ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
দুনিয়ার বুরায়ী বা খারাবী (৩৮)
, ১৭ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এখন চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয় এই যে, একটা শরাবখোরের শরীর থেকে শরাবের বাতাস লাগার কারণে একজন খালেছ ওলীআল্লাহ, যিনি ওলীয়ে মাদারযাদ, হাফেজে মাদারযাদ, উনার শরীর থেকে যদি শরাবের গন্ধ বের হতে পারে, তাহলে দুনিয়ার গন্ধ আমাদের শরীর থেকে কতটুকু বের হবে? সেটাই ফিকিরের বিষয়।
অতএব, আমাদের শরীর থেকে দুনিয়ার গন্ধ কতটুকু বের হবে, সেটা আমাদের ফিকির করতে হবে। যেহেতু দুনিয়ার মধ্যে আমরা রয়েছি এবং দুনিয়ায় সংশ্লিষ্ট এবং দুনিয়ার মধ্যে আমরা মশগুল এবং আমাদের অন্তরের মধ্যে দুনিয়ার মুহব্বত রয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের শরীর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত কতটুকু আসতে পারে, এটা ফিকিরের বিষয়। যেহেতু দুনিয়ার একটা তাছীর বা ক্রিয়া রয়েছে।
কাজেই প্রত্যেক ব্যক্তিকেই এই তাছীর এবং ক্রিয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ তার অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দিতে হবে। কারণ মানুষ সাধারণতঃ দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্থ হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন বেহেশ্ত এবং দোযখ সৃষ্টি করেন তখন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন যে, “হে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! দেখেনতো আমার বেহেশ্ত-দোযখ কেমন হয়েছে। ”
উনি দেখে এসে বলেন, মহান আল্লাহ পাক! এত সুন্দর হয়েছে আপনার বেহেশ্ত যে, সমস্ত বান্দারা আপনার বেহেশ্তে যাবে। আর দোযখ এতো কঠিন আযাবের জায়গা, কেউ সেখানে যাবে না। মহান আল্লাহ পাক, কেউ সেখানে যাবে না।
তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমলনামা সৃষ্টি করে বললেন যে, “এক কাজ করুন আমলনামাটা দেখুন কেমন হয়েছে?” হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আমলনামাটা দেখলেন, দেখে বললেন যে, মহান আল্লাহ পাক, আপনার সমস্ত বান্দারাই জাহান্নামে যাবে, আপনার সমস্ত বান্দারাই জাহান্নামে যাবে মহান আল্লাহ পাক, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! আপনি কিছুক্ষণ আগে বললেন, আমার সমস্ত বান্দারা বেহেশ্তে যাবে, আর এখন বলছেন, সব জাহান্নামে যাবে, তার কি কারণ?”
তখন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, মহান আল্লাহ পাক! আমি বেহেশ্তের সুখ-শান্তি ও দোযখের আযাব-গযব দেখে বলেছিলাম। কারণ কেউ চায়না কষ্টে থাকুক, সকলেই চায় সুখ। আমি সুখ দেখে বলেছিলাম, এখন আপনি যখন আমাকে আমলনামা দেখালেন, এখন তো আমার মনে হয়, আপনার কোন বান্দা বেহেশ্তে যেতে পারবে না, সকলেই জাহান্নামে যাবে। কারণ দুনিয়ার মোহে যেহেতু তারা গরক থাকবে, মোহগ্রস্থ থাকবে, দুনিয়ার বিলাসিতা যারা ভোগ করবে, তারা কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না, সকলেই জাহান্নামে যাবে।
কাজেই যারা দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্থ হবে, তাদের তো নাযাতের পথ নেই। আমি তো মহান আল্লাহ পাক সেই জন্যই বলেছি। মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনিই এটাকে নছীহত, ইবরত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার যারা বান্দা, তাদের ইবরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাক্বীক্বত দুনিয়ার মোহে যারা মোহগ্রস্থ থাকবে, তারা তো নাযাত পেতে পারে না। কাজেই তাদের জন্য কঠিন ও দুরূহ নাযাত পাওয়া।
প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নাযাতের জন্য হাক্বীক্বী কোশেশ করতে হবে। অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দেয়ার জন্য তাকে হাক্বীক্বী কোশেশ করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৬)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আদম সন্তানের জন্য তিনটি ব্যতীত কোনটাই তার নিজস্ব মাল নয়-
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালালকে হারাম করা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে র্শিক করার শামিল
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য ও রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সৎ চরিত্রবান হওয়া
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












