 |
রাক্ষুসি পিরানহা বাজারে এই মাছ ছড়িয়ে পড়লে বিলুপ্ত হবে ৭০ প্রজাতির মাছ- মৎস্য বিশেষজ্ঞ
নিজস্ব সংবাদদাতা
| বাজারে ১ কেজি রূপচান্দা মাছের দাম ৪০০-৫০০ টাকা। অথচ থাই রূপচান্দার নামে এসব রাক্ষুসি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায়। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে সরকার এ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারের এ আদেশ এখনো বলবৎ। কিন্তু এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব মাছ বাজারে বিক্রি করছে। বাজারে চায়না রূপচান্দা কিংবা থাই রূপচান্দা মাছ বলে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পিরানহা মাছ কাপ্তাই হ্রদেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা সহজে এবং কম মূল্যে ক্রয় করে এ মাছ হাটহাজারীর বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসেন। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানের মুখে এসব মাছ বিক্রি বন্ধ থাকে। প্রশাসনের অভিযান বন্ধ হলে আবার শুরু হয় বিক্রি। এখন হাটহাজারীর বিভিন্ন বাজারে অবাধে এ মাছ বিক্রি হচ্ছে। হাটহাজারীর বিভিন্ন পুকুরেও এ মাছের চাষ করার খবর পাওয়া গেছে। এ রাক্ষুসি মাছের চাষ বন্ধ না হলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মাছ হালদায় ছড়িয়ে পড়লে হালদার প্রায় ৭০ প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাবে। হাটহাজারী বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আসলে এটা কি মাছ সাধারণ ক্রেতা তা জানেন না। সাধারণ ক্রেতারা এ মাছের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জ্ঞাত না হওয়ায় এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাওয়ায় দেদার কিনে নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ যেহেতু বন্যা প্রবণ এলাকা সেহেতু বন্যার পানিতে এক জায়গার মাছ সহজে অন্য জায়গায় যেতে পরে। এ ক্ষেত্রে এ মাছ যদি মিঠাপানির পুকুর, জলাশয়, নদী, হাওর-বাঁওড়ে প্রবেশ করে তাহলে অন্য প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। আর হালদা নদীতে যদি এ মাছ প্রবেশ করতে পারে তাহলে পোনা মাছ ও ডিমগুলো খেয়ে ফেলবে। তাই অবিলম্বে এ মাছের ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া একান্তই জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। |
|
 |