 |
লাইটার জাহাজ পরিচালনার নতুন উদ্যোগে নৈরাজ্যের আশঙ্কা
আইএনবি:
সিমেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনকারী নিজস্ব কোস্টার ও লাইটার জাহাজ পরিচালনা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের আওতায় নেয়া হচ্ছে। এতে পণ্য ভর্তি ও খালাসে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষতঃ সিমেন্ট কারখানাগুলোর পণ্য পরিবহনে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হবে, যা সার্বিকভাবে কারখানার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এমনকি বন্ধ হয়েও যেতে পারে আশঙ্কা মালিকদের। নৌযান মালিকদের দু’টি সংগঠন বাংলাদেশ কোস্টার ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং কোস্টার-শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে সংগঠন দুটির ছোট-বড় জাহাজগুলো ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (ডব্লিউটিসি)’র মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এদিকে কারখানাগুলোর পণ্য তাদের নিজস্ব লাইটার জাহাজের মাধ্যমে নৌপথে বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়মে নৌপথে পণ্য পরিবহন হলেও গত ২ জুন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন কারখানা মালিকদের নোটিশ জারি করে তাদের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সংগঠনের সভাপতি মাহবুবু উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে কারখানার আওতাধীন বিভিন্ন লাইটার জাহাজকে ১৮ জুনের মধ্যে ডব্লিউটিসি’র ক্রম তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। কারখানা মালিকানাধীন লাইটার জাহাজকে ডব্লিউটিসি’র ক্রম তালিকাভুক্ত করার নোটিশ জারির বিষয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জাহাজ মালিকরা ডব্লিউটিসি’র এ ধরনের পদক্ষেপকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, এ সংগঠনটির এরকম কার্যক্রমের কোনও বৈধতা নেই। তাদের কোনও রেজিস্ট্রেশনও নেই। জাহাজ মালিকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রতি মেট্রিক টন মাল পরিবহনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ পড়লেও ডব্লিউটিসি এতে ৪৮৮ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ডব্লিউটিসি একতরফাভাবে ভাড়া নির্ধারণ করতে পারে না বলেও মত দেন তারা। জাহাজ মালিকরা বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সদস্য। জাহাজ সিরিয়াল করে চলাচলের বিষয়ে আইএমও অনুমোদন করে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা আমাদের পণ্য যত তাড়াতাড়ি মাদার ভেসেলে তুলে দিতে পারি ততই ভালো কিংবা যত তাড়াতাড়ি খালাস করতে পারি ততই আমাদের লাভ। কিন্তু পণ্য পরিবহনে দেরি হলে খরচ বাড়বে যার প্রভাব সরাসরি দামের উপর পড়বে।” তিনি বলেন, আমাদের জোর করে কেন ডব্লিউটিসিতে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে সেটা বুঝতে পারছিনা। এটা তো আইনসঙ্গত নয়। আমরা তো তাদের ডিস্টার্ব করি না। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সোমবার বৈঠকে বসবে বলে জানান মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আলমগীর কবির বলেন, “ডব্লিউটিসির এরকম পদক্ষেপে আমাদের ‘সময় ও অর্থ’ দুটোই অপচয় হবে। তাদের এরকম নোটিশ জারির কোনও বৈধ অধিকার নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পাবলিক শেয়ার নিয়ে ব্যবসা করি, শেয়ার হোল্ডারদের জবাবদিহি করতে হয়।” এ প্রসঙ্গে ডব্লিউটিসি’র আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন মিঠু বলেন, “আমরা তো তাদের ডব্লিউটিসিতে আসার জন্য চাপ দিচ্ছিনা। আমরা অনুরোধ করেছি, তারা না আসলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” তিনি বলেন, “স্বচ্ছতার স্বার্থে জাহাজ পরিবহন ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি। এ উদ্যোগ যদি তারা না মানেন তাহলে আমাদের পক্ষে জাহাজ চালানো বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় নেই।”
|
|
 |