অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ২৩ জুলাই, ২০১২
 
বিমানের স্বেচ্ছায় অবসরকারীদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ বিমানের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে বাধ্য করা সকল কর্মচারীর ৯৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশে বলাহয় আগামী সাত দিনের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে স্বেচ্ছা-অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে।
আদালত আদেশে বলেন, ১৫ দিননের মধ্যে ওই সব কর্মচারীরা তাদের আবেদন জমা দিবেন, পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে ওই কর্মকর্তাদের যাচাই-বাচাই করবেন এবং পরে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক করার জন্য। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে রিটকারীদের প্রাধান্য দিতেও বলা হয়েছে আদেশে। গতকাল ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রিটের নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন হাইকোর্টের বিচারক ফারাহ মাহবুব ও বিচারক আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত যুগ্মবেঞ্চ। একই সঙ্গে গতকাল সকালে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দিক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাদের তলব করে দেয়া আদালত অবমাননা থেকে কর্মকর্তাদের ক্ষমা করেন আদালত। গত ৯ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ২২ জুলাই সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে বলেছিল।
তাই গতকাল সকালে বাংলাদেশ বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দিক আহমেদ, পরিচালক (প্রশাসন) রাজপতি সরকার, পরিচালক (বিক্রয় ও বিপনন) শাহনেওয়াজ ও ব্যবস্থাপক (আইন শাখা) আজরা নাসরিন রহমান আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ক্ষমা করেন।
চলতি বছরের ৪ মার্চ হাইকোর্টের এক রায়ে বিগত ১/১১-এর সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্বেচ্ছা-অবসর কর্মসূচির নামে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬০৮টি অনুমোদিত শূন্য পদের বিপরীতে নতুন করে নিয়োগ দিতে বলা হয়।
কিন্তু এর বিপরীতে গত ৫ জুলাই বিমান কর্তৃপক্ষ টেলেক্সযোগে কর্মাশিয়াল কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির জন্য এক দাফতরিক নোটিশ দেয়। এ অনুসারে সোমবার ও মঙ্গলবার (০৯ ও ১০ জুলাই) ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ না করার অভিযোগে বিমানের ভিআরএস কর্মসূচির মাধ্যমে চাকরিচ্যুত দুইজন কর্মাশিয়াল কর্মকর্তা গতকাল হাইকোর্টে আদালত অবমাননার বিষয়টি নজরে আনেন।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী আমিনুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাইতাস হিল্লোল রেমা ও ফরিদা ইয়াসমিন।
এর আগেও গত ৪ মার্চ ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমের মাধ্যমে অবসর নেয়া বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নতুন করে নিয়োগ দিতে আদেশ দেন আদালত। জ্যেষ্ঠতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগের চাকরির প্রমাণ ও স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা ভিত্তিতে তাদের এই নিয়োগ দিতেও বলেছিলেন।
অন্য একটি আদেশে বলেন যারা ‘স্বেচ্ছায় অবসর’-এর সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি তাদের জ্যেষ্ঠতাসহ চাকরিতে আবার বহাল করতে হবে ওই সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিমানের বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর আগে আদেশে ‘স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমগ্রহণ কারীদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। আদালতে বিমানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবীরা বলেন, বিমানে বর্তমানে ৬০৮টি শূন্য পদ রয়েছে।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের জুন মাসে বিমানে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম’র জন্য এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তার ভিত্তিতে বিমানেরে এক হাজার ৮৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর নেন।
পরে জোর করে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ‘অবসর’ গ্রহণকারীরা হাইকোর্টে আসেন সবাই। হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে তাদের রিট এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে রুল জারি করে। এ সব রুলের বেশিরভাগই চূড়ান্ত শুনানি শেষ করে আদেশ দেয় আদালত।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal