 |
সম্পাদকীয় - ৩ এপ্রিল, ২০১২
দেশ কী ক্রমশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। জন্মসূত্রে ইহার নাগরিকগণ এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক বলে গণ্য। স্বাধীনতার প্রেক্ষিতে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক স্বাধীনতার সমৃদ্ধি স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাভ করবে- সেটাই একান্ত হক্ব কথা। কিন্তু আজ ক্ষমতার পালাবদলে দেশের নাগরিকগণ যেন দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আজ আমলাতন্ত্রে-প্রশাসনে রাষ্ট্রের প্রতি নির্ভেজাল আনুগত্য বলতে কিছু নেই। আনুগত্যতার ভিত্তি আজ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডার, দখলদারিত্ব ইত্যাদি সব সুযোগ-সুবিধা বণ্টিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ক্যাডারদের মধ্যে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। এই নির্যাতনকে অবশ্য ক্ষমতাসীন দল নির্যাতন বলতে অনিচ্ছুক। তারা এটিকে দেখছেন পূর্ববর্তী সময়ের ক্ষমতাসীন দলের নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে। বলাবাহুল্য, এখন বিরোধীদল এইভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এই নির্যাতনকে তারা রেকর্ডভুক্ত করে রাখছে এবং আগামীতে বিরোধীদল ক্ষমতাসীন হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের তথা ভবিষ্যৎ বিরোধী দলকে তারা দুমড়িয়ে-মুচড়িয়ে এর প্রতিশোধ নিবেন- এই তাদের মনোবৃত্তি। বলতে গেলে ক্ষমতাসীন দলও এই মনোবৃত্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এতে বলতে হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যদি ভবিষ্যতে আবারও ক্ষমতাসীন হয় তবে তারা হবে বর্তমানের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। অপরদিকে বর্তমান বিরোধী দল যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসে তবে তারা হবে নির্মম প্রতিহিংসাপরায়ণ। বলার অপেক্ষা রাখেন, দেশ এক অনিশ্চিত অরাজকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের সাংবিধানিকভাবে দেশের মালিক জনগণ। স্বাধীনতা উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেশের জনগণ দেশ পরিচালনার ভার, আন্দোলনের ভার, নেতৃত্বের ভার রাজনীতিকদের উপর দিয়ে আসছে। রাজনীতিকরা যে কোন্দল করেছে, লুটপাট করেছে তা তারা চেয়ে চেয়ে দেখেছে। তারা প্রতিভাত করেছে যে, দেশটা জনগণের নয়, দেশটা রাজনীতিকদের। কিন্তু এখন চরম মুহূর্তে দেশের যুগসন্ধিক্ষণে দেশের ভার দেশের মালিক জনগণকেই নিতে হবে। শুধু রাজনীতিকদের উপর দায়িত্ব দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। দেশের রাজনীতিকগণ সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে দেশকে আজ আওয়ামী লীগ কর্মী এবং বিএনপি কর্মী এই দুইভাবে বিভক্ত করেছে। দেশের জনগণের আজ দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচার কোন উপায় নেই। দেশের নাগরিক হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার নেই। জনগণকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একেকবার হয় আওয়ামী লীগ নয় বিএনপি সাজতে হচ্ছে। কিন্তু এটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। দেশের জনগণ দেশের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হবেন এমন কথা সংবিধানে কোথাও নেই। কিন্তু বাস্তবে এই কথাই সর্বোত প্রযোজ্য হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশের শীর্ষ চেয়ারে যারা থাকেন, তাদেরকে ওএসডি করা হয় অথবা বান্দরবানের মতো দুর্গম এলাকায় যেতে হয় অথবা বাধ্যতামূলকভাবে বাড়ি চলে যেতে হয়। আবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখনও একই অবস্থা হয়। এই অনুশীলন চলে আসছে নব্বইয়ের দশক থেকে। এর পরিবর্তন দরকার, এর পরিশুদ্ধি দরকার, এর অবসান দরকার। বলাবাহুল্য, একথা শুধু মুখে বললে হবে না। আবার একথা রাজনীতিকরা বলবেন সে আশাও করলে চলবে না। দেশের মালিক জনগণ, জনগণকেই দেশ রক্ষার, দেশ চালনার দায়িত্ব নিতে হবে। পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই জাতিকে ততক্ষণ পর্যন্ত সাহায্য করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই জাতি নিজেরাই নিজেদেরকে সাহায্য না করে।” অতএব, ৯৭ ভাগ মুসলমান অধিবাসী এই জনগোষ্ঠীকে কুরআন শরীফ-এর শিক্ষার আলোকে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশকে দুষ্ট রাজনৈতিকদের কবল হতে উদ্ধারকল্পে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। মূলত এসব দায়িত্ববোধে প্রয়োজন নেক পরামর্শ, নেক ছোহবত তথা খাছ রূহানী সংস্পর্শ ও দোয়া। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ- মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই তা পাওয়া সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
|
|
 |