ইমামুল আইম্মাহ, ইমামুল মুসলিমীন, মুহ্ইউস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাক্বাম মুবারক
, ০৮ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২১ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ উনার মাঝে উক্ত ‘ছুনাইয়্যাত’গুলিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ نَافِعٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَر رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ زُبَيْرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ شَدَّادٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَطَاءٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَطِيَّةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَاصِمٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ اَصْحَابِهٖ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَوْنٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ رَجُلٍ مِّنْ اَصْحَابِهٖ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مُسْلِمِ بْنِ الْاَعْوَرِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ عَامِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ كَانَ يَهْدِىْ لِلنَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
উঁচু সনদের তৃতীয় প্রকার- ‘ছুলাছিয়্যাত’:
সনদের উচ্চতার দিক থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার তৃতীয় প্রকার, যাকে উছূলবিদ মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ‘ছুলাছিয়্যাত’ বলে উল্লেখ করেন। এটা তৃতীয় তবকা বা স্তর। এ প্রকারের পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে তিনজন রাবী (বর্ণনাকারী) রয়েছেন। যেমন ‘উহাদিয়্যাত’ উনার মাঝে একজন রাবী এবং ‘ছুনাইয়্যাত’ উনার মাঝে দুজন রাবী মাধ্যম হন। আর এই তিনটি স্তরের মাঝে ‘উহাদিয়্যাত’ প্রথম স্তরের ‘ছুনাইয়্যাত’ দ্বিতীয় স্তরের এবং ‘ছুলাছিয়্যাত’ তৃতীয় স্তরের। যাতে তাবে-তাবিয়ী থেকে তাবিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম, অতঃপর ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রেওয়ায়েতের সিলসিলা বা ধারাবাহিকতা রয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদের গুরুত্ব:
পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী, রাবী পরম্পরাকে সনদ বলে। (মিযানুল আখবার-০৩)
উল্লেখ্য যে, সনদের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, খলীফাতুল আশির, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র ইলমুল হাদীছ শরীফের জগতে সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ইলিম বা জ্ঞান পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মূল। যার মাধ্যমে রাবীগণের আদালত বা ন্যায়পরায়ণতা, দ্ববত বা মুখস্থ শক্তি, জরাহ-তা’দীল বা দূর্বলতা ও মিথ্যাকে যাচাই বাছাই করা হয়। সাধারণ মানুষের বর্ণিত হাদীছ শরীফ সনদ ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে মু’তাবার ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফ সনদ ব্যতীতই গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য। এমনকি উনাদের বর্ণিত সনদবিহীন হাদীছ শরীফ ক্ষেত্র বিশেষ সাধারণ মানুষের বর্ণিত সনদযুক্ত হাদীছ শরীফ হতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী দলীল। কেননা মু’তাবার ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম হওয়ার প্রধান শর্ত হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত মুবারক। অর্থাৎ, মু’তাবার ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে তাহক্বীক্ব করে করে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে থাকেন। তাই উনাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফে বাহ্যত সনদ পাওয়া না গেলেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যা বলাই বাহুল্য।
সঙ্গতকারণেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ইমামগণ সনদ জ্ঞানের বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এমনকি উহাকে সম্মানিত দ্বীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সে দৃষ্টিকোণ থেকেও ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সর্বশীর্ষে, সর্বউর্ধ্বে। তিনি সকল মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইমাম ও মধ্যমণি।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












