 |
যৌতুকের মামলায় ঢাবি শিক্ষক কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাফর আহম্মেদ খানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ শিক্ষক গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়ার বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে শাহবাগ পুলিশ। মহানগর হাকিম ইসমাইল হোসেন জামিনের আবেদন শোনার জন্য মঙ্গলবার দিন রেখে জাফরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে জাফরের স্ত্রী রেবেকা পারভীন গত মে ৩০ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক ইসমাইল হোসেন ওইদিন মামলা গ্রহণ করে জাফরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না- সে বিষয়ে আগামী ২৬ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারক। গতকাল হাই কোর্ট এই শিক্ষকের জামিন আবেদন নাকচ করার পর বাদীর আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, জাফর আহম্মেদ দুই বেঞ্চে জামিন চেয়েছিলেন এবং এ বিষয়টি বিচারকদের কাছে গোপন রেখেছেন। এটা অবৈধ। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের পারোয়ানা রয়েছে। এ কারণে বেঞ্চ তার আবেদন খারিজ করেছে। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়েছে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। জাফরের বিরুদ্ধে দায়ের মামলার আরজিতে তার স্ত্রী রেবেকা বলেন, ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে হয়। তাদের মেয়ে পুষ্পিতা আহম্মেদ রোজের বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। আর ছেলে অর্মত আহম্মেদ অমির বয়স ১৪ বছর। আরজিতে বলা হয়, কানাডায় পিএইচডি করার জন্য রেবেকার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন জাফর। কানাডা থেকে ৬ বছর পর দেশে ফিরে ২০০৮ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে জমি কেনার জন্য আরো ২১ লাখ টাকা, সাভারে জমি কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা যৌতুক হিসাবে নেন তিনি। পরে স্ত্রীকে চাপ দিয়ে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে সেই অর্থও জাফর নেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। চলতি বছরের ১৬ মার্চ গাড়ি কেনার জন্য আরো ১৫ লাখ টাকা নেন জাফর। কিন্তু টাকা নিয়েও গাড়ি না কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি রেবেকাকে মারধর করেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
|
|
 |