ইতিহাস
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতা উনার অনন্য বিচারিক ব্যবস্থা ‘আল হিসবাহ’ উনার ইতিকথা (৩)
, ০৫ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
সমাজ থেকে সকল অবিচার, অনাচার, অপরাধ দূর করে মুসলমানদের মধ্যে নৈতিকতার প্রচার প্রসারের জন্যই সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার সময়ে তৈরী করা হয়েছিলো একটি বিচারিক ব্যবস্থা। যার নাম হলো ‘আল হিসবাহ’। আল হিসবাহ’র দায়িত্বশীলগণকে বলা হতো মুহতাসিব।
মুহতাসিবদের দায়িত্বে একাগ্রতা নিয়ে আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে ইমাম ইবনে কাছির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। একবার আবুল হুসাইন নূরী নামক এক ব্যক্তি একটি নৌযানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন, তাতে শরাব বোঝাই করা অনেকগুলো মাটির পাত্র। নাবিককে জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো কি? এগুলো কার? উত্তরে নাবিক বললো, এগুলো আব্বাসীয় শাসক মুতাযিদের জন্য আমদানি করা শরাব। এ কথা শোনামাত্রই ওই ব্যক্তি নৌযানে উঠে একটি ছাড়া বাকি সব পাত্র নিজ হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন। শেষের পাত্রটি ভাঙার জন্য নাবিকের সাহায্য চাইলেন। ততক্ষনে সেখানে পুলিশ এসে হাজির। উনাকে গ্রেফতার করে মুতাযিদের সামনে উপস্থিত করা হলো।
মুতাযিদ জিজ্ঞাসা করলো, “কে আপনি?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি মুহতাসিব। ” মুতাযিদ জিজ্ঞাসা করলো, “কে আপনাকে মুহতাসিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন?” তিনি বললেন, “যিনি আপনাকে সালতানাত পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছেন!” এ কথা শুনে মুতাযিদ মাথা নিচু করে ফেলে। কিছুক্ষণ পর বাদশাহ মাথা উচু করে জিজ্ঞাসা করে, “এ কাজ আপনি কেন করেছেন?” তিনি বললেন, “আপনার উপর ইহসান করার জন্য। আপনার থেকে অনিষ্ট দূর করার জন্য। ” তা শুনে মুতাযিদ আবারও মাথা নিচু করে ফেলে। কিছুক্ষণ পর আবার মাথা উচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “তাহলে একটি পাত্র বাকি রেখেছেন কেন?” উত্তরে তিনি বললেন, “প্রথমে আমি সব পাত্র ভেঙেছি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক পালনের জন্য। কাউকে পরোয়া করিনি। কিন্তু শেষ পাত্রটি যখন ভাঙতে যাবো তখন আমার মনে একপ্রকার ফখর চলে আসে যে, আব্বাসীয় কোনো শাসকের নিজস্ব কোনো বস্তু ভেঙে আমি মস্ত বড় বাহাদুরি করে ফেলেছি। যার ফলে আমি তা ভাঙিনি। ”
লোকটির এ উত্তর শুনে মুতাযিদ বললো, “তাহলে যান। আমি আপনাকে মুক্ত করে দিলাম। যেসব অন্যায় ও অপরাধে বাধা দিতে চান, বাধা দিন। ” তা শুনে সেই মুহতাসিব বললেন, “এখন থেকে আমি আর কোনো অপরাধে বাধা দেবো না। ” মুতাযিদ বললো, “কেন?” তিনি বললেন, “এর আগে আমি এ কাজ করতাম একমাত্র মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের উদ্দেশ্যে। আর এখন আমি বাধা দেবো মুক্তির শর্ত পূরনের জন্য। ”
মুতাযিদ বললো, “আপনার কোনো প্রয়োজন থাকলে বলতে পারেন। ” তিনি বললেন, “আমার কিছুই প্রয়োজন নেই। শুধু আমাকে এখান থেকে নিরাপদে যেতে দিন। ” তখন উনাকে নিরাপদে যেতে দেয়া হলো। দরবারকক্ষ থেকে বের হয়েই তিনি বাগদাদ ছেড়ে বসরায় চলে আসেন। কেউ উনাকে ব্যবহার করে মুতাযিদের কাছে কিছু চাইতে পারে এ আশঙ্কায় তিনি বসরায় আত্মগোপন করে থাকেন। এরপর মুতাযিদ ইন্তেকাল করলে তিনি পুনরায় আবার বাগদাদে ফিরে আসেন। এই ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, ব্যবস্থা অনুপাতে নিজের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী নম্রতা ও কঠোরতা অবলম্বন করার ক্ষমতা রাখতেন মুহতাসিবগণ। (অসমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












