 |
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অবরোধ
সাভার প্রতিনিধি:
বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সাভারের নরসিংহপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়, ভাংচুর করা হয় প্রায় ২৫টি যানবাহন। পুলিশের পিটুনিতে আহত হন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। সংঘর্ষের ঘটনায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শতাধিক পোশাক কারখানায় গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও প্রতাক্ষদর্শীরা জানান, সাভারের বাংলাবাজার এলাকায় হা-মীম গ্রুপের প্যাকেজিং কারখানা আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেডের শ্রমিকরা রোববার বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কারাখানায় কর্মবিরতি পালন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো আশ্বাস না পেয়ে গতকাল সকালে তারা নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে আশেপাশের অন্য কারখানাগুলো থেকেও শ্রমিকরা বিক্ষোভে যোগ দিলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় একে একে বিভিন্ন কারখানায় ছিুটি ঘোষণা করা হয়। আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিকরা প্রায় ২০-২৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। ঢিল ছুড়ে শারমিন গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানার কাঁচও ভাঙ্গে তারা। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মীর ফুসিয়ার রহমান বলেন, নরসিংহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শ্রমিকরা। পুলিশের কয়েক দফা লাঠিপেটার পর বেলা ১টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পথচারী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয় বলে ফুসিয়ার রহমান জানান। তিনি বলেন, সংঘর্ষের কারণে নরসিংহপুর, জামগড়া, বাইপাইল, জিরাবো, পুকুরপারসহ আশেপাশের এলাকার অর্ধতশাধিক কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদের মালিকানাধীন আর্টিস্টিক প্যাকেজিং কারখানায় এক কর্মীকে গুমের গুজববে কেন্দ্র করে গত ১২ ও ১৩ মে সভারে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘাত হয়। পুলিশের ধাওয়ায় পালাতে গিয়ে গাড়িচাপায় নিহত হন এক নারী শ্রমিক।
|
|
 |