 |
ঘরের মধ্যে কালো বিড়াল পুষলে নিজেরই ক্ষতি হবে -মেনন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঘরের মধ্যে কালো বিড়াল পুষলে নিজেরই ক্ষতি হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করলেন ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন। গতকাল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেট আলোচনা মহাজোটের এই শরীক নেতা এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রেল থেকে কালো বিড়াল এখনো তাড়ানো সম্ভব হয়নি। রেলের মধ্যে এখনো কালো বিড়ালটা রয়েছে। এটাকে তাড়াতে হবে। নাহলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। বিএনপির সমাবেশে ১৫ লাখ লোকে সমাবেশ ঘটানোর ঘোষণা দেয়া হলেও সেখানে বাস্তবে ১৫ হাজার লোক সমবেত হয়েছে বলে জানান রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ১৮ দলের এই সমাবেশে যে লোক হয়েছে তার বেশির ভাগই জামায়াত আর শিবিরের কর্মী। আমার নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় আমি ঐ পথে আসার সময় দেখলাম সবাই গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদীর ছবি নিয়ে বসে আছে। মেনন বলেন, বিরোধী দল আল্টিমেটামের পর আল্টিমেটাম দিয়ে যাবেন কিন্তু আসলে কিছুই হবে না। বিএনপি-জামাত পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তাদের এই চেষ্টা কখনোই সফল হবে না। বিএনপির এই সমাবেশ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা বলেও অভিযোগ করেন মেনন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন যারা রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের সমালোচনা করবে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। আমিও এই সংসদে দাঁড়িয়ে রেন্টাল বিদ্যুতের বিরোধিতা করেছিলাম। এখন আমি উপদেষ্টার ভাষা জ্ঞানপাপি, সরকার বিরোধী নাকি রাষ্ট্রদ্রোহি জানি না। রাশেদ খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হলেই যদি দেশপ্রেমিক হওয়া যেত তাহলে খন্দকার মোস্তাক বড় দেশপ্রেমিক হতেন। দেশপ্রেমিক হতে হলে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হয়। তিনি বলেন, সরকারের উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতা নেই। তাদের লেজ অন্য জায়গায় বাধা। হয়তো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে কিন্তু পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছে। মেনন বলেন, তেল ভিত্তিক এসব রেন্টাল প্ল্যান্ট তেলের অভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তেল কিনতে হলে ডলার সংকট দেখা দেয়। অর্থমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনো সমাধান না, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তিন বছর আগে যেমন ছিল এখনও তেমন আছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উপদেষ্টা নতুন একটা বুদ্ধি এটেছেন। এখন তিনি বেশি দামে বড় লোকদের বিদ্যুৎ দিবেন। এতে সমস্যার কোনো সমাধান হবে না বরং সমস্যা আরো তীব্র হবে। নতুন সমুদ্রসীমা তেল-গ্যাস অনুসন্ধান সম্পর্কে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে নতুন সমুদ্রসীমা জয় করা হয়েছে সেখানে বিদেশী কোম্পানি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করবে। কিন্তু এসব অনুসন্ধান কি কি শর্তের ভিত্তিতে করা হবে তা প্রকাশ করতে হবে। ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জনগণকে তা জানাতে হবে। এরপর জনমত জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থনীতি পদে পদে হোচট খাচ্ছে দাবি করে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রথমদিকে অর্থমন্ত্রী মানুষের মনে বিরাট আশা জুগিয়েছিলেন। একটি-দু’টি বাদে অর্থনীতির সূচক উর্ধ্বমূখী হলেও তা এখন নিম্নমুখী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভ্রান্তনীতির কারণে অর্থনীতিকে ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মনে হয়েছে, অর্থনীতি পরিচালনায় অর্থমন্ত্রী সতর্ক ছিলেন না। তার কথা বার্তায় অনেক সময় অযাচিত সমস্যা সৃষ্টি করেছে। মেনন বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী একসময় কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অন্ধ হলে যেমন প্রলয় বন্ধ থাকে না, তেমনি অর্থমন্ত্রী কথা বলা বন্ধ করায় শেয়ারবাজারের প্রলয় বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শেয়ারবাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা আজো ফিরে আসেনি। শেয়ার কারসাজির নায়করা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। শিশু সন্তানদের অপরহরণ করে হত্যা করা হচ্ছে। সাগর-রুনি খুন হয়েছে। সংবাদিকদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। পুলিশ বিচারকে পেটাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি। পুলিশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষোভও নিরসন করতে হবে। তাদের স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষাখাতে আরো অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, এমপিও ভুক্তি করতে হবে। শিক্ষকদের পেটে ভাত নেই। অন্য জায়গা থেকে টাকা ধার করে এনে শিক্ষকদের টাইম স্কেল দিতে হচ্ছে।
|
|
 |