 |
মিয়ানমারে মুসলিম নিধনের দাঙ্গা : সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের আক্রমণ-হামলা ও মুসলিম হত্যার জের ধরে সৃষ্ট সংঘাতের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক জসিম উদ্দিন এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী কক্সবাজার জেলায় টহল বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে এখানে অবস্থিত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমের আবাস শরণার্থী শিবিরগুলো পুলিশ তাদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে। গত শুক্রবার ও শনিবার মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকান (বর্তমান নাম- রাখাইন) প্রদেশে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলা ও মুসলমান হত্যার জের ধরে সৃষ্ট সংঘাতে অসংখ্য মুসলমান নিহত ও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হলো। এদিকে গত রোববার থেকে রাখাইন রাজ্যে সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ জারি করেছে মিয়ানমার সরকার। এসব ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রামে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং রাখাইনদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রধান মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের ব্যাপারে সজাগ থাকা সত্ত্বেও গত শনিবার গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। পরে অবশ্য তাকে আটক করা হয় বলে জানায় কক্সবাজার পুলিশের উপ-প্রধান উত্তম কুমার। পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমার আরো জানায়, মিয়ানমারের সহিংসতা এপারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ আশঙ্কায় কক্সবাজারে রাখাইন উপাসনালয়গুলোর (প্যাগোডা) নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
|
|
 |