সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৮)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ২৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নছীহত মুবারক:
তাই তো কবি যথার্থই বলেছেন-
مٹا دو اپنی ہستی کو اگر کچھ مرتبہ چاہو کہ دانہ بخاک ملکر گول گلزار ہوتا ہے
অর্থ: যদি সম্মান-মর্যাদা হাছিল করতে চাও তাহলে নিজের হাস্তী তথা অস্তিত্বকে বিলীন করে দাও। কেননা, শষ্য-দানা মাটির সাথে মিশে, অস্তিত্বকে বিলীন করার পরেই ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন যে, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগীর একটি বাহ্যিক রূপ আছে। আর একটি হাক্বীক্বত বা মৌলিক তথা প্রকৃত রূপ আছে। এ সব ইবাদত-বন্দেগীর হাক্বীক্বত বা প্রকৃত অবস্থাকে ছেড়ে দিয়ে শুধু জাহিরী বা বাহ্যিক দিকের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ হওয়া একেবারেই ফুজুল তথা বাতিল বা অকার্যকর। সেই ব্যক্তি প্রকৃত আহমক বা নির্বোধ, যে ঐ সব বিষয়ের হাক্বীক্বত বা মূলে পৌঁছতে চায় না এবং প্রয়োজনও অনুভব করে না।
পরিশেষে তিনি আরো বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি অনন্ত-অসীম। তিনি সর্বদা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। আর সালিক বা মুরীদ প্রথম অবস্থায় অন্ধ ও বধির থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
মুরীদ যখন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হতে দৃষ্টি লাভ করে তখনই সে প্রকৃত অবস্থা দেখতে পায় ও শুনতে পায়। আর তখনই নিজে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। আর যখন তার অবস্থা এরূপ হয় তখন সে মুশাহিদ বা দর্শনকারী হয়। এবং সবসময়ের জন্য জীবন্ত থাকে, অমর হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَإِنَّهٗ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ تَعَالٰى
অর্থ: তোমরা মু’মিনের ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করো। কেননা উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা সবকিছুই দেখে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, তবারানী শরীফ, তাফসীরে তাবারী শরীফ)
হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গুণাবলী:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন সুলত্বানুল হিন্দ অর্থাৎ ভারত উপমহাদেশের রূহানী জগতের বাদশাহ। এই উপমহাদেশের পবিত্র বেলায়েতের (অলিত্ব) মাক্বাম পূর্ণতার সনদ দেন তিনি। উনার সনদ ব্যতীত কেউ বেলায়েতের দায়িত্ব ভার বহন করতে পারেন না। যারাই ওলীআল্লাহ হয়েছেন উনারা সবাই সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুমোদন পেয়েছেন। সেটা রূহানীভাবে হোক অথবা জাহিরীভাবে হোক।
কাজেই তিনি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কত মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক, নিসবত, কুরবত মুবারক হাছিল করেছেন তা সহজেই অনুমেয়। আর উনার চারিত্রিক গুণাবলীর বর্ণনা দেয়ার যোগ্যতা কার আছে? আর সে বর্ণনা শোনার ধৈর্য্যই বা কতজনের আছে?
তবুও যৎকিঞ্চিত আলোকপাত করা যেতে পারে। মহান আল্লাহ পাক এবং মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কবুল করুন। ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন।
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পৃথিবীর সবার চেয়ে সর্বাপেক্ষা বেশি মুহব্বত করতেন। এমনকি নিজের জানের চেয়েও বেশী মুহব্বত করতেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পূর্ণ পাবন্দ ছিলেন তিনি। পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ কোন কাজ বা আমল করতেন না। খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা, লেন-দেন, কথা-বার্তা, ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির, মুরাকাবা-মুশাহাদার প্রতিটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ইতায়াতকারী ছিলেন।
পাশাপাশি স্বীয় শায়েখ হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রাণাধিক মুহব্বত করতেন। শায়েখ উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক পরিপূর্ণরুপে পালনে সদা সর্বদা তৎপর ছিলেন। শায়েখের কোন বিষয়ে কখনো চু-চেরা ক্বীল-ক্বাল করেননি। এমনকি অন্তরেও তা উদয় হয়নি। সুবহানাল্লাহ!
সর্বদা সম্মানিত শায়েখ উনার খিদমতের আঞ্জাম দিতেন। শায়েখের খিদমতকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি উনার শায়েখের প্রতি যে আদব-প্রদর্শন করেছেন তা ইতিহাসখ্যাত বা মশহূর। তা মা’রিফাত-মুহব্বত তালাশী সকল সালিক বা মুরীদের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়রূপে ক্বিয়ামত পর্যন্ত বিরাজমান।
উনার চারিত্রিক গুণাবলী দেখে উনার সম্মানিত পীর-মাশায়িখ হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অভিভূত হতেন। তাই উনাকে অত্যধিক মুহব্বত করতেন। উনাকে বেশীক্ষণ না দেখলে থাকতে পারতেন না। তিনি প্রায়ই অন্যদেরকে বলতেন, “আমার মুঈনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাহবূব। ”
আমি উনাকে আমার মুরীদগণের মধ্যে পেয়ে গর্বিত। সুবহানাল্লাহ! (খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৫৪)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (২)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে মুসলমান যে বিজাতীয় সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, তাদের সাথেই তার হাশর নশর হবে
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করার অপরিসীম ফযীলত
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দুরূদ শরীফ দৈনিক বাদ ইশা ও বাদ ফজর ১০০ বার করে পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র ক্বাবলাল জুমুআহ্, বা’দাল জুমুআহ্ এবং সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায উনার শরঈ আহকাম (৫)
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












