জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) বিছাল শরীফ: ৪৩ হিজরী (৬৬৩ খৃ:)
, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
জিহাদে অংশগ্রহণ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সর্বপ্রথম খন্দকের জিহাদে অংশ গ্রহণ করেন। খন্দকের জিহাদের পরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সকল জিহাদেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফ ও জাবিয়া বিজয়ে তিনি অন্যতম অংশীদার ছিলেন। তিনি নিহাওয়ান্দ বিজয়েও অংশগ্রহণ করেছিলেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
ইমামুল আউওয়াল, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো, তিনি সেসব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
পরবর্তী জীবন:
কোন কোন বর্ণনা মতে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফ সফরকালে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সফর-সঙ্গী ছিলেন।
বিদ্রোহীরা যখন খলীফা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে গৃহে অবরুদ্ধ করে শহীদ করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে তখন সেই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে তিনি একদিন সাইয়্যিদুনা যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত করে বলেন; আমরা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। এখন এভাবে আপনার ঘরে বসে থাকা ঠিক হবে না। বাইরে গিয়ে সমবেত জনতাকে বিক্ষিপ্ত করে দিন। এ কথা বলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজেই জনতার সামনে এসে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। ভাষণটির সারাংশ নিম্নরূপ-
“ওহে জনমন্ডলী! জাহিলী আমলে আমার নাম ছিলো আল-হুসাইন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার নাম দেন আবদুল্লাহ। পবিত্র কুরআন শরীফের এই আয়াত শরীফগুলি আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে-
(এই কথা বলে তিনি নিম্নোক্ত আয়াত শরীফগুলো তিলাওয়াত করেন।)
وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِى إسْرَاءِيْلَ عَلَى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ
(আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী উনার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আর তোমরা অহঙ্কার করছো)। (পবিত্র সূরা আহক্বাফ শরীফ-১০)
وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ
(কাফিরেরা বলে, আপনি রসূল নন। আপনি বলে দিন; আমার ও তোমাদের মধ্যে প্রকৃষ্ট সাক্ষী হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক এবং ঐ ব্যক্তি, যার নিকট [আসমানী] কিতাবের জ্ঞান আছে।) (পবিত্র সূরা রা‘দ-৪৩)
মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারি এখনও কোষবদ্ধ আছে এবং আপনাদের এই শহর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হিজরত মুবারক স্থলকে ফেরেশতারা উনাদের আবাসভূমি বানিয়ে রেখেছেন। অতএব তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। উনাকে (হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে) শহীদ করার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকো। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যদি তোমরা উনাকে শহীদ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো, তাহলে এখন পর্যন্ত যে তরবারি কোষবদ্ধ আছে তা বের হয়ে পড়বে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা আর কোষবদ্ধ হবে না।” (উসুদুল গাবা)
অন্য এক বর্ণনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হযরত উছমান আলাইহিস সালাম যখন অবরুদ্ধ তখন আমি একদিন উনাকে সালাম জানাতে গেলাম। আমি উনার গৃহে প্রবেশ করতেই তিনি বললেন, আমার ভাই স্বাগতম! গত রাতে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই জানালা দিয়ে দেখেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, উছমান! আপনাকে তারা অবরুদ্ধ করে রেখেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি আরো বললেন, আপনাকে তারা তৃষ্ণার্ত রেখেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারপর তিনি আমাকে একটি পানিভর্তি পেয়ালা দিলেন। আমি তৃপ্তিসহকারে পান করে পিপাসা নিবারণ করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আপনি চাইলে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারেন, এতে আপনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন। আর যদি ইচ্ছা করেন তাহলে আগামীকাল আমার সাথে জুমুয়ার নামায আদায় করতে পারেন এবং ইফতার করতে পারেন। আমি উনার সাথে ইফতার করাকে বেছে নিলাম। তিনি সেদিনই শহীদ হলেন। (হায়াতুছ ছাহাবা)
(অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে তিনটি দরজা খোলা হয়-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












