ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৩)
, ২০ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৫ খ্রি:, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে জানিয়ে দেয়া হলো, “প্রথমবারে যে সন্তান বা যে ছেলে জন্মগ্রহণ করবে, দ্বিতীয়বার যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করবে তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাহ হবে। আর প্রথমবারের মেয়ে দ্বিতীয়বারের ছেলে। এভাবে তাদের বিবাহ-শাদী হবে। ”
হাবিল এবং কাবিল জন্মগ্রহণ করলেন, তাদের সাথেও একজন করে মেয়ে জন্মগ্রহণ করলেন। এদের নাম পর্যায়ক্রমে, ‘গাযা’ বা ‘লিউযা’ আর ‘আকলিমা’ অথবা ‘ইকলিমা’ বলা হয়েছে কিতাবে। কাবিলের সাথে যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাকে কাবিল বিয়ে করতে চেয়েছিলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার নিষেধ ছিল সে মেয়েকে বিয়ে করা।
আদেশ ছিল হাবিলের সাথে যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তাকে বিবাহ করতে হবে। কিন্তু কাবিল সেটাতে রাজী হচ্ছিলো না। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে জানিয়ে দেয়া হলো, “আপনি এক কাজ করুন! আপনার ছেলেদ্বয়কে বলে দিন, তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার নামে কিছু কুরবানী করে। ”
কি কুরবানী করবে? হাবিল যিনি পশু চরাতেন। মেষ, দুম্বা ইত্যাদি উনার ছিল। উনাকে বলা হলো, “উনার পছন্দনীয় একটা দুম্বা নিয়ে এক নির্দিষ্টস্থানে রেখে আসার জন্য। ” উনি রেখে আসলেন।
আর কাবিল সে ক্ষেত-খামারে কাজ করতো, ফসল ফলাতো। তাকে বলা হলো, “তোমার পছন্দনীয় কিছু ফসল নিয়ে সে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আস। যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেন তাহলে আকাশ থেকে একটা আগুন এসে সেটা জ্বালিয়ে দিবে। যারটা জ্বালিয়ে দেয়া হবে তারটা কবুল করা হবে। সেই কাবিলের সাথে যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তাকে বিয়ে করবে। আর যারটা আগুন জ্বালাবে না সে কাবিলের সাথে যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তাকে বিয়ে করতে পারবেনা। ”
সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি উল্লেখ করেছেন-
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا
“যখন তারা সেই উৎসর্গ অর্থাৎ কুরবানীর বিষয়গুলো অর্থাৎ প্রাণী এবং শস্য রেখে আসলো,
فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ
“হাবিলেরটা কবুল করা হলো। আকাশ থেকে একটা আগুন এসে তার দুম্বাটা জ্বালিয়ে দিল। কিন্তু কাবিলের যে শস্য বা ফল-ফসল ছিল সেটাকে আগুন জ্বালালো না। যার কারণে দেখা গেল, ব্যাপারটা হাবিলের পক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে রায় এসে গেল।
কিন্তু এরপরও কাবিল সেটা মানতে নারাজ। সে গোস্বা হয়ে বললো-
قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ
“হাবিল! আমি তোমাকে হত্যা করবো। ” সেটা কাবিল ঘোষণা করলো। তার জবাবে হাবিল অনেক কিছুই বলেছে।
প্রথম যা বলেছে সেটা হচ্ছে-
قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেন, যারা মুত্তাক্বী উনাদের কুরবানীর বিষয়গুলো। অর্থাৎ প্রাণী বা শস্য যা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য করে। অর্থাৎ যারা তাক্বওয়া হাছিল করেছে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে। সেটা শুনে কাবিল আরো উত্তেজিত হলো। সে তাকে হত্যা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিলো।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৩)
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বক্ষেত্রে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়াই ঈমানদারের পরিচয়
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (২)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে মুসলমান যে বিজাতীয় সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, তাদের সাথেই তার হাশর নশর হবে
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












