অমুসলিম মহিলাদের দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ঈমানদীপ্ত ঘটনা:
আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মুগ্ধ ইহুদি নারীর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ
, ২০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ হাদি আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ৩১ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইউরোপ অনেকটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের সময় আমার পরিবার লুকিয়ে ছিল। আমার পিতামহকে বন্দী করার পর তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় আমার মা তার পিতাকে হারায়।
১৯৫৭ সালে আমার বাবা-মা জার্মানির ম্যানহেইম থেকে কানাডায় চলে যায়। আমার বাবা-মা ইহুদি এবং ইহুদি পরিবারেই আমার জন্ম। যুদ্ধের পর আমার বাবা-মা উভয় বেশ তিক্ত ছিল এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই নতুন দেশে একটি নতুন জীবন শুরু করতে চেষ্টা করে।
তারা কানাডায় কানাডিয়ানদের মত হতে কঠোর চেষ্টা করে। তারা সেখানে তাদের নাম পরিবর্তন করে এবং তাদের ঐতিহ্যকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রাখে।
আমি আমার বাবা-মা থেকে ভিন্ন ছিলাম। আমি আমার ইহুদি বিশ্বাসকেই গ্রহণ করি কিন্তু আমি তখনও কিছু একটার সন্ধানে ছিলাম। আমি জানি না সেটা কি।
যখন আমার অনুসন্ধান শেষ, সান্দ্রা তখন আর নেই। সান্দ্রার স্থান দখল করে হয় সালমা। ইহুদি ধর্ম থেকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার সময় আমি সালমা নাম গ্রহণ করি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিছবত মুবারক লাভে আমি এই নামটি বেছে নেই।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছুছিয়ত মুবারক উনার মধ্যে একখানা বিশেষ খুছুছিয়ত মুবারক ছিল, তিনি সবাইকে দেখাশোনা করতেন এবং এটি আমার নিজের নামের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ। কেননা আমি আমার সান্দ্রা নামের অর্থ অনুসন্ধান করে জেনেছি, সান্দ্রা মানে মানবজাতির সাহায্যকারী।
সম্ভবত আমার যখন ১৩ বছর বয়স, তখন ক্যাট স্টিভেন্স নামে এক লোকের কথা জানতে পারি যিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং যিনি এখন ইউসুফ ইসলাম নামে পরিচিত। আমাকে তার এই বিষয়টি মুগ্ধ করে এবং তখন থেকেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি।
আমার টিনেজার বয়সটি ছিল আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি বিদ্রোহী টাইপের ছিলাম না। আমি কেবলই অসন্তুষ্ট ছিলাম। আমি বাড়িতে কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। এই কারণে আমি ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ত্যাগ করি।
২০০১ সালে আমি এক মাতাল ড্রাইভারের আঘাতের শিকার হই। তার আঘাতের কারণে আমাকে পুনরায় হাটতে শিখতে হয়। এই মাতাল ড্রাইভার আমার গাড়িতে আঘাত হানে। তার আঘাতে আমার গাড়ি বাতাসের সাথে উড়তে থাকে। আমি আমার জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। আমার কাছে কেবলই মনে হয়েছিল, আমি নিশ্চিত মারা যাচ্ছি।
দুর্ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটে যখন আমি আমার জীবন নিয়ে অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দে¦ ভুগছি। আমি সত্যিই জানতাম না আমি আসলে আমার বাকি জীবনে কি করতে চাচ্ছি।
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে আমার মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং ২০০৫ সালে তার মৃত্যু এবং এই সমস্ত ঘটনা আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি ধাবিত করে।
২০০৫ সালে আমি ভারত যাই। এটি ছিল আমার মায়ের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর। আমি যখন সেখানে যাই তখন ছিল রমাদ্বান শরীফ মাস। সেখানে প্রথম রাতে আমি ঘুমোতে যাই। ভোর ৫ টায় আযানের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
আযানের শব্দের বিশাল শক্তি আমাকে মুগ্ধ করে। আমি আসলে কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দূর থেকে ভেসে আসা এই আজান আমার মনে পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও একাত্মতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আমি আনন্দে কেঁদে ফেলি। আমার এই কান্না ছিল বিশ্বাসের কান্না।
আমি কালেমা শাহাদাত শরীফ পাঠ করতে এক ইমামের দ্বারস্থ হই। তার নিকট গেলে তিনি আমাকে এই সর্ম্পকে ধারণা দেন। বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলাম।
আমার ইসলাম গ্রহণের এই কথা আমার পরিবার এবং বন্ধুদের মাঝে বলাটা একটু কষ্টকর ব্যাপারই ছিল। আমি বলতে চাচ্ছি, এটি বলার আমার কোনো উপায় ছিল না যে, আমি ইহুদিধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়ে গেছি।
আমি প্রথম যখন হিজাব পরতে শুরু করি, প্রথম প্রথম স্নায়ুবিক দুর্বলতায় ভুগতাম। তবে আমি মনে করি, তারা যাই মনে করুক না কেন নারীদের শরীর ঢেকে রাখতে হিজাব পরিধান করা অতি জরুরি। পবিত্র কুরআর শরীফ উনার মধ্যেও তাই বলা হয়েছে। হিজাব পরে আমি সত্যিই স্বস্তি অনুভব করি। আমি আনন্দিত এটি পরে। এখন তো হিজাব ছাড়া বাইরে জনম্মুখে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারি না।
-উম্মু রাহাত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খছম বা ঝগড়া কু-স্বভাবটি পরিহার করা অপরিহার্য কর্তব্য
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমান পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন হচ্ছে- যথাযথভাবে ৫ ওয়াক্ত নামায তারতীব অনুযায়ী যথাসময়ে আদায় করে নেয়া
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি তওবাকারীকে পছন্দ করেন (১)
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












