৪) পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো খাছ সুন্নত মুবারক ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের উছীলা:
গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
مَنْ مَّسَحَ فِيْهِ عَلٰى رَأْسِ يَتِيْمَ وَاَطْعَمَ جَائِعًا وَسَقٰى شَرْبَةً مِّنْ مَّاءٍ أَطْعَمَهُ اللهُ مِنْ مَّوَائِدِ الْـجَنَّةِ وَسَقَاهُ مِنْ الرَّحِيْقِ السَّلْسَبِيْلِ.
অর্থ : “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি বাকি অংশ পড়ুন...
কিতাবে একটি ওয়াকিয়া বর্ণিত রয়েছে। এক ব্যক্তি ছিল গরিব ও আলিম। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবৎ কোন কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন। তিনি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে ভালো খাওয়ার ফযীলত মুবারক সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিল কাজীদের (বিচারকদের) যুগ। এলাকার কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিল।
গরিব আলিম ব্যক্তি তিনি কাজী ছাহেবের কাছে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার ফযীলত মুবারক উনার কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে ১০ সের আটা, ১০ সের গোশত ও ২ দিরহাম হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে চাইল বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের উছীলা:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُوْمُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوْا فِيْهِ الْيَهُوْدَ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ অর্থাৎ বিপরীত বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
أَوَّلُ يَوْمٍ خَلَقَ اللهُ فِيْهِ الدُّنْيَا وَأَوَّلُ رَحْمَةٍ نَزَلَتْ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَأَوَّلُ مَطَرٍ نَزَلَ فِيْهِ مِنَ السَّمَاءِ.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফে দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার দিনেই আসমান থেকে সর্বপ্রথম রহমত মুবারক নাযিল করেন । আসমান থেকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করেন এই পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার দিনে।”
এজন্য যে ব্যক্ত বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ৩৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اِثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِىْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذٰلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوْا فِيْهِنَّ أَنْفُسَكُمْ ﴿٣٦﴾
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কিতাব উনার মধ্যে আসমান-যমীন সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হচ্ছে হারাম বা সম্মানিত মাস। এটাই সঠিক দ্বীন। তোমরা এই মাসগুলোতে নিজের প্রতি জুলুম করো না।
এই হারাম মাস সমূহ উনাদের যথাযথ সম্মান-ই বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র ছাফা ও পবিত্র মারওয়ায় দাঁড়িয়ে পঠিত দোয়া মুবারক :
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ছাফা ও পবিত্র মারওয়ায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলে নি¤েœাক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত মুবারক করতেন।
اِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ.
অর্থ : নিশ্চয়ই পবিত্র ছাফা ও পবিত্র মারওয়া মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিদর্শন মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র আরাফাত দিবস উনার দোয়া মুবারক:
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَم বাকি অংশ পড়ুন...
ফলমূল নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كُنَّا نُصِيْبُ فِيْ مَغَازِيْنَا الْعَسَلَ وَالْعِنَبَ فَنَأْكُلُهٗ وَلَا نَرْفَعُهٗ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের সময় মধু ও আঙ্গুর ফল লাভ করতাম। আমরা তা খেয়ে নিতাম, কিন্তু জমা রাখতাম না। (বুখারী শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ مَا أَكَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى ا বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন, তা তোমরা আকড়িয়ে ধরো এবং তিনি তোমাদেরকে যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে বিরত থাকো। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: ৭)
বাকি অংশ পড়ুন...
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ফল গ্রহণ (আহার মুবারক) করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত পছন্দ মুবারক করতেন। এমনকি তিনি হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ ফল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক।
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ اِذَا اَثْمَرَ وَاٰتُوْا حَقَّهٗ يَوْمَ حَصَادِهٖ وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ ﴿١٤١﴾
অর্থ: “য বাকি অংশ পড়ুন...
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিভাষিক অর্থে বলা হয়-
مَا نُقِلَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيْرٍ وَعَلَى مَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ أَوْ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ
অর্থ: ‘মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত কথা মুবারক, মহাসম্মানিত কর্ম মুবারক ও মহাসম্মানিত মৌন সম্মতি মুবারক থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে এসেছে’।
কেউ কেউ বলেন-
السُّنَّةُ مَا وَرَ বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র সুন্নত উনার অর্থ ও পরিচয় মুবারক: পবিত্র ‘সুন্নত’ শব্দটি আরবী, একবচন। বহুবচনে السنن (আস-সুনান)। আভিধানিক অর্থ হল, الطريقة والسيرة অর্থাৎ পথ, পন্থা, পদ্ধতি, নিয়ম ইত্যাদি; (লিসানুল আরব ১৩/২২৪-২২৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উক্ত অর্থে সুন্নত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يُرِيْدُ اللهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوْبَ عَلَيْكُمْ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিয়ম-কানুন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা বাকি অংশ পড়ুন...












