অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
 
অন্তবর্তী সরকারের তিন বিদেশি মডেল
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে ‘বিদেশি’দের চাপের মুখে অন্তর্বর্তী একটি সরকারের মডেল খুঁজে ফিরছে সরকার। বিদেশি অন্তত তিনটি ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র এ ব্যাপারে সরকারকে তাদের নিজেদের মতো করে পরামর্শ দিয়েছে।
তবে এসব পরামর্শের ভেতর থেকে কোনটি বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে কোনও সমাধানে আসতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কয়েকজন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি মার্চের মধ্যেই বাংলাদেশে আসবে বলে সূত্র জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে যে তিনটি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে। তবে এই দেশগুলোতে অবশ্য এই ধরনের ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ কোনও ব্যবস্থা নেই। চলমান সরকারের অধীনেই সেসব দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, পরে বিজয়ীরা সরকার গঠন করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর তত্ত্বাবধায়ক মডেলে অন্তবর্তী সরকারের জন্য বিরোধীদলের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৬ বছর আগের মতোই এবারও বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রদের এ ব্যাপারে ‘ভাষ্য’ রয়েছে। যা এরইমধ্যে সরকারকে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেইক তার ঢাকা সফরেও তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদলকে সমঝোতার আহ্বান জানান। মূলত: তার এ আহ্বানের মাধ্যমে চলমান সরকারের অধীনে নির্বাচনকে অনেকটাই নাকচ করে দিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান সরকারের আরেকটি বন্ধুদেশের পক্ষ থেকে এক ধরনের অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরেকটি ইউরোপীয় দেশের তরফ থেকেও অন্তবর্তী সরকার গ্রহণের জন্য হাসিনা সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একটি দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার একজন কর্মকর্তা শনিবার বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের মতো নির্দলীয় কোনও সরকারের মডেল আমাদের দেশে নেই। সেখানে দলীয় চলমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়ে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘তবে আমরা বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি ও ভবিষ্যতের বিষয় মাথায় রেখে ভেবেছি যে, এখানে নির্বাচন নিয়ে যেন অশান্তি না হয়।’
ওই কূটনীতিক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় যে নামেই উল্লেখ করা হোক না আমরা বলেছি, একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে দেখতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের বলেছি, প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি মডেল অন্তভুক্ত করা যেতে পারে। যেখানে নির্বাচনকালীন দেশের মন্ত্রিসভা রেখেই নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।’
অন্তবর্তী সরকার প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে অপর একটি দেশের একজন কূটনীতিক বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতি না হলে সাধারণত কোনও দেশে অন্তবর্তী সরকারের প্রয়োজন আমরা দেখি না।’
তিনি বলেন, ‘তবে এখানে যেহেতু বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্বের ও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই যেকোনও উপায়ে একটি ট্রানজিশনাল সরকারের মডেল খুঁজে দেখা যেতে পারে।’
ওই কূটনীতিক বলেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর তরফ থেকে আনুপাতিক প্রতিনিধি নিয়ে একটি সীমিত সদস্যের একটি অন্তবর্তী সরকার হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘তবে যাই হোক না কেন, আমরা চাই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেই বিষয়টির আলোচনা হোক। সংসদের বাইরে কোনও ধরনের আলোচনায় আমাদের দেশ বিশ্বাসী নয়।’
বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন ওই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘এখনও যেহেতু এদেশের সংসদের প্রায় ২ বছর মেয়াদ আছে, তাই সংসদই হতে পারে আলোচনার একটি ভালো স্থান। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতার মধ্যে সামনাসামনি আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
ইউরোপীয় আরেক দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের মন্ত্রিসভা থাকবে তবে ওই সময় সবকিছুই যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। যেখানে কমিশনের হাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তদারকির পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক একটি সূত্র জানায়, অন্তবর্তী সরকারের বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন প্রতিনিধি আগামী মাসে ঢাকা সফরে আসতে চান। তবে তাদের এদেশ সফরে আসার দিনতারিখ নির্ধারন হয়নি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যোগ করা হয়। এরপর থেকে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়ে পরবর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে গত বছর উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।
দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির সাংবিধানিক স্বীকৃতি ১৯৯৬ সালে এলেও ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন একটি সরকারের অধীনে হয় সাধারণ নির্বাচন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধীদলগুলোর আন্দোলনের চাপে অনীহা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান এনে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি।
২০০৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্কটের পর জরুরি অবস্থা জারি এবং সেই সময়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের টানা দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিরোধীদল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে পেতে আন্দোলন করছে, তারা এ দাবিতে আরও কঠোর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal