ক্বাদিরিয়া সিলসিলার আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের জীবনী মুবারক
হযরত শায়েখ আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩)
বিলাদত শরীফ: ২৪৭ হিজরী (৮৫১ খ্রিস্টাব্দ) বিছাল শরীফ: ৩৩৪ হিজরী (৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ) বয়স মুবারক: ৮৭ বছর
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৭ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কামালিয়ত হাছিলের পর:
হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
الحرية هى حرية القلب لا غير
(সত্যিকারের আযাদী অন্তরের আযাদীর মধ্যেই রয়েছে, অন্য কিছুতে নেই। )
তিনি আরো বলেন, যে সময় এখন তোমার হাতে আছে, এর উপর ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করো, যেন আগামীকাল এবং সব সময়ের জন্য ইহা তোমার কাজে আসে। আর এর হাক্বীক্বত আমি শিবলীর নিকট থেকে লিখে নাও এবং স্মরণ রেখো, কেননা এর থেকে উত্তম শিবলীর নিকট আর কোন কথা নেই, এই সময় যা আজ তোমার হাতে আছে, তা আগামীকাল ফল দিবে। (মিরাতুল আসরার)
বিভিন্ন রকম হাল ও আধ্যাত্মিক অবস্থা:
একদিন হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুর রহমান খোরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আপনি কি শিবলী ব্যতীত এমন কোন ব্যক্তিকে দেখেছেন যে বলে, “আল্লাহ”? তিনি জবাব দিলেন, আমি শিবলীকেও “আল্লাহ” বলতে দেখিনি। ইহা শুনে হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানেই মাটিতে গড়িয়ে পড়লেন এবং বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
হযরত আব্দুর রহমান খোরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরজায় এসে খটখটি দিলো। তিনি খালি মাথা ও খালি পায়ে বাইরে এসে বললেন, কাকে চাও? সেই ব্যক্তি বললো, শিবলীকে চাই। তিনি বললেন, তুমি কি শুনো নি?
مَاتَ كَافِرًا فَلَا رَحْمَةُ اللهِ
(সে কাফের হয়ে মারা গেছে, তার উপর মহান আল্লাহ পাক তিনি রহমত না করুন!) শায়খুল ইসলাম বলেন, কাফের শব্দের অর্থ দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন (হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার “নফ্স” (কুপ্রবৃত্তি)।
একদিন কিছু লোক উনার ঘরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সূর্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, নামাযের সময় নিকটবর্তী। সকলে উঠে নামায আদায় করলেন। হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হেঁসে উঠে বললেন, কোন ব্যক্তি কি সুন্দর শে’র (কবিতাংশ) বলেছেন-
نَسِيْتُ الْيَوْمَ عَنْ عِشْقِىْ صَلَواتِىْ- فَلَا اَدْرِىْ غَدَاءِىْ مِنْ عِشَاءِىْ
(ইশ্কের কারণে আজ আমি নামায ভুলে গিয়েছি, কেননা কখন আমার সকাল হয় এবং কখন আমার সন্ধ্যা হয়, আমি বলতে পারি না। ) যখন হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই কথা শুনতে পেলেন, তখন তিনি হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট একটি পত্র লিখেন, “যে সব কথা আমি তোমার কানে কানে বলেছিলাম, সে সব কথা তুমি সর্বসাধারণের নিকট বলা শুরু করেছো। ” হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তার উত্তরে লিখেন, “আপনি বলেছিলেন, এই গোপন কথাসমূহ অন্য কারো নিকট বলবে না, আর এখন আমার দৃষ্টিতে “অন্য কেউ” বলতে কাউকে দেখি না। ”
انا اقول و انا اسمع هل فى الدرين غيرى
অর্থাৎ আমি বলি এবং আমিই শুনি, আমি ছাড়া দুনিয়া আখিরাতে আর কেউ আছে কি?। (মিরাতুল আসরার)
হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যখন বিছাল শরীফের সময় হয়ে আসলো, তখন উনার চোখ কালো বর্ণ হয়ে গেলো। তিনি ছাই জোগাড় করে এনে উনার মাথার উপর ঢাললেন এবং উনার মধ্যে বর্ণনাতীত বেকারারী এসে গেলো। লোকেরা উনাকে জিজ্ঞাসা করলো, আপনি এত বেকারার হচ্ছেন কেন? তিনি বললেন, ইবলিসের প্রতি আমার ঈর্ষা হচ্ছে এবং তার জন্য বিদ্বেষের আগুন আমার অন্তরে জ্বলছে। আমি এখানে তৃষ্ণার্ত হয়ে বসে আছি, আর নিয়ামত অন্য কেউ হাছিল করছে, কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىْ اِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ
(হে শয়তান, তোমার উপর আমার লা’নত ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত থাকবে)। এখন কথা এই যে, শয়তানের জন্য সেই লা’নত আমি দেখতে পাচ্ছি না, আর আমি চাই, এই লা’নত যদি আমার জন্য হতো! এই লা’নত তার জন্য নয়, বা তার সাথে সম্পর্কিতও নয়, কেননা সে মালউনকে সম্পর্কের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্পর্কের মর্যাদা উনার প্রিয় বান্দাদেরকে কেন দিলেন না, যাতে তারা উনার আরশের শীর্ষ দেশে কদম স্থাপন করতে পারতো। অর্থাৎلَعْنَتِىْ (আমার লা’নত) শব্দটিতে আমার বলে যে সম্পর্ক বুঝানো হয়েছে তা ঈর্ষণীয়, কারণ এই সম্পর্ক দোস্তদের জন্যই হয়ে থাকে। (মিরাতুল আসরার)
বর্ণিত আছে যে, হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনের শেষ ভাগে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” যিকির ছেড়ে কেবল “আল্লাহ, আল্লাহ” যিকির করতেন। সাধারণ লোকের মনে উনার সম্পর্কে কুধারণা সৃষ্টি হয়। কিন্তু উনার জালালিয়ত ও মর্যাদার কারণে উনার সম্মুখে গিয়ে কেউ কোন কিছু বলার সাহস পেতো না। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাক্বীক্বী মৃত্যুকে স্মরণ করার মধ্যেই শহীদী দরজা মিলে
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়, ছোঁয়াচে বিশ্বাস করা কুফরী
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৩)
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বক্ষেত্রে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়াই ঈমানদারের পরিচয়
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (২)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












