নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৭)
, ২২ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উম্মে জামিলের পরিণতি:
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরে অবস্থান মুবারক করছিলেন। আর উনার সাথে ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি তাকে দেখে বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেই বদবখত মহিলা এসেছে। আমার আশংকা হচ্ছে, সে আপনাকে দেখে ফেলবে। ’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
إِنَّهَا لَنْ تَرَانِيْ
‘সে আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না। (সত্যিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে অবস্থান মুবারক করা সত্ত্বেও এই পাপিষ্ঠা মহিলা উনাকে দেখতে পায়নি। ) অতঃপর সে সেখান থেকে চলে যায়। (তাফসীরে কুরতুবী ১০/২৬৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য সে রাস্তায় কাঁটাযুক্ত লাকড়ি ফেলে রাখতো। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কাঁটা বহনকারিণী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ فِيْ قَوْلِهِ {وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ} قَالَ كَانَتْ تَحْمِلُ الشَّوْكَ فَتَطْرَحُهُ عَلَى طَرِيقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَعْقِرَهُ وَأَصْحَابَهُ وَيُقَالُ {حَمَّالَةَ الْحَطَبِ}
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে ‘তার স্ত্রী লাকড়ি বহনকারিণী’ এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, সে (উম্মে জামীল জঙ্গল থেকে) কাঁটা বহন করে সেগুলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্য রাস্তায় ফেলে রাখতো। এ কারণেই তাকে ‘লাকড়ি বহনকারিণী’ বলা হয়েছে। (তাফসীরুত্ব ত্ববারী ২৪/৭১৯)
আর এই পাপিষ্ঠ মহিলা লাকড়ী বহন করা অবস্থায়ই ধ্বংস হয়েছিলো। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্য প্রতিদিনের ন্যায় সে জঙ্গল থেকে কাঁটা ওয়ালা লাকড়ী নিয়ে আসছিলো। পথিমধ্যে সে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে একটি পাথরের উপর বিশ্রাম নেয়ার জন্য বসে পড়ে। (তখন)
فَجَذَبَهَا الْمَلَكُ مِنْ خَلْفِهَا فَأَهْلَكَهَا.
‘অতঃপর একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি পিছন থেকে তার বোঝার রশি টান দিয়ে ধরেন, ফলে সে সেখানেই গলায় ফাঁস লেগে মারা যায়। ’ (তাফসীরে কুরতুবী ২০/২৪০, তাফসীরুল লুবাব ৫৩৬৫ পৃষ্ঠা)
আর এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম শত্রু উম্মে জামীল অনন্তকালের শাস্তির দিকে পাড়ি জমায়।
উতাইবার ভয়াবহ পরিণতি:
উতবাহ এবং উতাইবাহ মালঊন আবূ লাহাবের দুই ছেলে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে বিনতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক হয়েছিলো উতবার সাথে এবং বিনতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক হয়েছিলো উতাইবার সাথে। এটি ছিলো শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আক্বদ মুবারক। উনাদেরকে তাদের গৃহে যেতে হয়নি। সুবহানাল্লাহ!
তার আগেই পবিত্র সূরা ‘মাসাদ শরীফ’ নাযিল হওয়ার পর আবূ লাহাব ও তার স্ত্রীর কারণে উতবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায় এবং উতাইবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায়। অর্থাৎ তারা উভয়ে উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
কিন্তু উতাইবাহ তার পিতা-মাতার কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করে। উতাইবাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে উপস্থিত হয়ে বলে-
كَفَرْتُ بِدِيْنِكَ وَفَارَقْتُ ابْنَتَكَ لَا تُـحِبُّنِـىْ وَلَا اُحِبُّكَ ثُـمَّ سطا عَلَيْهِ فَشَقَّ قَمِيْصَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থাৎ আমি আপনার সম্মানিত দ্বীন উনাকে অস্বীকার করলাম এবং আপনার মহাসম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে গেলাম। আপনি আমাকে মুহব্বত করেন না, আমিও আপনাকে মুহব্বত করি না। নাঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। নাঊযুবিল্লাহ! অতঃপর সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উনার সম্মানিত কোর্তা মুবারক ছিঁড়ে ফেলে। নাঊযুবিল্লাহ! (চলবে)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১২)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১৩)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১১)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {২}
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












