 |
৩০ বছর পর বিজিএমসি’র জুট মিল লাভ করেছে -পাটমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমসি) জুট মিলগুলো দীর্ঘ ৩০ বছর পর লাভ করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে পাটমন্ত্রী একথা বলেন। লতিফ সিদ্দিকী জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিজেএমসি’র জুটমিলগুলো ২০১০-১১ অর্থ-বছরে ১৯ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর আওতায় সরকারি তহবিল থেকে ১০৫ কোটি টাকা অর্থায়নের মাধ্যমে বন্ধ থাকা পিপলস জুট মিল খালিশপুর জুট মিল নামে এবং কওমী জুট মিল জাতীয় জুট মিল নামে চালু করা হয়েছে। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, বিজিএমসি’র অধীনস্থ জুট মিলগুলো থেকে চলতি অর্থ বছরে এক লাখ তিন হাজার ১৯১ মেট্রিকটন পাটজাত পণ্য বিদেশে রফতানি করে ৮৫৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে। পাটমন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি’র পাটজাত পণ্য ভারত, মধ্য-প্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ, কানাড়া, আমেরিকা, ইরানসহ বিশ্বের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ দেশে রফতানি করা হয়। নাছিমুল আলম চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে লতিফ সিদ্দিকী জানান, পাটের চাহিদা বৃদ্ধিসহ পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পাটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় পাটনীতি-২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। যা চলতি বছরের ৩ এপ্রিল গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। শাম্মী আক্তারের এক প্রশ্নে উত্তরে পাটমন্ত্রী জানান, বিজিএমসি’র আওতাধিন বিরাষ্ট্রিয় ৩৮টি পাট কলের মধ্যে ২৫টি জুটমিল চলতি বছরে ৮১ হাজার ৪৮০ দশমিক ২১ মেট্রিক টন উৎপাদন করেছে। চারটি জুটমিল লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নয়টি জুটমিল বন্ধ রয়েছে। ফজলুল আজিমের এক প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্রমন্ত্রী জানান, দেশের পোশাক শিল্পের চাহিদা পূরণে বস্ত্রনীতি-২০১১ প্রণয়নাধীন রয়েছে। নীতিমালায় তুলা আমদানি হ্রাস করতে স্থানীয় ভাবে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার জন্য ইন্ডাসট্রিয়াল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপণের জন্য বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং কারখানাগুলোকে বিভিন্ন জোনে বিভক্তকরণ এবং কেন্দ্রীয় ভাবে ইটিপি স্থাপনের ব্যাপারে সরকার কর্তৃক সুযোগ সুবিধা প্রদান অন্তর্ভূক্ত থাকছে। শফিকুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পাটমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট দুই হাজার ৬৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাজস্ব খাতে এক হাজার ৯০২ জন এবং উন্নয়ন খাতে ১৬৬ জন।
|
|
 |