরকারের সময়ের চেয়ে ১৪ গুণেরও বেশি। লোকসানের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরেই এই দুই খাতে আরও ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ভর্তুকির ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে তেল বাবদই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। বিদ্যুতের বেহাল দশা কাটাতে বেসরকারি খাতের ভাড়াভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ সরকারের কোনোও পরিকল্পনাই কাজে দিচ্ছে না। পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে বর্তমান মহাজোট সরকারের ৩ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরাসরি বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ১৮৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ভর্তুকির অবশিষ্ট ২২ হাজার ৫৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে জ্বালানি আমদানিতে। আমদানি করা জ্বালানি তেলের অধিকাংশই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ২০০৮ সালে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে গত ২৮ মে ২০ ভাগ সিস্টেম লস বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ৪ হাজার ৩২৯ মেগাওয়াট। পিডিবির এ তথ্য অনুযায়ীই সরকারের সময়ে জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে মাত্র ১৯৯ মেগাওয়াট। এদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির কারণে ধস নেমে এসেছে বিদ্যুৎভিত্তিক শিল্পকারখানায়। সেসঙ্গে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনগণও এখন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বিদ্যুতের দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিক্ষোভ, বিদ্যুৎকেন্দ্র ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধের মতো কার্যক্রম। চারদিকেই বাড়ছে জনঅসন্তোষ। তিন বছর আগে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা সরকারের কাছে হিসাব করে দেখিয়েছে যে, মাত্র ১ হাজার ২শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা খরচ করলে ২ হাজার ৪শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। অথচ রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পেছনে সরকার ৩ হাজার ২শ' কোটি খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে মাত্র ৯শ' মেগাওয়াট। তেলের অভাবে এখনই অনেক ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। অথচ সরকার আবার নতুন ২৭টি ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এগুলোর ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বলছে তেল দিতে পারবে। মূলত: এটা সম্ভব হবে না। বরং এতে করে জনগণের কাঁধে ঋণের বোঝা চাপছে। আমেরিকা, কুয়েত, দুবাই প্রভৃতি দেশের ফেলে দেয়া নষ্ট ৮০ শতাংশ রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দেশে আনা হয়েছে। এগুলো প্রচুর পরিমাণে জ্বালানির অপচয় করছে। মূলত কিছু আমলা, রাজনৈতিক নেতা এবং বিদেশিদের সুবিধা করে দিতেই এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। পিডিবির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে পুরনো ও জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলের কারণে দেশে গত এপ্রিল মাসে ১ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। অথচ সরকার গত সাড়ে তিন বছরে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংস্কারের কোন প্রয়োজন মনে করেনি। বাস্তবতা হলো পিডিবির অধীনে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সংস্কার ও উন্নত যন্ত্রপাতি সংযোজন করে আধুনিকায়ন করা হলে খরচ অনেক কম হতো এবং বিদ্যুৎও আরও বেশি উৎপাদন হতো। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকন্দ্রগুলোকে অনেকটা অকেজো রেখে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সরকার উৎসাহিত করার ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে জনগণকে। হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ ভর্তুকির অর্থ সমন্বয় করার জন্য দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। অপরদিকে জনগণও প্রাইভেট সেক্টরের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। সরকারের এ নীতির পরিবর্তন না হলে সামনে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে এবং ভর্তুকির পরিমাণও বাড়বে। এদিকে বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন ও নাইকো যে পরিমাণ গ্যাসের ক্ষতি করেছে, সে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হলে ২২ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। অথচ সরকার সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া ২ কোটি ৪০ লাখ সিএসএল লাগিয়ে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা লুটপাট করেছে সরকার। বলাবাহুল্য, অর্থমন্ত্রী তথা সরকার না বুঝে হোক অথবা দুর্নীতি করে হোক রাষ্ট্রের ৩৫ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিবে এটা হতে পারে না। কারণ এ টাকা এর দায় শোধ করতে হচ্ছে জনগণকেই। কাজেই জনগণকে সামনে রেখেই এ টাকা সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। মূলতঃ এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
পবিত্র মি’রাজ শরীফসহ ইসলামে তাৎপর্যপূর্ণ অন্য সব দিনগুলোতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াবী হিসেবে ৫১তম বয়স মুবারকে ২৬ রজবুল হারাম রোববার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ২৭ রজব সোমবার শরীফ রাত্রের কিছু সময়ে ক্বাবা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস, ছিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে মুয়াল্লায় মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ মুবারক লাভ করে আবার যমীনে তাশরীফ আনেন। পবিত্র মি’রাজ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল, ফযীলতের মধ্য হতে একটি বিশেষ ফাযায়িল, ফযীলত যা বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। রজবুল হারাম মাসের ফযীলত বেমেছাল। যে ব্যক্তি মি’রাজ শরীফ-এর দিনে রোযা রাখবে তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঁচ বছর রোযা রাখার ফযীলত দান করবেন। এ মাস নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ-এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় যিনি এ মাসের কোনো এক রাতে ইবাদত করবেন তিনি এক বছর রাতের ইবাদতের ছওয়াব পাবে। শবে মি’রাজের রাতে ইবাদত-বন্দেগী, তওবা-ইস্তিগফার ও দোয়া-মুনাজাত করা ও পরের দিন রোযা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশের সরকারের উচিত এদিন উপলক্ষে ছুটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা।
|
|
 |