বিবিসির প্রতিবেদন: গাজা যুদ্ধে শিশুরা আহত, ক্ষুধার্ত ও একা
, ২১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৫ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৯ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
গাজা যুদ্ধে জন্ম নেওয়া এক মাস বয়সী শিশু শুয়ে আছে ইনকিউবেটরে। জন্মের পর বাবা-মায়ের আলিঙ্গন পায়নি সে, জায়গা হয়েছে ইনকিউবেটরে। শিশুটির মা হান্না দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরায়েলি বোমার আঘাতে শহীদ হয়েছেন। মৃত্যুর আগে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাশিশুর জন্ম দিলেও, মেয়ের নাম রাখার জন্য বাঁচতে পারেনি।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহের আল-আকসা হাসপাতালে ছোট্ট নবজাতকের যতœ নিচ্ছেন নার্স ওয়ার্দা আল-আওদা। হাসপাতালে শিশুটিকে সবাই হান্না আবু আমশার মেয়ে বলে চেনে।
স্থানীয় এক নার্স জানান, ‘চলমান যুদ্ধে শিশুটির কোন পরিবার নেই। আমরা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছি। তার আত্মীয়দের খুঁজে পাইনি, আমরা জানি না তার বাবার ভাগ্যে কী ঘটেছে। ’
গাজার ২.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক শিশু। যাদের জীবন নৃশংস এই যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, শহীদদের মধ্যে ১১ হাজার ৬০০ জন ১৮ বছরের নিচে। সঠিক সংখ্যা পাওয়া কঠিন হলেও ‘ইউরো-মেডিটারেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর’ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২৪ হাজারের বেশি শিশু বাবা অথবা মা বাবা উভয়কেই হারিয়েছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সী ইব্রাহিম আবু মুস:
দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সে পায়ে এবং পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। কিন্তু শিশুটি কাঁদছে তার মৃত মা, দাদা এবং বোনের জন্য। মুসের বাড়িতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। ইব্রাহিম বিবিসিকে বলেছে, ‘সবাই আমাকে বলেছিল হাসপাতালের ওপরে আমার মাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ’ পাশেই ইব্রাহিমের বাবা তার হাত ধরে ছিল। ইব্রাহিম আরো বলেন, “কিন্তু আমি যখন আমার বাবার ফোনে মায়ের ছবি দেখেছিলাম তখন সত্যটা জানতে পেরেছিলাম। সত্যিটা জানতে পেরে আমি এতটাই কেঁদেছিলাম যে, আমার পুরো শরীর ব্যথা করছিল। ”
গাজা যুদ্ধে আরো এক ভুক্তভোগী শিশু হুসেন আবেদ। আগে চাচাতো ভাইয়েরা একসঙ্গে থাকতো। কিন্তু এখন তারা কবরের পাশে বসে থাকে, যেখানে তাদের আত্মীয়দের সমাহিত করা হয়েছে। মধ্য গাজায় একটি স্কুলে আশ্রয়স্থলে তাদের সমাহিত করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে বাবা অথবা মা বা উভয়কে হারিয়েছে। আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবির এখন আবেদ হুসেনের বাসস্থান। হুসের বলে, ‘মিসাইলটি আমার মায়ের কোলে এসে পড়েছিল এবং তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কয়েকদিন ধরে আমাদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমার মায়ের শরীরের অংশগুলো খুঁজে পেয়েছিলাম। ’হুসেন আরো বলেন, “যখন জানতে পারলাম আমার ভাই, আমার চাচা এবং আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, তখন আমার মনে হয়েছিল আমার বুকে আগুন ধরে গেছে, রক্তপাত শুরু হয়েছে। ”
হুসেন আবেদ এখন রাতে জেগে থাকে। দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরায়েলি গোলাগুলির শব্দে ভয় পায়, একা বোধ করে। আবেদ তার বাবা-মা উভয়কে হারিয়েছে। আবেদ জানায়, আমার মা-বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, আমি ঘুমাতে পারতাম। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর আমি আর ঘুমাতে পারি না। আবেদ সবসময় তার বাবার পাশে ঘুমাত। এখন আবেদ এবং তার বেঁচে থাকা দুই ভাইবোনকে তাদের দাদি দেখাশোনা করছেন। কিন্তু দৈনন্দিন জীবন খুবই কঠিন। কোনো খাবার বা পানি নেই। আবেদ বলেন, ‘সমুদ্রের পানি পান করে আমার পেটে ব্যাথা শুরু হয়েছে। ’
রুটির জন্য ময়দা কিনতে গিয়ে শহীদ হন কিনজা হোসেনের বাবা। দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি শহীদ হন। দাফনের জন্য বাড়িতে আনা হয়েছিল ভীবৎস মৃতদেহটি। গোলার আঘাতে তাকে চেনা যাচ্ছিল না। কিনজা বলেন, “বাবার চোখ ছিল না, জিহ্বা কাটা ছিল। ’কিনজা দুঃখ নিয়ে জানায়, ‘আমরা চাই যুদ্ধ শেষ হোক। ’
গাজার প্রায় সবার এখন ত্রাণের প্রয়োজন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রায় ১.৭ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বারবার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটছেন তারা। কিন্তু জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো আনুমানিক ১৯ হাজার এতিম শিশুদের দেখাশোনা করার জন্য কোন প্রাপ্তবয়স্ক নেই।
ইউনিসেফ প্যালেস্টাইনের যোগাযোগের প্রধান জোনাথন ক্রিক রাফা থেকে বলেছে, ‘এই শিশুদের মধ্যে অনেক শিশুকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া গেছে। আবার অনেকে বোমা হামলায় তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। অন্যদের দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরায়েলি চেকপয়েন্ট, হাসপাতাল এবং রাস্তায় পাওয়া গেছে। ’ সে আরো জানায়, ‘ছোট শিশুরা তাদের নামই বলতে পারে না। ফলে তাদের বর্ধিত পরিবারের অন্য কোনো আতœীয়কেও খুঁজে পাওয়া যায় না। ’
ক্রিক বলেছে, ‘তাদের আতœীয়দের পাওয়া গেলেও শোকাহত এই শিশুদের যতœ নেওয়ার জন্য ভালো জায়গা পাওয়া যায় না। তাদের নিজেদের সন্তানদেরও যতœ নিতে হয়। তাদের পক্ষে এই এতিম শিশুদের যতœ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, তারা খুব ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায়। ’
একটি অলাভজনক সংস্থা এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ। তারা ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ৫৫ টি শিশুর যতœ নিচ্ছে, যাদের বয়স ১০ বছরের কম। তারা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করেছে। ইউনিসেফ বলছে,গাজার প্রায় সব শিশুর এখন মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজন। তাদের জীবন, শৈশব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা পূর্বপরিকল্পিত, তীব্র নিন্দা ঢাকার
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাজা যুদ্ধের কারণে বাজেট ঘাটতি তীব্র
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রশংসা করল হামাস
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের তথ্য আমার জানা নেই -মন্ত্রিপরিষদ সচিব
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিএনপিতেই আস্থা গণমাধ্যমের
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দখলদারদের কোটি কোটি ডলার অর্থব্যয়ে নির্মিত বহু ড্রোন সহজেই বিধ্বস্ত করেছেন যোদ্ধারা
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ট্রমায় শিল্প-বিনিয়োগ সরকার ধারদেনায়
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৩০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার-দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাকৃবিতে উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে হস্তান্তর জোরদারের দাবি
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় সরকারের সঙ্গে দলেরও ব্যাপক প্রস্তুতি
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সঞ্চয়পত্র থেকে বাড়ছে সরকারের ঋণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












