 |
নওগাঁর কৃষকরা আলু নিয়ে দিশেহারা
নওগাঁ সংবাদদাতা
আলু উৎপাদিত হলেও নওগাঁয় প্রয়োজনীয় হিমাগার স্থাপনে এগিয়ে আসছে না উদ্যোক্তারা। পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাবে প্রায় চার লাখ মে. টন উৎপাদিত আলু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নওগাঁর কৃষক। কারণ হিসেবে বিদ্যুৎব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও ব্যাংক ঋণের জটিলতাকে দায়ী করে থাকেন হিমাগার মালিক ও হিমাগার স্থাপনে ইচ্ছুক সামর্থ্যবানরা। নওগাঁ জেলায় বছরে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চলতি বছরে নওগাঁ জেলায় ২৪ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রকৃত চাষ হয়েছে ২৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে। সমন্বিত রোগবালাই প্রতিরোধে সফলতা লাভ করায় নওগাঁয় এ বছরে ৪ লাখ ৫ হাজার মে. টন আলুর উৎপাদন আশা করছেন। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ আলুর জন্য প্রয়োজনীয় হিমাগার না থাকায় কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করতে না পারায় জমি থেকে আলু তোলার পরই তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এ কারণে আলু তোলার ভরা মৌসুম শুরুর আগেই নওগাঁর বাজারে আলুর দাম অর্ধেকের নিচে নেমে এখনই ২৮ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রয়োজনীয় হিমাগার না থাকায় ভরা মৌসুমে আলুর দাম আরো নিচে নেমে আসবে বলে ধারণা করেছেন আলু উৎপাদনকারী কৃষকরা। হিমাগার পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে প্রধান সমস্যা হয় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সমস্যা। পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে হিমাগারে আলুর পচন রোধ করেতে গিয়ে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থাতেও পচন রোধ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে বারবার আলুর মজুদ নাড়াচাড়া করতে হয় বলে গ্রাহকের মধ্যে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সব ছোট ছোট হিমাগারে শুধু আলু নয়, সব প্রকার ফসল সংরক্ষণের উপযোগী করে প্রতিষ্ঠা করা গেলে একদিকে নওগাঁর উদ্বৃত্ত উৎপাদন যেমন আরো বৃদ্ধি পাবে, তেমন ছোট ছোট এবং কাছাকাছি হিমাগার পাওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হবেন। |
|
 |