 |
উত্তরাঞ্চলে ৫ টাকা কেজি শসা!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৪০ টাকার শসা এখন মাত্র পাঁচ টাকায় নেমেছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে শসার বাজারে এ মন্দাভাব বিরাজ করছে বলে চাষীরা জানান। বাজারে প্রচুর শসার আমদানি হওয়ায় পাইকারি ক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সস্তায় শসা কিনছেন। এ অঞ্চলে যে শসা ৮০০ টাকা মন বিক্রি হতো এবার তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা এসে সিন্ডিকেট করায় উত্তরাঞ্চলে শসা চাষীরা দাম পাচ্ছেন না। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চাষীরা হাটে বাজারে ব্যাপারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে পানির দামে শসা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের খরচ উঠছে না। শসার ফলন ভালো হলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এতে শসা চাষীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। তারা আগামী দিনে শসার চাষ থেকে বিরত থাকার কথা ভাবছেন। বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় প্রচুর শসার চাষ হয়। প্রতি বছর ভালো দাম পাওয়ায় এসব এলাকায় কৃষকরা শসা চাষে উৎসাহিত হয়। প্রতি বছর এ সময়ে মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ। ডালে ডালে ঝুলে থাকে শসা। প্রতি হাট বা বাজারে পাইকারী কেজি শসা বিক্রি হয় ১৫টাকা থেকে ২০ টাকা। কিন্তু এবার তার উল্টো। ফলন ভালো হয়েছে কিন্তু ক্রেতা নেই। দূর থেকে যারা কিনতে আসেন তারাও পরিবহণ ব্যয়ের কারণে সস্তা খোঁজেন। ক্রেতা না থাকায় ব্যপারীরাও পেয়ে বসেন। তারা কৃষকদের থেকে সস্তায় কিনে নেন। আর কৃষকরাও ২০ টাকা কেজির শসা বাধ্য হয়ে পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করে দিচ্ছেন। চাষীদের জমিতে হাজার হাজার মন শসা ঝুলে আছে। ক্রেতা নেই। বাজারে নিয়ে এসে সস্তায় বিক্রি করতে হয়। ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মণ শসা বিক্রি হচ্ছে। এতে তাদের লোকসান গুনতে হয়। খুচরা বিক্রি করতে গেলে পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হয়। ফলে লাভতো দূরের কথা আসল টাকা ওঠানো যায় না। সার, তেল কিনে ও সেঁচ দিতে গিয়ে যে পরিমাণ খরচ হয় তার অর্ধেকও শসা বিক্রি থেকে আসে না। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে শসা চাষ হয়েছে। বিপণন ব্যবস্থা একটু শক্তিশালী করতে পারলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতো। |
|
 |