অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১৪ এপ্রিল, ২০১২
 
বৈশাখী হজ্জোতি-বজ্জাতির প্রভাবে মাছ মুরগি সবজির বাজারে আগুন
আল ইহসান ডেস্ক:

হিন্দু ও বৌদ্ধদের ধর্মীয় পূজার দিন হলো পহেলা বৈশাখ। অথচ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যের অজুহাতে এক শ্রেণীর লোক পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে হজ্জোতি-বজ্জাতির ব্যাপক প্রচার-প্রসার করেছে। ফলে ফসলী সনের নতুন বর্ষ আগমনে দ্রব্যমূল্যকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। পহেলা বৈশাখে ইলিশের দাম শুধু বেড়ে যাওয়া নয়, এটি বাড়িয়ে দিয়েছে মাছ-মুরগী সবজির দামও। আর দিশেহারা হয়ে পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষেরা। গতকাল ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা শুক্রবার রাজধানীর কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, মিরপুর ১৩ নম্বর কাঁচা বাজার ও সেনপাড়া কাঁচা বাজার এলাকায় ঘুরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশেষ করে বেড়েছে মাছের দাম। তবে বৈশাখী হজ্জোতিতে মত্ত বিশেষ ক্রেতা শ্রেণীর মনোযোগ আকর্ষণে বিক্রেতারা মাছের বড় আকারের ও বৈচিত্রময় মাছের যোগান দেয়ার চেষ্টা করেছে। বিক্রেতাদের লোলুপ দৃষ্টি বৈশাখী হজ্জোতিতে মত্ত বিশেষ ক্রেতা শ্রেণীর পকেটের দিকে। সাধারণ ক্রেতার কথা বুঝি বিক্রেতারা বেমালুম ভুলে গেছে। ফলে এসব বাজারে প্রতি হালি ইলিশ ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, আইড় ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৩০০ থেকে শিং ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, চিতল ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই মাছ ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাস ১০০-১২০ টাকা এবং তেলাপিয়া মাছ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলশে হুজ্জোতির সাথে সাথে অন্য মাছের দামও বেশি হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাইশটেকীর বাসিন্দা মিজান মুল্লা বলেন, ‘ইলিশ মাছ ছেড়ে অন্য মাছ কিনবো তারও কোনো সুযোগ নেই। সেগুলোর দামেও আগুন লেগেছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামেরও একই অবস্থা।’
এদিকে গোস্তের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের দেশি মুরগি প্রতিটি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরু ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা, খাসি ৪৫০-৪৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়।
শাক-সবজির বাজারে ঝিঙা ৫০ টাকায়, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শিম ৪০টাকা, চিচিঙা ৫০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা লতি ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, কদু (১/১.২৫ কেজি) ৩০-৩৫ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডাটা শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, পাট শাক ১০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি দোকানের আইটেমের মধ্যে নাজির শাইল ৪৫-৪৮ টাকা, মিনিকেট ৪২-৪৫ টাকা, আটাশ চাল ৩৬-৩৭ টাকা, পারি ৩০-৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ১৩৫ টাকা, সুপার তেল ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অন্য আইটেমগুলোর মধ্যে রসুন ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ২০-২২ টাকা, আদা ৭০-৮০ টাকা, মশারী ডাল ৮০-১০০ টাকা, মুগডাল ১১০ টাকা, চিনি ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শান্তিনগর বাজারের ক্ষুব্ধ এক ক্রেতা বললেন, ‘সব কিছুর দাম শুধু বাড়তেই থাকে, কমে না। কিন্তু আমাদের আয় যে বাড়ে না এ নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এগুলোর দাম কমানোর কোনো কার্যকরী উদ্যোগ দেখি না। সবাই নাকি কি সব রাজনীতি ব্যস্ত থাকেন।’
এদিকে কচুক্ষেতের মাছ বিক্রেতা আবদুল হামিদ বলেন, ১লা বৈশাখ উপলক্ষে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম খানিকটা বেশি। বেশি দামে মাছ বিক্রি করায় আমাদের খুচরা বিক্রেতাদের খুব বেশি লাভ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। পাইকাররাই মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মুদি ব্যবসায়ী আজাদ বলেন, আসল লাভতো খায় পাইকাররা। অথচ দোষ সব পড়ে খুচরা বিক্রেতাদের ঘাড়ে। সরকার বড়দের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। খুচরা বিক্রেতারা দুর্বল আর হাতের নাগালে থাকার কারণে ক্রেতারাও আমাদের উপর রাগ ঝাড়ে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal