দেশের খবর - ১৪ এপ্রিল, ২০১২
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার ও পূর্বাঞ্চলের জিএম ইউসুফ আলী মৃধার ৭০ লাখ টাকা নিয়ে ধরা পড়ার ঘটনা তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে তারা জিএম ইউসুফ আলী মৃধাকে অবিলম্বে অপসারণ করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। গতকাল ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাতটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এসব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসুক। এতে যদি মন্ত্রী জড়িত থাকেন, তবে তার বিচার হোক। আর যদি এপিএস ও জিএম নিজেদের বাঁচাতে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেন তবে তাদেরও বিচার হোক।’ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩১ অক্টোবর সিআরবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জিএমকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রীকে ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রীকে আবারও ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, তার নামে চট্টগ্রামে নিয়োগ বাণিজ্য করা হচ্ছে। ২৮ মার্চ সংগ্রাম পরিষদের ১৪ জন প্রতিনিধি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিয়োগে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। এরপর গত ৪ এপ্রিল সিআরবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং পাহাড়তলীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এরপর গত ৯ এপ্রিল রেলসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি আবারও অবহিত করেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে সংগঠনটি ৬ মাস ধরে আন্দোলন করছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমাদের বক্তব্য যদি মন্ত্রণালয় যথাসময়ে আমলে নিতো, তাহলে আজ সমগ্র রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ললাটে লজ্জাকর, কলঙ্ক তিলক পরিধানের দৃশ্য দেশবাসীকে অবলোকন করতে হতো না।’ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৩ হাজার ৪১৯ জন লোকবল নিয়োগের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে দু’থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। যিনি বেশি টাকা দিয়েছেন তিনিই চাকরি পেয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে মন্ত্রী জড়িত আছেন কি না জানি না। তদন্তে এটা বের হবে। তার আগে আমরা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি না। তবে জিএমকে অবিলম্বে অপসারণ করে রিমান্ডে নেওয়া হোক। তাহলে প্রকৃত সত্য বের হবে।’ জিএম ইউসুফ আলী মৃধার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী এস কে বারি খোকন, সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুস সবুর, মোহাম্মদ আলী, রফিক চৌধুরী, কাজী আনোয়ারুল হক, গোলাম মোস্তফা, রেজওয়ানুর রহমান খান।
|