মন্তব্য কলাম
আলুর কেজি ৯ টাকা, লোকসানে কাঁদছে কৃষক ও ব্যবসায়ী ২৫০ মিলি লিটার পানির দামে এক কেজি আলু, আলুচাষির কান্নার আওয়াজ কে শুনবে?
, ২০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
দাম না পেয়ে আলুচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক
সামনের বছর আবার আলুর দাম বাড়লে তখন আমদানীও করবে সরকার
কিন্তু এখন কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনতে নির্বিকার
আলু রফতানীর সব বাধা দূর করা দরকার
চলতি বছর উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দেশের কৃষকরা। একসময় লাভজনক ‘সোনার ফসল’ হিসেবে পরিচিত আলু এখন কৃষকের বোঝায় পরিণত হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ বাজারে দাম নেই। ফলে অনেক কৃষক উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারছেন না। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য আর ন্যায্যমূল্যের অভাবে লোকসানে পড়েছেন তারা। অনেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগামী মৌসুমে আর আলু চাষ করবেন না। এতে শুধু কৃষকের জীবিকা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি আগাম ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে এই জনপ্রিয় ফসল থেকে কৃষকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। আলুর প্রাচুর্যে নয়, এখন গ্রামীণ মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছে নীরব হতাশার ছায়া।
এ বছর কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই খরচও তুলতে পারেননি। কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার ৫০ হাজার টন আলু কেনার ঘোষণা দিয়েছিল এবং হিমাগারের ফটকে কেজিপ্রতি ন্যূনতম দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ২৭ আগস্ট ঘোষণার দুই মাস পরও ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে ঘোষিত দামের সুফলও পাননি চাষিরা।
বাজারে আলুর দাম ক্রমেই নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। পাইকারিতে কেজি ১০ থেকে ১২ টাকায়, খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যেখানে এক মাস আগেও দাম ছিল ২৫ টাকা। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়াই দরপতনের মূল কারণ বলে জানাচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, গত বছর দাম বেশি থাকায় এ বছর বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ফলে উৎপাদন বেড়ে বাজারে দাম পড়ে যায়, যার প্রভাব পড়বে আসন্ন মৌসুমেও। এবার দাম না পেয়ে কৃষকরা চাষ কমাবে, যা আগামী বছরের বাজারদরে প্রভাব ফেলবে। সরকারের নির্ধারিত ২২ টাকা কেজি মূল্য উৎপাদন খরচও তুলতে যথেষ্ট নয়। উৎপাদন, সংরক্ষণ, সুদ ও ওজনলস মিলিয়ে ন্যায্যমূল্য হওয়া উচিত অন্তত ২৫ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল সমস্যা বাজার ব্যবস্থাপনায়। এখনই সরকার যদি ন্যায্যমূল্যে যথেষ্ট পরিমাণ আলু সংগ্রহ করে, তবে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকের ক্ষতি কমবে।
আলুর সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে। সেখানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১ টাকায়, যেখানে উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ কেজিপ্রতি ২৬ থেকে ২৮ টাকা। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৭ টাকার লোকসান হচ্ছে। জেলা কৃষি অফিসের হিসাবে, মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৩৫ কোটি টাকা।
মুন্সীগঞ্জের কৃষক শরীফ হোসেন বলেন, আলু চাষ করে এ বছর লোকসানের ওপর লোকসান। নিজের টাকা আর ধার-দুটোই গেল। মনে হচ্ছে না সামনে আর চাষ করতে পারব।
বিক্রমপুর মাল্টিপারপাস হিমাগারের ব্যবসায়ী ফজর আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে ১০ টাকা কেজিদরে ছয় হাজার বস্তা আলু কিনেছিলাম, এখন দাম ৮ টাকা। সাত দিনে প্রায় ছয় লাখ টাকার লোকসান।
রাজশাহীর তানোরের কৃষক আজগর আলী জানান, হিমাগারে এক হাজার বস্তা আলু রেখেছি, টাকার দরকারে একশ বস্তা লোকসান দিয়ে বিক্রি করেছি। সরকার বলেছিল ২২ টাকায় কিনবে, এখন ১০ টাকাতেও ক্রেতা নেই।
একই চিত্র বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রংপুর ও লালমনিরহাটেও। জয়পুরহাটের ১১ হিমাগারে ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা, নওগাঁয় ১৪ কোটি, আর রংপুর অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
২৫০ মি.লি. বোতলজাত পানির দামে এখন এক কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে। আলুর দাম এমনই পড়ে গেছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বড় বিপণিবিতানগুলোয় ২৫০ মিলিলিটার যে পানির বোতল পাওয়া যায়, সেগুলোর দাম এখন ১০ টাকা। আর বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি আলু বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ টাকায়। অর্থাৎ ২৫০ মি.লি বা ১ পোয়া পানির দামেই পাওয়া যাচ্ছে এক কেজি আলু।
সাধারণত ‘পানির দামে’ বলতে খুব সস্তা দাম বা অত্যন্ত কম দাম বোঝায়। এখন এই রূপক অর্থই যেন সত্যি হলো। এতে আলুচাষিদের জন্য করুণ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ অনেকটা ‘পানির দামেই’ আলু বিক্রি করছেন আলুচাষিরা।
শুধু ২৫০ মিলি লিটারের পানির বোতলই নয়; বাজারে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো সবজিও এত কম দামে কেনা যায় না। বর্তমানে সবচেয়ে সস্তা সবজির একটি হচ্ছে পেঁপে; সেটির কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। যেকোনো ধরনের এক আঁটি শাকের দামও ১৫ থেকে ২০ টাকা বা এর কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়।
অথচ গত বছর অনেকটাই ভিন্ন চিত্র ছিল আলুর বাজারে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের এই সময়ে বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। এখন সেই দাম ৮ থেকে ১০ টাকা। আর উৎপাদন এলাকায় খুচরা বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরেও আলু বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন গুণের বেশি কমে গেছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে আলুর দাম কমেছে প্রায় ৬৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) তথ্য বলছে, দেশের ৩৪০ হিমাগারে এখনও প্রায় ১৭ লাখ টন আলু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে হিমাগারে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ থেকে ১১ টাকা- যা উৎপাদন খরচেরও নিচে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার ২২ টাকা ন্যূনতম দাম ঘোষণার পর উল্টো দাম আরও কমে গেছে।
সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করে। আর হিমাগার থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পুরোনো আলু বের করে দেওয়া হয়। এরপর হিমাগারের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে নতুন মৌসুমের আলু সংরক্ষণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর আলুর দাম কম থাকায় কৃষকেরা খুবই কম পরিমাণে আলু হিমাগার থেকে বের করছেন। অনেকে হিমাগারে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। তাতে নভেম্বরের মধ্যে সব আলু হিমাগার থেকে খালাস না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, হিমাগারে যারা আলু রেখেছেন, তাদের অনেকের পুঁজি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তারা আলু খালাস না করলে চুক্তি অনুসারে এসব আলু হিমাগারের মালিকেরা বিক্রি করে হিমাগারের খরচ তুলবেন। কিন্তু বাজারে আলুর দাম তো কম। ফলে সব আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সব মিলিয়ে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগারের মালিক-সব পক্ষেরই লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম দাম কার্যকর না হওয়া ও সময়মতো হস্তক্ষেপ না করায় কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদি সরকার সময়মতো উৎপাদনের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১২ থেকে ১৫ লাখ টন-আলু নির্দিষ্ট দামে সংগ্রহ করত, তাহলে বাজার স্থিতিশীল থাকত। কিন্তু মাত্র ৫০ হাজার টন কেনার সিদ্ধান্ত কোনো প্রভাব ফেলেনি। বাজার স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও ঘোষিত ন্যূনতম দাম বাস্তবায়ন দরকার।
কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন বীজ আলুও খাবার আলু হিসেবে বিক্রি করতে, যা আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে বাজারে ঘাটতি সৃষ্টি করবে। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। বলার অপেক্ষা রাখে না, কৃষি খাতের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কেবল মৌখিক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ধসে পড়বে।
উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে কৃষক, যার ফল ভোগ করবে গোটা দেশ।
এখন শুধু সংরক্ষণ নয়, আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও শিল্পায়নের দিকেও নজর দিতে হবে। আমাদের দেশে কোল্ডস্টোরেজগুলো এখনও কেবল সংরক্ষণের কাজেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু আলু থেকে তৈরি করা যায় নানা প্রক্রিয়াজাত পণ্য- চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর গুঁড়া, আলুভিত্তিক স্ন্যাকস এবং স্টার্চ, যা শিল্প খাতে মূল্যবান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল, ওষুধ, কাগজ ও আঠাশিল্পে আলুর স্টার্চের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে যদি এই শিল্পে বিনিয়োগ করে, তাহলে কৃষকরা নতুন বাজার ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ পাবেন।
তবে প্রক্রিয়াজাত বা রপ্তানিযোগ্য আলু উৎপাদনের জন্য মান ও সাইজের দিকেও নজর দিতে হবে। আমাদের দেশের আলু আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক সময় গ্রহণযোগ্য হয় না- মূলত আকার, মান ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সাইজ, আর্দ্রতা, রঙ ও রোগমুক্ত আলুই রপ্তানির উপযুক্ত। এই মান রক্ষা করতে হলে কৃষককে বীজের গুণগত মান, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং সংগ্রহ-পরবর্তী সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সমন্বিত উদ্যোগে আলুর মান উন্নয়নে এখনই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববাজারে আলুর রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। ভারত, নেদারল্যান্ডস, চীন ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো বছরে বিপুল পরিমাণ আলু ও আলুভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করে। তাই দেশের আলুর যদি মানোন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য করা যায়, তাহলে কৃষক লাভবান হবেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং দেশের কৃষি অর্থনীতি নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে।
পৃথিবীর অনেক দেশেই আলু প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। আমাদের দেশে ভাতের বিকল্প হিসেবে আলু খেতে বলা হলেও তা খুব একটা জনপ্রিয়তা পায় না।
বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে আলু উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। উৎপাদন বেড়েছে ২৬ গুণ। মাথাপিছু আলু খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ১০ গুণ। বাংলাদেশের মানুষ বছরে মাথাপিছু ২৩ কেজি আলু খায়। ভারতের চেয়ে আট কেজি বেশি।
খাবার তালিকায় ভাতের পরেই আলুর স্থান। আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আবার ইন্টারন্যাশনাল পটেটো কাউন্সিলের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী দেশ এবং এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের স্থান তৃতীয়। বিশ্বের অনেক দেশেই রুটি বা ভাতের বদলে আলু খাওয়ার প্রচলন আছে।
তবে আমাদের দেশে আলু এখনো পরিপূরক বা সহায়ক খাবার। আলু ভাতের চেয়ে পুষ্টিকর। শর্করার জোগান দেওয়ার পাশাপাশি আলু নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা মেটায়। পাশাপাশি খাদ্যে আঁশ থাকায় আলু হজমে সহায়ক এবং রক্তে শর্করার হার ঠিক রাখে।
হিমাগারে অবিক্রীত আলু ত্রাণ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। বন্যায় ত্রাণ হিসেবে, দুস্থ ও অসহায়দের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে এমনকি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ হিসেবে আলু দেয়া যেতে পারে।
সরকারের বিভিন্ন ত্রাণ কর্মসূচি, বিভিন্ন বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার রেশনের মধ্যে আলুকে সংযুক্ত করলে এই বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রির খাত তৈরি হবে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে আলু অন্তভুক্ত করা যায়। আলু দিয়ে বিকল্প খাদ্য তৈরির বিষয়ে প্রচার করা যায়। এসব বহুমুখী উদ্যোগ নিলে ন্যায্য দাম পেয়ে একদিকে কৃষকের প্রাণ বাঁচবে, উৎপাদিত আলু ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচলে কৃষকের দুশ্চিন্তা দূর হবে।
বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, দেশের সব হিমাগারে যে পরিমাণ আলু আছে তার আর্থিক মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে।
অপরদিকে রপ্তানিকারকদের কাছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবহন না থাকায় আলু রপ্তানি অলাভজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্যিকভাবে দেশে আলুর বহুমুখী ব্যবহার নেই। রপ্তানির ক্ষেত্রে যে ধরনের আলুর চাহিদা রয়েছে সেটির উৎপাদন এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে আলুর বাম্পার ফলন এবং চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর প্রচুর উদ্বৃত্ত থাকলেও এ থেকে কৃষক ও দেশের অর্থনীতি কাক্সিক্ষত সুফল পাচ্ছে না।
এসব বিষয়ে সরকারকে সক্রিয় করতে জনগণকেই সচেতন হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ‘আইএমএফের চাপে’ নতুন করের বোঝা বাড়ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে সরকারকে জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ এবং সামাজিক খাতে ভর্তুকি কমাতে হয়। এতে সমাজের নিচের স্তরের মানুষের ওপর চাপ বাড়ে।
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে কী প্রকৃতির মুহব্বত ও ঋতু প্রিয়তার কথা নেই? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে শীতকাল যে কত প্রিয় তা অনেকেরই অজানা। শীতে আছে গণীমত (পর্ব -২)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে কী প্রকৃতির মুহব্বত ও ঋতু প্রিয়তার কথা নেই? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে শীতকাল যে কত প্রিয় তা অনেকেরই অজানা। শীতে আছে গণীমত (পর্ব -১)
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সন্ত্রাসবাদ নয়; জিহাদী যোগ্যতা অর্জন করা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ফরয। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। উন্নত প্রশিক্ষন, যুদ্ধকৌশল, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন সাফল্যের শীর্ষে। সরকারের উচিত- দেশের মর্যাদা বুলন্দ ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ত্বকে সমুন্নত রাখতে সেনাবাহিনীর প্রতি সকল প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা।
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর তথ্যানুযায়ী বেনিয়া বৃটিশগুলো মুসলিম ভারত থেকে লুট করেছে ১২ হাজার লক্ষ কোটি টাকা প্রকৃতপক্ষে তারা লুট করেছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও বন্ধ করলে যা লাভ হবে চালু রাখলে তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি হবে ৫৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের দাবী অবিলম্বে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হোক কিন্তু তাদের উপেক্ষা করে পরিবেশ উপদেষ্টা প্রমাণ করছে তার পরিবেশবাদী তৎপরতা অন্য পরিবেশবাদীদের সাথে সাংঘর্ষিক এবং তার পরিবেশবাদী প্রচারণা কার্যকলাপ আসলে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নয় বরং বিশেষ প্রভুর নির্দেশনায় (প্রথম পর্ব)
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জুয়ার নেশায় বুদ হচ্ছে শিশু-কিশোররা-শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সাইটই পরিচালিত হয় দেশের বাইরে থেকে অনলাইনে জুয়ায় ছোট ছোট বাজির টাকা দিন শেষে একটি বড় অঙ্কের অর্থ হয়ে দেশ থেকে ডলারের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে প্রতিদিন এসব খেলা স্বাভাবিক গেমের মতো হওয়ায় প্রকাশ্যে খেলা হলেও আশপাশের মানুষ তা বুঝতে পারেন না কেবলমাত্র ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবনেই জুয়া বন্ধ সম্ভব ইনশাআল্লাহ
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গার্মেন্টসের চেয়েও বড় অবস্থানে তথা বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে অধিষ্ঠান হতে পারে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করলে শুধু মাত্র এ খাত থেকেই বছরে ১১ লাখ কোটি টাকা অর্জন সম্ভব ইনশাআল্লাহ। যা বর্তমান বাজেটের প্রায় দেড়গুণ আর শুধু অনিয়ম এবং সরকারের অবহেলা, অসহযোগীতা দূর করলে বর্তমানেই সম্ভব প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অর্জন জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সমৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সরকারের গাফলতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জনগণের জন্যও জরুরী। (২য় পর্ব)
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার রোবে, দোয়ার বরকতে- কুদরতীভাবে কমে যাচ্ছে ডলারের আধিপত্য বাংলাদেশের রিজার্ভ ডলারে রাখা উচিৎ নয়- এতে লাভ আমেরিকার মুসলিম বিশ্বে অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বিশেষত মূল্যহীন কাগজী মুদ্রা বাদ দিয়ে সুন্নতী দিনার-দিরহাম মুদ্রা চালু করা আবশ্যক ইনশাআল্লাহ (দ্বিতীয় পর্ব)
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিদেশি হাইব্রিড বীজের ফাঁদে দেশের কৃষি। হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় ফসলের জাত, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ফুলে-ফেঁপে উঠছে বীজ কোম্পানিগুলো।
২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়াতে সতর্কতা তথা মধ্যম আয়ের স্থবিরতা তাওয়াক্কুল আর তাকওয়া অবলম্বনে সব সমস্যা দূর হয়ে অচিরেই বাংলাদেশ হতে পারবে শীর্ষ সমৃদ্ধশালী দেশ ইনশাআল্লাহ
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












