অনলাইনে নামজারি করতে যা জানতে হবে
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পাঁচ মিশালী
নামজারি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জমির মালিকানা আগের মালিক থেকে নতুন মালিকের নামে সরকারিভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। নামজারি না করালে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ বা জালিয়াতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। নামজারির মাধ্যমে জমির আগের জোতজমা থেকে খারিজ (কর্তন) হয়ে আবেদনকারীর নামে নতুন হোল্ডিং বা জোতের সৃষ্টি হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারির (মিউটেশন) জন্য আবেদন করতে হয়।
তিনটি পদ্ধতিতে অনলাইন নামজারি-
১. জমা ভাগ না করেই নামজারি (যৌথ মালিকানা): ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে যদি কোনো আপোষ বণ্টন না হয়, তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ কায়েম সনদ, জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইনে জমা দিয়ে সবাই মিলে যৌথভাবে নামজারি করা যাবে। এতে করে প্রত্যেকে তার অংশ অনুযায়ী মালিকানা পাবেন।
২. জমা ভাগ করে নামজারি (একক মালিকানা): যদি ওয়ারিশগণ নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নিতে চান, তবে আপোষ বণ্টননামা দলিল করে তা নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। এরপর সেই দলিলের ভিত্তিতে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ অংশে একক মালিকানার নামজারি করতে পারবেন।
৩. স্বয়ংক্রিয় নামজারি (অটোমেটেড সিস্টেম): বর্তমানে দেশের ২১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় নামজারি ব্যবস্থা। এতে করে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সময়ই সমস্ত তথ্য এসিল্যান্ড অফিসে চলে যাবে এবং নতুন মালিকের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে-আবেদন ছাড়াই।
ই-নামজারি কিভাবে আবেদন করতে হয়?
প্রথমে নাগরিকদের ষধহফ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। পূর্বে রেজিস্ট্রেশন থাকলে লগইন করে আবেদনকৃত জমির অবস্থা দেখা যাবে। লগইনের সময় অবশ্যই নিজের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করতে হবে। অন্য কারো মোবাইল নাম্বার দিলে ওটিপি সেই ব্যক্তির কাছে যাবে এবং আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মিউটেশন আবেদন করতে হলে প্রথমে প্রোফাইল আপডেট করতে হবে। এরপর মিউটেশন সিস্টেমে প্রবেশ করে আবেদন ফর্ম পূরণ, ফি পরিশোধ এবং খতিয়ান গ্রহণ করা যাবে। আবেদনকারী মোবাইল ওয়ালেট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ-
১. রেজিস্ট্রেশন ও প্রোফাইল আপডেট। ২. মিউটেশন সিস্টেমে প্রবেশ। ৩. নামজারি আবেদন ফর্ম পূরণ ও প্রয়োজনীয় দলিল সংযুক্তি।
৪. ২০ টাকা কোর্ট ফি এবং ৫০ টাকা নোটিশ ফি পরিশোধ। ৫. ট্র্যাকিং নাম্বার পাওয়ার মাধ্যমে আবেদন অবস্থান পর্যবেক্ষণ। ৬. শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে ১০০ টাকা খতিয়ান ফি ও ১০০০ টাকা রেকর্ড কারেকশন ফি দাখিল।
প্রতি ধাপই নাগরিকরা সহজে অনলাইনে করতে পারবে, এবং সব তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই করা হবে। মূল মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করলে আবেদনকারীর সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং খতিয়ান ডাউনলোড সহজ হবে।
নাগরিকরা স্বাধীনভাবে নিজেই এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন, কোন ভেন্ডর বা দোকানের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। এছাড়াও নাগরিক সেবা কেন্দ্রে বিনা পয়সায় আবেদন করার সুযোগ আছে। এই পদ্ধতি জানা থাকলে জমি মালিকানা সংক্রান্ত ঝামেলা ও আইনগত জটিলতা কমানো সম্ভব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কার্বোহাইড্রেট মানেই কি ক্ষতিকর?
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সৌন্দর্যে মোড়ানো আল-আমান বাহেলা মসজিদ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ডায়াবেটিস থাকলে ইফতার ও সাহরির মাঝে কি খাবেন?
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আধুনিক স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ আল মুস্তফা
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রোযায় জরায়ু ও স্তন ক্যানসার রোগীদের করণীয়
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভিটামিন সি কেন প্রয়োজন?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিড়াল কেন এক পাশে ঘুমায়?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দুই শতাব্দীর সাক্ষী রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারে যেসব পানীয় পানে দূর হবে ক্লান্তি
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি আরব কেন লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












