পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ৩ রা জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে বলেন-
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ
আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কি ব্যয় করা হবে? কোথায় ব্যয় করা হবে? যে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, কি এবং কোথায় ব্যয় করা হবে?
قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ
আপনি বলে দিন, তোমরা ব্যয় করো। কোথায় ব্যয় করবে? সেটা কি ব্যয় করবে?
قُلِ الْعَفْوَ
আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত যেটা সেটাই তোমরা ব্যয় করবে অর্থাৎ এ ব্যয় করাটা অতিরিক্ত হতে। কতটুকু অতিরিক্ত হবে এবং কোথায়
فَلِلْوَالِدَيْنِ
প্রথম যে ব্যয় করতে হবে সেটা হচ্ছে পিতা-মাতার জন্য। এরপর,
وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ
আত্মীয়-স্বজনদের জন্য, ইয়াতীম-মিসকীন, এরপর যারা মুসাফির তাদের জন্য। অর্থাৎ সন্তানের সম্পদ যেটা ব্যয় করবে সেটা হচ্ছে তার পিতা-মাতার জন্য
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ
এবং তোমরা যে ভাল কাজ করে থাকো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিন্তু জানেন। কে কতটুকু খুলুছিয়াতের সহিত, কতটুকু মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে থাকে সেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন।
তোমরা প্রথম যেটা ব্যয় করবে সেটা হচ্ছে তোমার পিতা-মাতার জন্য। এবং সেটা কতটুুকু? কোনটা ব্যয় করবে? অতিরিক্ত। কোন অতিরিক্ত? অর্থাৎ নিজের যতটুকু দরকার রয়েছে, যেহেতু তাকে কামাই করতে হবে।
এখন কামাই করতে গেলে তার যে দরকার রয়েছে সেটা গ্রহণ করে এরপর প্রথম যেটা ব্যয় করবে সেটা তার পিতা-মাতার জন্য ব্যয় করতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ আত্মীয়-স্বজন, অন্যান্য যারা হক্বদার রয়েছে। ইয়াতীম-মিসকীন এবং যারা মুসাফির বা আরো যারা রয়েছে তাদের জন্য সেটা ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ সন্তান সৎ ব্যবহার করবে পিতা-মাতার সাথে আচার-আচরণে, কথা-বার্তা, চাল-চলনে, এর সাথে সাথে তার আর্থিক দিক থেকে। যেমন সে বদনীভাবে করবে তেমনি মালীভাবে পিতা-মাতার হক্ব আদায় করতে হবে।
পিতা-মাতার যদি খাওয়া পরার অভাব হয়, কষ্ট হয়, তাহলে সন্তানের দায়িত্ব হবে পিতা-মাতার সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য, মোচন করার জন্য কোশেশ করা। এখন যতটুকু তার সামর্থ্য হবে ঠিক ততটুকু সে করবে। সামর্থ্যরে বাইরে তাকে নির্দেশ বা আদেশ দেয়া হয়নি। তার সামর্থ্য অনুযায়ী সে বাপ-মায়ের জন্য খরচ করবে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়-
عَنْ حضرت عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ أَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ اللهِ. قَالَ فَهَلْ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَىٌّ. قَالَ نَعَمْ بَلْ كِلاَهُمَا. قَالَ فَتَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ اللهِ. قَالَ نَعَمْ. قَالَ فَارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا
এক ব্যক্তি আসলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। এসে বললেন-
أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ
ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছি, আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ আমি করেছি।
عَلَى الْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فىِ سَبِيلِ اللهِ
হিজরত করার শর্তে এবং জিহাদ করার শর্তে।
أَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ اللهِ.
যার কারণে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বিনিময় চাচ্ছি, উজরত চাচ্ছি, ফযিলত, নেকী আমি চাচ্ছি।
قَالَ فَهَلْ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَىٌّ.
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রশ্ন করলেন সে ব্যক্তিকে।
হে ব্যক্তি! আপনার কি পিতা-মাতার কেউ জীবিত আছেন?
قَالَ نَعَمْ بَلْ كِلاَهُمَا حَىٌّ يَا رَسُوُلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অবশ্যই আমার পিতা-মাতা জীবিত রয়েছেন।
بَلْ كِلاَهُمَا.
উভয়ে জীবিত রয়েছেন।
فَقَالَ رَسُوُلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ الله عَزَّ وَجَلَّ. قَالَ نَعَمْ.
সত্যি কি আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কিছু চান? নেকী, ভালাই কি কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে তলব করেন?
قَالَ نَعَمْ
তিনি বললেন, হাঁ। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-
فَقَالَ رَسُوُلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا
হে ব্যক্তি! আপনি আপনার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যান এবং উনাদের সাথে আপনি সৎ ব্যবহার করুন, উনাদের সাথে সৎ ব্যবহার করুন। ছূরতান, সীরতান, বদনী, মালী সবদিক থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে জাযা-খায়ের, ভালাই দান করবেন। সুবহানাল্লাহ্!
যে ব্যক্তি হিজরতের জন্য, জিহাদের জন্য বাইয়াত গ্রহণ করেছে সে ব্যক্তির পিতা-মাতার খিদমত করার মতো আর কোন লোক ছিলো না। তিনিই ছিলেন পিতা-মাতার খিদমতের একমাত্র খেদমতগার।
সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দেখুন, আপনি ব্যতীত আপনার পিতা-মাতার খেদমত করার মত আর কোন লোক নেই। যার জন্য উনারা কষ্ট পাবেন। কাজেই আপনি হিজরত না করে, জিহাদ না করে আপনার পিতা-মাতার খেদমতে লেগে যান। উনাদের সাথে সৎ আচরণ করুন। সৎ ব্যবহার করুন।
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আপনাকে জাযা-খায়ের দান করবেন। আপনি যে বিনিময় চাচ্ছেন, সে বিনিময় মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার পিতা-মাতার খেদমতের মাধ্যমেই সেটা দিয়ে দিবেন। আপনার পিতা-মাতার খেদমতের বিনিময়ে সেটা দিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত ভাষায় সম্বোধন মুবারক করতে হবে
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র সুন্নত যিন্দাকারী অর্থাৎ মুহ্ইউস সুন্নাহ
১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুন্নতী খাবার পরিচিতি
১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছাহিবায়ে নেয়ামত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ
১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংশ্লিষ্ট মহাসম্মানিত দিন এবং রাত মুবারক-এ স্বয়ং রহমত মুবারক উনার মালিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাছিল করা যায়
১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নিষিদ্ধ মহিলা জামায়াত নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ছু’দের বিভ্রান্তিকর ও জিহালতী বক্তব্যের জবাব (১)
১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ বুখারী শরীফে বর্ণিত জাল হাদীছের খন্ডন (১)
১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কুফরী আক্বীদা পরিহার না করলে চির জাহান্নামী হতে হবে
০৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যার-তার থেকে দ্বীনি ইলিম গ্রহণ করা যাবে না
০৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক বাস্তবায়নে হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের বেনযীর দৃষ্টান্ত
০৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)