অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
 
বিদেশী টাকায় নির্মাণ হচ্ছে নিম্নমানের ৬৩ সেতু
আইএনবি:

যৌধ পরামর্শক টিম থাকার পরও লোড টেস্টে ফেল মেরেছে বিদেশী অর্থায়নে দেশে নির্মাণাধীন অর্ধশতাধিক সেতু। অথচ এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক এখনো এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেনি। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, মূলত ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণেই বেশিরভাগ সেতু লোড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এতো বিপুলসংখ্যক সেতুর এ অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাপান, ভারত ও বাংলাদেশ ৩টি দেশের যৌথ পরামর্শক টিম থাকার পরও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সেতুগুলোর লোড টেস্ট ফেল করা রহস্যজনক। অথচ এর বিপরীতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন আরো অর্ধশতাধিক সেতুর একটিও লোড টেস্ট ফেল করেনি। তাছাড়া জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বেশিরভাগ সেতুর নকশা অনুযায়ী দ্বিগুণ ভার বহন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এজন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসহ প্রকল্প পরিচালককে শোকজ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ৫০১ কোটি টাকায় নির্মাণাধীন ৬৩টি সেতুর সবকটিই ওজন ধারণ ক্ষমতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এজন্য দায়ি করা হচ্ছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালককে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ইস্টার্ণ বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এ ভয়াবহ ত্রুটি ধরা পড়ে। দেশজুড়ে ৩০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে নির্মাণাধীন ৬৩টি সেতুর নির্মাণে মারাক ত্রুটি ধরা পড়ার পর এখন তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এজন্য প্রকল্প ব্যয় ঠিক রেখে নকশা পরিবর্তন করে তড়িঘড়ি করে এসব সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ২০০৯ সালের ২ জুলাই একনেক জাইকা ও জিওবির (সরকারের নিজস্ব) অর্থায়নে ৬৯০ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচে ১১৭টি সেতু নির্মাণের জন্য ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের অনুমোদন দেয়। তাতে দশমিক ০১% সুদে জাইকার দেয়া ৫০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩টি সেতু এবং সরকারের নিজস্ব তহবিলে অবশিষ্ট ৫৪টি ব্রিজ ১৮৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাইকার অর্থায়নে সেতুগুলোর দৈর্ঘ্য ৩০ মিটারের বেশি এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের সেতুগুলো ৩০ মিটারের নিচে। এসব সেতুর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত নভেম্বর মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সভা করে। সভায় জানানো হয়, গত অক্টোবর পর্যন্ত জাইকার অর্থায়নের সেতুগুলোর বাস্তব কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং হিসাবের খাতায় সবই শূন্য শতাংশ। সূত্র আরো জানায়, জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর প্রায় শতভাগই লোড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এতে প্রকল্পের কাজ বিঘিœত হয়েছে। এ কারণে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রভমেন্ট প্রজেক্ট পরিচালক সওজ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ওই কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দিলেও মন্ত্রণালয় তা যুক্তিসঙ্গত মনে করছে না। বরং মন্ত্রণালয় মনে করছে প্রকল্প পরিচালকের ওই ব্যাখ্যা নিতান্তই জোড়াতালি ও দায়সারা গোছের। মন্ত্রণালয়ের মতে, মূলত প্রকল্প পরিচালকের কারণেই জায়কার ঋণের টাকায় সেতুগুলোতে এতো বড় ত্রুটি হয়েছে। এজন্য ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে বর্তমানে জাইকার অর্থায়নের সেতুগুলোর নকশা বদল করে এবং কাগজপত্রে একটা গোঁজামিল দেখিয়ে আগের খরচে সেতুগুলোর বাস্তবায়ন কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন সেতুগুলোতে যে ধরনের ভয়াবহ ত্রটি ধরা পগেড়ছে তাতে চলমান সেতু নির্মাণ কার্যক্রমকে নিরাপদ মনে করছে না যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। কারণ এখন যতই বিদ্যমান বাজেট ঠিক রেখে সেতুগুলোর কাজ করা হোক না কেন সংশোধিত বাজেটে ঠিকই খরচ বাড়ানো হবে। এ পরিস্থিতিতে বরং বিদেশী ঋণে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সওজ'র একাধিক সূত্র মতে, একসঙ্গে প্রায় সবগুলো সেতুর লোড টেস্ট ফেল করা রহস্যজনক। কারণ মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই সেতুর নকশা ও লোড টেস্টের হিসাব মেলানো হয়। কিন্তু এতে বড়জোর ৫/৬টি সেতুর লোড টেস্ট ফেল করতে পারে। কিন্তু একযোগে শতভাগ সেতুর লোড টেস্ট ফেল করাটা অস্বাভাবিক। তবে এরকম ঘটনায় দুটি নেতিবাচক দিক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত নির্মাণ কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা সরিয়ে ফেলতে প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মিলে খরচ বাঁচানোর নকশা প্রণয়ন এবং একই সাথে সেতুর পিলারের পুরুত্ব কম ধরাসহ অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে কাটছাঁট করা। আর দ্বিতীয় কারণ হতে পারে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে লোড টেস্ট ফেল দেখিয়ে শুরুতেই নির্মাণ খরচ বাড়িয়ে নেয়ার অপতৎপরতা চালানো। কারণ যেসব সেতু লোড টেস্ট ফেল করেছে সেগুলো কোনোভাবেই আগের খরচে শেষ করা সম্ভব হবে না। এরকম কোনো হিসাব দেয়া হলে সেখানে কাগজ-কলমে কিছু বিষয় ঠিক থাকলেও বাস্তবে কাজ থেকে অদৃশ্য কিছু আইটেম বাদ দেয়ার আশঙ্কা থাকে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal