হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিছু সংক্ষিপ্ত ঘটনা ও ইবরত নছীহত (৬)
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(১৩) হযরত আবুল খায়ের আকতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক সময় লেবাননের পাহাড়ে থাকতেন। একদিন সেই দেশের বাদশাহ এসে ঐ পাহাড়ের সকল ফকীরকে একটি করে দীনার দিলেন। হযরত আবুল খায়ের আকতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও দীনার গ্রহণ করলেন। কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গে উনার এক সঙ্গীর কোলে দীনারটি ফেলে দিলেন। অতঃপর তিনি উনার সঙ্গীসহ মাল-সামানা নিয়ে শহরের দিকে রওয়ানা হলেন। ঘটনাক্রমে তাড়াহুড়ার মধ্যে তিনি বিনা অজুতে পবিত্র কুরআন শরীফ উঠিয়ে নিজের সঙ্গে নিলেন।
উনারা যখন একটি বাজারের সামনে এলেন তখন দেখলেন যে, একদল লোক কিছু চোরের খোঁজ করছে। লোকজন সূফীদের দলকে দেখে, চোর ভেবে উনাদেরকেই গ্রেফতার করলো। তখন হযরত আবুল খায়ের আকতা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন যে, তিনিই সকলের সর্দার। কাজেই উনাকে রেখে যেন সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়। লোকজন তাই করলো। বিচারে তারা হযরত আবুল খায়ের আকতা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত কেটে দিলো। পরে তারা উনার সম্পর্কে জানতে পেরে খুবই অনুতপ্ত ও লজ্জিত হলো এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলো। তিনি এ অবস্থায় বাড়ী পৌঁছলে সকলে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।
তিনি বললেন, “খবরদার! চুপ থাকো, এটা কান্নাকাটির সময় নয়। বরং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় এবং আমাকে মুবারকবাদ দেয়ার সময়। কেননা, তারা আমার হাত না কাটলে আমার দিল কাটা যেতো। কারণ, এ হাত মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, বিনা অজুতে পবিত্র কুরআন শরীফ স্পর্শ করেছে। আর বাদশাহর দান এ হাতই গ্রহণ করে সঙ্গীর কোলে ফেলে দিয়েছে। ” এ জন্য উনাকে আকতা বলা হতো, যার অর্থ কাটা।
ফায়দা:
যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার যতবেশী নৈকট্য হাছিল করতে চান, উনাকে তত বেশী মুত্তাক্বী-পরহেজগার হতে হয়। এমন অনেক বিষয় আছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য জায়েজ হলেও নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য জায়েজ নয়। এ জন্য উনাদের কাজের সামান্যতম ব্যতিক্রমও মহান আল্লাহ পাক তিনি বরদাশত করেন না। অবশ্য এতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মর্যাদাই বৃদ্ধি পায়। কেননা একমাত্র উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার যে কোন কাজ বা বিষয়কে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে থাকেন এবং করতে পারেন।
(১৪) হযরত মনসুর আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যুগে একদিন এক অসচ্চরিত্রের লোক তার চাকরকে চারটি দেরহাম দিয়ে বাজারে পাঠালো কিছু জিনিস কেনার জন্য। তার বাজারে যাবার পথে সেদিন হযরত মনসুর আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ওয়াজের মাহফিল চলছিলো। চাকর লোকটি ঐ মাহফিলে কিছুক্ষণের জন্য বসলো।
হযরত মনসুর আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ওয়াজ শরীফ করতে করতে এক সময় একজন নিঃস্ব দরবেশের জন্য কিছু সাহায্যের আবেদন করলেন। তিনি বললেন, এমন কে আছে যে, এই দরবেশকে চারটি দিরহাম দান করতে পারে? তিনি তার জন্য চারটি দোয়া করবেন। তখন চাকর লোকটি ভাবলো, এর চেয়ে ভাল সুযোগ আর কি হতে পারে। এই ভেবে চাকর লোকটি তৎক্ষনাৎ দরবেশকে তার সেই চারটি দিরহাম দিয়ে দিলো।
তখন হযরত মনসুর আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? তুমি কি চাও? সে বললো, আমি একজন ক্রীতদাস। আমার প্রথম আবেদন হলো, আমার যিনি মনিব আছেন, তিনি যেন আমাকে আযাদ করে দেন। আমার দ্বিতীয় আবেদন, আমার মনিব যেন সকল পাপকার্য থেকে তওবা করেন। তৃতীয় আবেদন হলো, আমার এই চারটি দিরহামের বদলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাকে আরো চারটি দিরহাম দেন। আর আমার চতুর্থ আবেদন হলো, আমার প্রতি, আমার মনিবের প্রতি এবং এই মাহফিলের সকলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন খাছ রহমত নাযিল করেন।
হযরত মনসুর আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চাকর লোকটির সকল আবেদনের জন্যই দোয়া করলেন। তারপর মাহফিল শেষ হয়ে গেলে চাকর বাড়ী ফিরে এলো। মনিব চাকরকে এত বিলম্বে আসার কারণ এবং বাজারের সদাই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, সে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। ঘটনা শুনে মনিব তাকে আযাদ করে দিলো এবং নিজেও তওবা করলো। উপরন্তু চাকরকে চারশত দিরহাম দান করলো এবং বললো, যা’ তার হাতে ছিলো তা’ সে পূর্ণ করলো এবং যা’ তার হাতের বাইরে তা’ সে পূর্ণ করতে অক্ষম।
সেই রাত্রেই মনিব স্বপ্নে দেখলো, কেউ একজন তাকে বলছেন, “হে মনিব! তুমি হতভাগা হয়েও তোমার সাধ্যে যা ছিলো, তাই করেছো। এখন আমার সাধ্যে যা আছে আমি তাই করছি। আমি তোমার উপর, তোমার গোলামের উপর এবং সেই মাহফিলের সকলের উপর আমার রহমত নাযিল করলাম”।
ফায়দা:
উপরোক্ত একটি ঘটনা অনেকগুলো বিষয়ের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। প্রথমত, বুযূর্গ ব্যক্তিদের মাহফিলের মর্যাদা। একজন সাধারণ লোক পথ চলবার সময় সেই মাহফিলে শরীক হওয়ার ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয়ে গেলো। দ্বিতীয়ত, এই লোকটির কারণে এমন একজন বদ লোককেও মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে নিলেন যে মাহফিলেই আসে নাই। তৃতীয়ত, বুযূর্গ ব্যক্তিদের কথা শুনে সে অনুযায়ী আমল করার ফযীলত। চতুর্থত, বুযূর্গ ব্যক্তিদের দোয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি খুব দ্রুত কবুল করেন। পঞ্চমত, দানের ফযীলত।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র ‘ছলাতুল জুমুয়াহ’ উনার পূর্বে ৪ রাকায়াত সুন্নত নামায অর্থাৎ পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায নিয়ে বাতিলপন্থিদের বিভ্রান্ত্রিকর ও মিথ্যা বক্তব্যের দলীলভিত্তিক জাওয়াব (৬)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলিম অর্জন করার পর সে অনুযায়ী যে আমল করে না, তার তিনটি অবস্থার যে কোনো একটি হবেই-
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঢিলা-কুলুখের বিধান
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












