ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে-‘সূ’দের হাক্বীকত সম্পর্কে (৫৬)
, ৩০ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৬ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ০৩ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১৮ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তার ফলশ্রুতিতে কি হলো!
فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ
মহান আল্লাহ পাক তিনি এদের অন্তরগুলোকে ধ্বংস করে দিলেন। অর্থাৎ অন্তরগুলি মরে গেলো।
অর্থাৎ সেই ফাসিক, ফুজ্জার, গোমরাহ লোকদের ছোহবত ইখতিয়ার করার কারণে আলিম-উলামা, ছূফী-দরবেশ যারা ছিলো এদের অন্তরগুলিও পর্যায়ক্রমে তাদের মতই মরে গেলো।
যার কারণে
وَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ
অর্থাৎ সেই আলিম, ছূফী-দরবেশ, মাওলানা ছাহেবরা হারাম কাজ থেকে আওয়ামুন নাস সাধারণ লোকদেরকে তো বিরত রাখলোই না, বরং নিজেরাও সেটার মথ্যে জড়িত হয়ে গেলো।
তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম; যাঁর প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি যাবূর শরীফ নাযিল করেছেন এবং যার প্রতি ইনজীল শরীফ নাযিল করেছেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাদের যবান মুবারক দিয়ে তাদেরকে লা’নত দেয়ালেন। অর্থাৎ তারা মালউন বা লা’নতগ্রস্ত হয়ে গেলো। নাউযুবিল্লাহ!
ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ.
এটা এই জন্য যে, তারা নাফরমানী করেছে, সীমালঙ্ঘন করেছে তাই। এদেরকে বলা হয়েছিলো তোমরা ভালো থাকো, সাধারন লোকদের ভালো করো, আসমানী কিতাবের কথা বলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কথা বলো, হারাম থেকে ফিরিয়ে রাখো, মিথ্যা বলা থেকে ফিরিয়ে রাখো, হারাম খাওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখ, অসৎ মত অসৎ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখো।
কিন্তু সেটা তারা করলোই না বরং নিজেরাও জড়িত হয়ে গেলো। যার কারণে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমাস সালাম উনাদের যবান মুবারক দিয়ে তাদেরকে লা’নত দেয়ালেন অর্থাৎ তারা লা’নতের উপযুক্ত হয়ে গেলো, মালউন হয়ে গেলো।
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ যখন ইরশাদ মুবারক করতেছিলেন তখন
قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مُتَّكِئًا
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন।
যখন পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করছিলেন তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন। উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেলো। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
فَقَالَ لاَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ حَتَّى تَأْطِرُوهُمْ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا
মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যার হাত মুবারকে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম!
حَتَّى تَأْطِرُوهُمْ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا
তোমরা এই সমস্ত লা’নত থেকে বাঁচতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত যারা হারাম কাজে মশগুল হবে তাদেরকে বাধা না দিবে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাও এই লা’নত থেকে বাঁচতে পারবে না যদি তারা, যারা হারাম কাজ করে, তাদেরকে বাধা না দেয়। ঐ মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তোমরাও লা’নত থেকে বাঁচতে পারবেনা যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা হারাম কাজে বাধা না দিবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












