অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
 
বন্ড-বিলের নিয়ন্ত্রণে ডলার
আইএনবি:

বৈদেশিক মুদ্রা ডলার ক্ষেত্রে বন্ড-বিলের বিপাকে পড়েছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার বিক্রির হাজার হাজার কোটি টাকা আটকা। ডলার বিক্রির বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেয়া হচ্ছে বিল ও বন্ড। এটি সরকারের ঋণ নেয়ার একটি উপাদান। এতে ব্যাংকগুলোর লোকসান বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বিল ও বন্ড বন্ধক রেখেই সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ১শ’ কোটি টাকা এবং সুদী ব্যাংকগুলোর ৯৬৮ কোটি টাকা আটকে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যাংকই তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখতে পারে না। যাকে বলা হয়- নিট ওপেন পজিশন (এনওপি)। নিয়মানুযায়ী কোনো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দিন শেষে ১৫ শতাংশের বেশি হলে তা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হয়। দিন শেষে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে না পারলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হবে।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রির বিপরীতে ব্যাংকগুলো পেয়েছে ৬ মেয়াদি বন্ড। এতে ব্যাংকিং খাতের লোকসান বাড়ছে। কারণ ১ হাজার টাকার তহবিল যোগাড় করতে ব্যাংকগুলোর গড়ে খরচ হয় ১শ' টাকারও বেশি। কিন্তু ৬ মাস মেয়াদি পন্ডের মেয়াদ শেষে ১ হাজার টাকার বিপরীতে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকারও নিচে। এতে ব্যাংকের নিট লোকসান হচ্ছে ৭০ টাকারও বেশি। কারণ ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পায় সুবিধাভোগীদেরও স্থানীয় মুদ্রায় তা দেয়া হয়।
সূত্র আরো জানায়, মূলত দেশে আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানি খরচও কমে গেছে। এতে ডলারের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। কারণ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ। পাশাপাশি এসময়ে আমদানি খাতে খরচ কমেছে ৭ শতাংশ। আমদানি খরচ কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই ডলার থাকায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের এ পর্যন্ত দেশে কর্মরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ৭শ’ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলারের বিপরীতে বন্ড দিচ্ছে। বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে সুবিধাভোগীরা টাকা নিচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই দেশে রেমিট্যান্সের বিপরীতে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশংকা রয়েছে। দেশে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বা রেমিট্যান্স এর বিপরীতে টাকা সরবরাহ করায় মুদ্রা সরবরাহ বাড়ছে বলে জানা গেছে। প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে সুবিধাভোগীরা টাকা নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকগুলোকে ডলারের বিপরীতে বন্ড দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলারের বিক্রির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে টাকা দেয়া হচ্ছে না। টাকার পরিবর্তে বিল ও বন্ড দেয়া হচ্ছে। বিল ও বন্ড হলো সরকারের ঋণ নেয়ার একটি উপাদান। বিল ও বন্ড বন্দক রেখে সরকার ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। এভাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা এবং প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ৯৬৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।
জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখতে পারবে না। একে বলা হয় এনওপি (নিট ওপেন পজিশন)। কোনো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দিন শেষে ১৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হয়। দিন শেষে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে না পারলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা দিতে হয়। দেশে আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ও কমেছে। এতে ডলারের চাহিদাও তুলনামূলক হারে কমে গেছে। কিন্তু রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ। কিন্তু এ সময়ে আমদানি ব্যয় সাত শতাংশ কমেছে। আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই ডলার থাকায় বাজারে ক্রেতা ব্যাংকের সংখ্যা কমে গেছে। এজন্য ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরে গতকাল সোমবার শরীফ পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ৬৬৮ কোটি মার্কিন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal