 |
১৭টি ঘটনায় রাজাকার আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ॥ * বিচার শুরুর আদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় আটক সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২এর চেয়ারম্যান বিচরপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবদুল আলীমের অভিযোগ গঠন করে ওপেনিং স্টেটমেন্টের জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে তার জামিনের মেয়াদ পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরের সাক্ষ্য বিষয়ক সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সোমবার সকালে তার বড় ছেলে ফয়সালের বনানীর বাসা থেকে আব্দুল আলীমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার জন্য ট্রাইব্যুনাল আদেশের দিন ধার্য করে দেন। ওই দিন একই সঙ্গে তার জামিনের মেয়াদ ১১ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর আগে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত। পরে আসামি আব্দুল আলীমের আইনজীবী তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে ও মামলা থেকে আলীমকে অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। গত ২৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুণ্ঠন ও আগুন ধরিয়ে দেয়াসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিশেষ শর্তে জামিনে থাকা আলীমের বিরুদ্ধে তিন হাজার ৯০৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এতে সাত ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৮টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে ট্রাইব্যুনালে। সোমবার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত মোট ২৮টি ঘটনার ১৭টি আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ২৭ মার্চ জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে আলীমকে গ্রেফতার করা হয়। ৩১ মার্চ তাকে এক লাখ টাকায় মুচলেকা এবং ছেলে ফয়সাল আলীম ও আইনজীবী তাজুল ইসলামের জিম্মায় জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে শুনানিতে পর্যায়ক্রমে কয়েক দফা এই জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। রাজাকার আ. আলিমকে দেয়া জামিনের অন্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলীমের পাসপোর্ট জমা থাকবে ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধকের কাছে। ছেলে ফয়সাল আলীমের বনানীর বাসায় তাকে থাকতে হবে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়া ঠিকানা বা অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না। গণমাধ্যমে কোনো ধরনের বক্তব্যও দিতে পারবে না আলীম। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী, একাত্তরে নির্যাতিত কেউ, ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবার, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে, ফোনে বা ব্যক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাবে না।
|
|
 |