সুন্নত মুবারক তা’লীম
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
, ১৭ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ওযূর দোয়া মুবারক:
بِسْمِ اللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى دِيْنِ الْإِسْلاَمِ. اَلْإِسْلَامُ حَقٌّ وَّالْكُفْرُ بَاطِلٌ. اَلْاِسْلَامُ نُوْرٌ وَّالْكُفْرُ ظُلْمَةٌ.
অর্থ: “মহামহিম আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করে শুরু করছি। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য, যিনি আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর দায়িম-ক্বায়িম রেখেছেন। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম হলো সত্য এবং কুফর হলো মিথ্যা। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম হলো আলো বা হিদায়াত এবং কুফর হলো অন্ধকার বা গোমরাহী। ”
ওযূর পর পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পড়া মুস্তাহাব। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করার পর। (নি¤েœর দোয়া মুবারকটি পাঠ করবেন)
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا الله وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.
তার জন্য সম্মানিত জান্নাত উনার আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
অন্য এক বর্ণনায় পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পড়ার সময় আকাশের দিকে তাকানোর কথাও আছে। তাই সম্ভব হলে এর উপর আমল করাও উত্তম। তাছাড়া আকাশের দিক মানে উপরের দিক। সুতরাং উপরের দিকে তাকিয়ে পড়লেই হবে। এক্ষেত্রে আকাশ দেখা যাওয়া জরুরী নয়। (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
ওযূতে দাড়ি ও আঙ্গুল খিলাল করা সম্মানিত সুন্নত মুবারক:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأَ خَلَّلَ لِحْيَتَهُ وَفَرَّجَ أَصَابِعَهُ مَرَّتَيْنِ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ওযূ করতেন, তখন উনার মহাসম্মানিত নূরুন নিয়ামাহ (দাড়ি) মুবারক খিলাল করতেন এবং উনার সম্মানিত আঙ্গুল মুবারকসমূহ উনাদের ফাঁকসমূহও দু’বার খিলাল করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ৪৩১)
ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ:
১. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা হতে কিছু বের হলে, যথা- বাহ্য, প্রশ্রাব, মনি, মজি, ওদি, পাথরী, বায়ু, কিড়া প্রভৃতি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে।
২. গুহ্যদ্বারে পিচকারী বা অঙ্গুলি প্রবেশ করে বের করতঃ পিচকারী ও অঙ্গুলির অগ্রভাগ ভিজা দেখতে পেলে ওযূ ভঙ্গ হবে।
৩. শরীরের কোনো স্থান হতে রক্ত, পুঁজ, বদ রস প্রভৃতি এ পরিমাণ নির্গত হয় যে, ক্ষতস্থান হতে গড়িয়ে যায়; তাহলে ওযূ ভঙ্গ হবে। আর না গড়ালে ওযূ ভঙ্গ হবে না।
৪. মহিলাদের সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব না হলেও ওযূ ভঙ্গ হবে। হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে এ অবস্থায় গোসলও ফরয হবে।
৫. কর্ণদ্বয়, নাসিকা, নাভিস্থান ও স্তনের বোঁটা ইত্যাদি হতে যন্ত্রণা বা ব্যথার সাথে পানি বের হলে।
৬. কানে পানি প্রবেশ করে সেই পানি পুনরায় পুঁজ সংযোগে বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে।
৭. যে লোক প্রত্যহ শরাব পান করে তার শরীর থেকে অধিক পরিমাণে ঘাম বের হলে।
৮. জোঁকে খাওয়া স্থান হতে যদি রক্ত গড়িয়ে যায়, তবে ওযূ ভঙ্গ হবে।
আর যদি ক্ষতস্থান হতে রক্ত গড়িয়ে না যায় কিন্তু অনুমান করে যে, শরীর হতে যে পরিমাণ রক্ত জোঁকে খেয়েছে, তা শরীরের ক্ষতস্থান থেকে বের হয়ে গড়িয়ে যেতো তবে ওযূ ভঙ্গ হবে। আর মশা-মাছি ও উকুনে রক্ত খেলে ওযূ ভঙ্গ হবে না।
৯. কেউ শরীরে শিঙ্গা লাগালে যদি এ পরিমাণ রক্ত বের হয় যে, যা ক্ষতস্থানের উপর থাকলে গড়িয়ে যেতো, তবে ওযূ ভঙ্গ হবে।
১০. নিদ্রা গেলে। তবে কেউ যদি নামায উনার মধ্যে দাঁড়িয়ে, বসে এবং অনিচ্ছাকৃত রুকূ-সিজদা অবস্থায় ঘুমায়, তাতে ওযূ ভঙ্গ হবে না। কিন্তু মহিলারা অনিচ্ছাকৃত সিজদা উনার মধ্যে ঘুমালেও ওযূ ভঙ্গ হবে।
১১. অজ্ঞান হলে ওযূ ভঙ্গ হবে। অজ্ঞানতার কয়েকটি কারণ কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
ক) কোনো প্রকার নেশার দ্রব্য পান করে এমন বেহুশ হয়, যাতে পুরুষ-মহিলা চিনতে না পারে বা হাটার সময় সরলভাবে চলতে না পারে।
খ) পাগল হলে, কিতাবে পাগলের আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাগল হলে শক্তি বৃদ্ধি হয়, জ্ঞান লোপ পায়।
গ) গাশী নামক এক প্রকার রোগ আছে, তা জন্মিলেও ওযূ ভঙ্গ হবে। এ রোগের বিবরণে লিখিত আছে যে, এ রোগে ক্ষুধা-তৃষ্ণা ইত্যাদি অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় ও চলার শক্তি রহিত হয় এবং স্পর্শ বোধ থাকে না।
১২. নামায উনার মধ্যে যে হাসির কারণে ওযূ ভঙ্গ হয়, তার কয়েকটি ছূরত রয়েছে-
ক) যে নামায উনার মধ্যে রুকূ ও সিজদা আছে, সেই নামায উনার মধ্যে যদি উচ্চ হাস্য করে, তবে ওযূ ও নামায উভয়ই ভঙ্গ হবে। তা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক।
খ) নাবালেগ নামায উনার মধ্যে উচ্চ হাস্য করলে ওযূ ভঙ্গ হবে না, কিন্তু নামায ভঙ্গ হবে।
গ) যদি কেউ নামায উনার মধ্যে মুচকী হাসে, যা নিজে কিংবা অন্য কেউ শুনতে না পায়, শুধুমাত্র দাঁত দেখা যায়, তবে ওযূ ও নামায কোনোটাই ভঙ্গ হবে না।
ঘ) কেউ যদি এমন হাসে যে, নিজে শুনে কিন্তু অন্য কেউ শুনতে পায় না, তবে ওযূ ভঙ্গ হবে না কিন্তু নামায ভঙ্গ হবে।
ঙ) যে নামায উনার মধ্যে রুকূ-সিজদা নেই যেমন, জানাযা ও তিলাওয়াতে সিজদা তাতে উচ্চহাস্য করলে ওযূ ভঙ্গ হবে না।
চ) ইমামের উচ্চহাস্য শুনে মুক্তাদী হাসলে মুক্তাদীর ওযূ ভঙ্গ হবে না। কারণ মুক্তাদির ওই সময়ের হাসি নামায উনার বাইরে হয়েছে, কেননা ইমাম হাসামাত্রই ইমামের নামায ও ওযূ ভঙ্গ হয়ে গিয়েছে। তাই মুক্তাদিরও নামায ভঙ্গ হয়ে গিয়েছে এবং মুক্তাদীর হাসি নামায উনার বাইরে হওয়ার কারণে ওযূ ভঙ্গ হবে না।
১৩. মুখ ভরে বমি করলে। অর্থাৎ পিত্ত, খাদ্য কিংবা জমাট রক্ত মুখ ভরে বমি করলে ওযূ ভঙ্গ হবে। যদি সর্দি, কাশি মস্তক হতে কিংবা পেট হতে এসে বমি হয়, তাতে ওযূ ভঙ্গ হবে না।
১৪. যদি থুথুর সাথে এত পরিমাণ রক্ত বের হয় যে, থুথুর চেয়ে রক্তের ভাগ বেশি হয়, কিংবা সমপরিমাণ হলেও ওযূ ভঙ্গ হবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায আদায় করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব ও দু‘আসমূহ
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দৃষ্টান্ত
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












