অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
 
নদীতে বাঁধ : হাজার হাজার একর ইরি-বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির
নিজস্ব সংবাদদাতা:

সোমেশ্বরী নদীর উজানে এবারও বেআইনী ভাবে ৭ টি স্থায়ী বাঁধ নির্মণের ফলে উপজেলার ভাটি এলাকার হাজার হাজার একর রোপনকৃত বোরো ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সদ্য রোপনকৃত হাজার হাজার একর ইরি-বোরো ক্ষেতের বর্তমান হাল দেখে কৃষক এখন শুধুই বুক চাপড়াচ্ছে। আর বেআইনী বাঁধ মালিকগণ অত্যন্ত চড়া দামে চুটিয়ে পানি বিক্রি করছে উজানের কৃষকদের নিকট। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে পানি ব্যবসায়ী অবৈধ বাঁধ মালিকরা। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতী এই দুই উপজেলায় প্রবাহমান এ নদীর পানি বোরো মৌসুমে সেচ দিয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমি আবাদ করা হয়। কিন্তু নদীটির গতিপথে দুই উপজেলায় মোট ৭ টি পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে প্রতিটি বাঁধের উজানের মজুতকৃত পানি ড্রেনের মাধ্যমে নদীর দু পার্শ্বের বিস্তীর্ন এলাকাজুড়ে বোরো আবাদ করে থাকে কৃষকরা। উজান থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বেআইনী বাঁধগুলো হলো 'বালিজুড়ী, তাওয়াকুচা, এবং কাংশা এলাকায় ২ টি, আয়নাপুর, দুপুরিয়া, এবং বাগের ভিটা। এসব বাধের কারনে ভাটি অঞ্চলের বিবিন্ন গ্রামের কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ক্ষেতে চারা রোপনের পর থেকে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একেতো বোরো আবাদ খুবই ব্যয়বহুল তারপর আবার নদীতে বেআইনী বাঁধ দিয়ে মারাত্মক পানি সংকট সৃষ্টি করায় কৃষকরা হয়ে পড়েছে দিশেহারা।
নিয়মানুযায়ী ইরি-বোরো চারা রোপনের পর একটানা ক্ষেতে পানির ধার রেখে ২০/২২দিন পর প্রথম দফা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। সার প্রয়োগের সময় ক্ষেতে ছিপছিপে পানি থাকা জরুরী। অথচ প্রথম দফা সার প্রয়োগের সময় চলে যেতে বসেছে। এ সব এলাকার খাদ্য চাহিদা পুরনের লক্ষ্যে ইরি-বোরোই একমাত্র ফসল। বীজতলা তৈরী থেকে শুরু করে জমিতে শেষ চাষের সময় ৩/৪ প্রকার রাসায়নিক সার দিয়ে চারা রোপন করা পর্যন্ত চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় তাদের হিমসিম খেতে হয়। তার পর ও আশায় বুক বেধে ঋণধার করে এ পর্যন্ত আসার পর পানির চরম সংকট দেখা দেওয়ায় এখানকার কৃষকরা চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য যে, কোন নদীর স্বাভাবিক গতিরোধ করে যে কোন বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনী হলেও ফি-বছর এসব বাঁধ নির্মাণ করে পানি ব্যবসায়ীরা চুটিয়ে পানির ব্যবসা করে আসছে। পানি সংকট তীব্র হলে স্থানীয় প্রশাসন বেআইনী বাঁধ মালিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এ যেন বেআইনী বাঁধ মালিকদের কাছে প্রশাসনের চরম অসহায়ত্বই বটে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal