নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৮)
, ২৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
শাতিম রাজপাল:
পরদিন সকালে (৬ এপ্রিল ১৯২৯ খৃষ্টাব্দ) তারিখে ইলমুদ্দীন ঘর থেকে বের হয়ে বাজারে গিয়ে কামারের দোকান থেকে এক রুপি মূল্যের একটি ছুরি ক্রয় করে নেন! এবং যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করার মাধ্যমে ছুরিটিকে জামার ভিতরে লুকিয়ে ফেলেন! কাঠমিস্ত্রি হওয়ার সুবাদে ছুরি-কাঁচির ব্যাপারে ভালো ধারনা ছিলো ইলমুদ্দীনের। ছুরি কেনার পর থেকেই মনের মধ্যে এক অস্থিরতা অনুভব করতে থাকেন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়। তৎক্ষণাৎ তিনি হাসপাতাল রোডে পৌঁছান! আনারকলি হাসপাতাল রোডে ইশরত পাবলিশিং হাউজ এর সামনেই মালউন রাজপালের পাঠাগার ছিলো! সেখানে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন মালউন রাজপাল এখনো আসেনি। রাজপালকে আদালত কর্তৃক যে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছিলো সেই সিপাহীদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতর দিয়েই তিনি অফিসের সামনে পৌঁছেন।
গাড়ি থেকে নামার সময় গাজী ইলমুদ্দীন রাজপালকে চিনতে পারেন। রাজপাল যখন পাঠাগারে প্রবেশ করে, কুদারনাথ ও ভগতরাম নামে দুজন কর্মচারী উপস্থিত ছিলো। কুদারনাথ বইপত্র গুছিয়ে রাখছিলো এবং ভগতরাম রাজপালের পাশে এসে দাঁড়ায়। ইলমুদ্দীন তখন দরজা ঠেলে সরাসরি ভিতরে প্রবেশ করেন! একজন যুবক দোকানে এসেছে তাই তারা বিশেষ সন্দেহ করেনি। কিন্তু গাজী ইলমুদ্দীন প্রবেশ করামাত্রই আর কালক্ষেপণ না করে জামার ভিতর থেকে ছুরি বের করে রাজপালের বুকে বিদ্ধ করে দেন! ধারালো ছুরির আঘাতে রক্তেরধারা বইতে থাকে। ‘আহ’ শব্দ করার মাধ্যমেই রাজপাল মুখ থুবরে নিচে পড়ে যায়! এদিকে কর্মচারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে তাদের মালিককে খুন করা হয়েছে। গাজী সাহেব পালানোর কোনো চেষ্টা না করায় পুলিশ এসে উনাকে গ্রেফতার করে এবং মিয়ানওয়ালী কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
গাজী ইলমুদ্দীন রাজপালকে হত্যা করেছিলেন একটা নিকৃষ্ট শাতিমে রসূল হিসেবে। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উনার অবমাননাকারীকে শরঈ শাস্তি প্রদান করেছিলেন মাত্র। তাই তিনি নিজের পক্ষে কোন উকিল নিয়োজিত করেননি। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছিলেন ইলমুদ্দীন, সেই ঈমানী চেতনার দাবিতে অনেক মুসলমান আইনজীবী ইলমুদ্দীনের পাশে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাজা ফিরোজ উদ্দীন, ফারাখ হুসাইন এবং তাদের সহযোগিতায় ডা. এ আর খালেদ, মাস্টার সেলিম এবং আরো কয়েকজন সর্বপ্রথম এই মামলার পক্ষে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
১০ এপ্রিল ১৯২৯ তারিখে ইলমুদ্দীনকে প্রথম কোর্টে তোলা হয়। সাধারণত আদালতের কার্যক্রম ধীরগতি সম্পন্ন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে আদালত খুব দ্রুত গতিসম্পন্ন কাজের নমুনা দেখিয়েছিলো।
৯ মে ১৯২৯ তারিখে ইলমুদ্দীনের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়।
তখন ব্যারিস্টার ফারূক হুসাইন মুম্বাই গিয়ে আইনজীবী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর সাথে সাক্ষাত করেন। ইলমুদ্দীনের পক্ষে হাইকোর্টে আপিল করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সেসময় বোম্বেতে (বর্তমান ভারতের মুম্বাই) আইন অনুশীলন করতো। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুধু একজন আইনজীবী ছিলো না সে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদও ছিলো। এখানে একটি ধর্মসংক্রান্ত ইস্যু থাকার কারণেই সে লাহোরের এই মামলার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এরপর হাইকোর্টে ইলমুদ্দীনের জন্য আপিল করে।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আদালতে বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অসম্মান করা এবং জনসাধারণের মধ্যে ধর্মীয় দ্রোহের আগুন উস্কে দেয়া একটি দ-নীয় অপরাধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রকাশক মালউন রাজপালের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আইনের এই নিস্তব্ধতাই ইলমুদ্দীনকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই ইলমুদ্দীনের অপরাধকে ৩০২ ধারায় মার্ডার নির্দেশ না করে ৩০৮ ধারায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- গণ্য করা উচিত। যার শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ- হতে পারে।
কিন্তু জিন্নাহর কোনো যুক্তিই গ্রাহ্য করেনি ব্রিটিশ আদালত। এরপর পরিস্থিতি উল্লেখ করে জিন্নাহ এই বলে আবেদন করেন যে, ইলমুদ্দীন একজন ১৯/২১ বছরের যুবক যিনি নিজের বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি মুহব্বতের কারণে উত্ত্যক্ত হয়েছিলেন। তাই তার মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন অথবা দ্বীপান্তরে বদলানো যেতে পারে। কিন্তু এই আবেদনও আদালতে গৃহীত হয়নি।
যেখানে শাতিম রাজপালের বিচার ছয় বছরেও শেষ করা যায়নি সেখানে মাত্র ছয় মাসে গাজী ইলমুদ্দীনের ফাঁসি কার্যকর করার সমস্ত আয়োজন শেষ করে ফেলেছে। এই হলো যালিম ব্রিটিশদের সুবিচারের নমুনা।
উল্লেখ্য, গাজী ইলমুদ্দীনের আইনজীবীরা উনাকে বার বার অনুরোধ করেছিলেন যে, আপনি এই জবানবন্দি দিন, আপনি তাকে হত্যা করেননি। অথবা এটা বলুন যে, তখন আপনার হিতাহিত জ্ঞান ছিলো না। তাহলে আপনার এই ফাঁসির রায় স্থগিত হয়ে যাবে। তখন তিনি জবাবে বলেছিলেন, আমিতো মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতেই এই শাতিমকে হত্যা করেছি। তাছাড়া আমি দেখতে পাচ্ছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ডাকছেন- হে ইলমুদ্দীন! তুমি আমার কাছে চলে আসো। তাহলে আমি কিভাবে এটা অস্বীকার করতে পারি যে, আমি এই মালউনকে হত্যা করিনি? (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি ত্বহারত-ছমাদয়িাতরে মাক্বাম মুবারক উনাদরে র্বণনা মুবারক
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর পর মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হাদীছ শরীফ لِـىْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জান্নাতী ইমাম, সাইয়্যিদুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহনাওয়াসা আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারক করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত উম্মাহাতুল মু’মনিীন আলাইহন্নিাস সালাম উনাদরে এবং মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত আবনাউ রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে এবং মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত বানাতু রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে বমেছোল তা‘য়াল্লুক্ব-নসিবত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ নির্মাণ
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই বলেছেন উনার মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করার জন্য
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












