ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৯)
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এটা মহান আল্লাহ পাক তিনি পার্থক্য করে দিয়েছেন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে এবং এর পূর্বে আরো কিছু আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে। সেটা অন্যান্য আমল-আখলাক সম্পর্কেও উনাদেরকে পার্থক্য করে দেয়া হয়েছে। উনাদের ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি উল্লেখ করেন, إِنِ اتَّقَيْتُنَّ যদি আপনারা পরহেযগারী ইখতিয়ার করে থাকেন, বা পরহেযগার হয়ে থাকেন তাহলে পরহেযগার কাকে বলে, তাক্বওয়া কাকে বলে?
হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কতটুকু পরহেযগারী, কতটুকু তাক্বওয়া অবলম্বন করেছেন?
উনাদের তাক্বওয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
“হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মত ভয় করো। ইন্তিকাল করোনা খালিছ মুসলমান না হয়ে। ”
মুফাস্সিরীনে কিরাম বলেন, যখন আয়াত শরীফ নাযিল হয়ে গেল তখন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বললেন, “হে ঈমানদারগণ, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মত ভয় করো। ইন্তিকাল করোনা খালিছ মুসলমান না হয়ে। ”
তখন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সত্যিই খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মত ভয় করো। ”
حَقَّ تُقَاتِهِ এখন মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মতো ভয়, সেটা কতটুকু, তার মেছদাক কি, তার কি নমুনা, তার কি স্তর, তার অবস্থা কি?
সে চিন্তায় হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুবই চিন্তিত হয়ে গেলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর হাক্বীক্বত কি, আমরা কতটুকু মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবো?”
মহান আল্লাহ পাক তিনি পরবর্তীতে আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো তোমাদের সামর্থ অনুযায়ী, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা অনুযায়ী। ”
পবিত্র আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয়ে গেল। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জানিয়ে দিলেন। উনারা জেনে ইতমিনান হলেন যে, প্রত্যেকেই উনার সামর্থ অনুযায়ী, সাধ্য অনুযায়ী ভয় করবে।
সেজন্য হাদীছ শরীফে এসেছে, “প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসা করা হবে তার আক্বল অনুযায়ী। আল্লাহ্ভীতি সে কতটুকু অর্জন করবে? তা তার সাধ্য এবং সামর্থ অনুযায়ী। এর চেয়ে বেশীও নয়, কমও নয়। ” মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা স্পষ্ট করে দিলেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












