মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (১)
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الَّذِينَ كَفَرُوا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সৃষ্টির সচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী হচ্ছে যারা কাফির।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আনফাল : আয়াত শরীফ ৫৫)
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা। তারা যালিম, ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদী, লা’নতপ্রাপ্ত, গযবপ্রাপ্ত এবং চির জাহান্নামী। তাদের অনুসরণ করা, তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করা, তাদের প্রশংসা করা এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। অনুরূপভাবে তাদের দিবস বা উৎসব পালন করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা কাট্টা হারাম। তাদের প্রতি কঠোর হওয়া ফরয।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছলাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর উনার সঙ্গী-সাথী অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমগণ উনারা কাফিরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। (পবিত্র সূরা ফাতাহ : আয়াত শরীফ ২৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
অর্থ: অবশ্যই আপনি পাবেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ইহুদী এবং মুশরিকদেরকে। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ : আয়াত শরীফ ৮২)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে খাযিন’-এ উল্লেখ রয়েছে,
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَداوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا اللام في قوله لتجدن لام القسم تقديره والله يا رسول الله صلى الله عليه وسلم إنك لتجدن أشد الناس عداوة للذين آمنوا بك وصدقوك اليهود والذين أشركوا ووصف الله شدة عداوة اليهود وصعوبة إجابتهم إلى الحق وجعلهم قرناء المشركين عبدة الأصنام في العداوة للمؤمنين وذلك حسدا منهم للمؤمنين
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক لَتَجِدَنَّ (লাতাজিদান্না) উনার মধ্যে اللام (লাম) হচ্ছেন লামে ক্বসম। এখানে উহ্য বাক্য হচ্ছেন-والله يا رسول الله صلى الله عليه وسلم إنك মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনার প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং আপনার সমস্ত কিছু বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে সত্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন, উনাদের জন্য আপনি অবশ্যই অবশ্যই সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন- (১) ইহুদী এবং (২) মুশরিকদেরকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে ইহুদীদের (ঈমানদার উনাদের প্রতি) চরম শত্রুতা এবং হক্ব বা সত্য গ্রহণের বিমুখতার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মু’মিন উনাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও চরম শত্রুতা করার দিক থেকে ইহুদী এবং মূর্তিপূজারী মুশরিকরা যে সমান সেটি জানিয়ে দিয়েছেন। (তাফসীরে খাযিন ২/৬৮)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে তিনটি দরজা খোলা হয়-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












