নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৩১)
, ২০ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
আব্দুল্লাহ ইবনে ক্বামীয়াহর চরম পরিণতি:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- পবিত্র উহুদ যুদ্ধ থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে কামিয়াহ পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে আসে। এরপর সে তার মেষপালের খোঁজে পাহাড়ের দিকে যায়। কারণ, তার মেষপাল পাহাড়ে চড়তো। সে দেখতে পায়, মেষপাল পাহাড়ের চূড়ায় চড়ছে। সে পাহাড়ের চূড়া বেয়ে উঠে মেষের পাল তাড়িয়ে আনতে গেলে হঠাৎ করে শক্তিশালী একটা ছাগল তাকে শিং দিয়ে প্রচ- জোরে গুঁতা মারে। গুঁতার ধাক্কা সামলাতে না পেরে সে মাটিতে পড়ে যায়। সে আর মাটি থেকে উঠতে সক্ষম হয়নি। ছাগলটি তাকে একের পর এক গুঁতা মারতে থাকে, আর সে গড়াতে গড়াতে নিচে পড়তে থাকে। তার রক্তাক্ত দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে টুকরা টুকরা হয়ে যায়। এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই দুশমন, তার পালিত ছাগলের গুঁতা খেয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে শিহাব যুহরী তার দুনিয়াবী পরিণতি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে পরকালে সে যে কতটা কঠিন আযাব-গযবে পতিত হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না।
আবূ আফাক:
আবূ আফাক। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বনূ আমর বিন আউফ গোত্রের ১২০ বছর বয়সী একজন নিকৃষ্ট বৃদ্ধ কবি। সে ছিলো কাট্টা ইয়াহূদী। সম্মানিত ইসলাম উনার কট্টর দুশমন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরত মুবারক করার পর এই বুড়ো শয়তানের গাত্রদাহ আরম্ভ হয়ে যায়। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করতে শুরু করে। মানুষদেরকে উনার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করতে থাকে। এভাবেই চলছিলো তার দিনকাল।
পবিত্র হিজরত মুবারক উনার দ্বিতীয় বর্ষ। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কুরাইশ মুশরিকদের সাথে সম্মানিত মুসলমান উনাদের প্রথম জিহাদ সংঘটিত হলো বদর প্রান্তরে। মুসলমান উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি বিজয় দান করলেন। অপরদিকে মুশরিকদের ৭০ জন মারা গেলো। যাদের মধ্যে আবূ জাহিলসহ মুশরিকদের বড় বড় নেতারাও ছিলো। সাথে বন্দিও হলো ৭০ জন। মুসলমান উনাদের এরূপ বিজয় দেখে কাট্টা ইয়াহূদী আবূ আফাকের গাত্রদাহ আরো বৃদ্ধি পেলো। সে আর সহ্য করতে না পেরে; হিংসার আতিশয্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরুদ্ধে কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আরো বেশি কুৎসা রটনা করা শুরু করলো। নাঊযুবিল্লাহ!
একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
من لي بهذا الخبيث يعني أبا عفك
‘এই খবীছ তথা আবূ আফাককে কে জাহান্নামে পাঠাতে পারবেন?’ তখন হযরত সালিম বিন উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মান্নত করলেন যে, এই খবীছকে হত্যা করবেন। যিনি বদর, উহুদ, খন্দকসহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সব জিহাদ মুবারকে শরীক ছিলেন। তাছাড়া পবিত্র তাবুক জিহাদে বাহনের অভাবে যেতে না পারায় ক্রন্দনকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। তিনি এই কথার উপর মান্নত করলেন যে-
ان أقتل ابا عفك أو أموت دونه
‘আমি আবূ আফাককে হত্যা করবো অথবা নিজেই শহীদ হয়ে যাবো। ’
এই মান্নত করে তিনি মালউনটার কোনো গাফলতি খুঁজতে লাগলেন। তাকে অবকাশ দিতে থাকলেন।
অতঃপর এক গ্রীষ্মের রাত। গরম খুব তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রচন্ড গরমের কারণে আবূ আফাক তার বাড়ির সামনের আঙিনায় ঘুমাচ্ছিলো। হযরত সালিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিষয়টা জানতে পারলেন। কালবিলম্ব না করে তিনি মালউনটার কাছে ছুটে আসলেন। উনার তলোয়ারের মাথা শাতিমটার কলিজা বরাবর ঢুকিয়ে দিলেন। তলোয়ারের আগা কলিজা ভেদ করে বিছানা পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের চরম শত্রু আবূ আফাক ব্যথায় চিৎকার করে উঠলো। হযরত সালিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে ওখানে রেখেই চলে আসলেন।
মালউনটার চিৎকারের আওয়াজ শুনে তার লোকজন এসে জড়ো হলো। করুণ অবস্থা দেখে সাথে সাথে সবাই তাকে নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করলো। আর সেখানেই মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু নিহত হলো। সুবহানাল্লাহ! তারা তাকে সেখানেই কবর দিলো এবং বলতে লাগলো, কে তাকে হত্যা করেছে? মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যদি আমরা জানতাম কে তাকে হত্যা করেছে, তবে আমরাও তার বিনিময়ে হত্যাকারীকে শহীদ করতাম। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর পর মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হাদীছ শরীফ لِـىْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জান্নাতী ইমাম, সাইয়্যিদুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহনাওয়াসা আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারক করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত উম্মাহাতুল মু’মনিীন আলাইহন্নিাস সালাম উনাদরে এবং মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত আবনাউ রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে এবং মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত বানাতু রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে বমেছোল তা‘য়াল্লুক্ব-নসিবত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ নির্মাণ
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই বলেছেন উনার মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করার জন্য
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৪)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ‘আল মানছূর’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ মুবারক
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












