যে সমস্ত উলামায়ে সূ’ ও তাদের শাগরেদ নামধারী মুসলমানরা মুশরিকদের মন্দির ও পূজায় পাহারা দিয়েছে তাদের ব্যাপারে শরঈ ফায়ছালা (২)
, ১৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৯ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ০১ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে- দুনিয়ার কোনো একপ্রান্তে যদি হারাম কাজ হয়। আর অন্য প্রান্ত থেকে যদি কেউ সেটাকে সমর্থন করে। তাহলে তারা উভয়ে সমান গুনাহগার হবে। শুধুমাত্র সমর্থন করার জন্য। এখন যে সমস্ত উলামায়ে সূ’রা মুশরিকদের পূজায় পাহারা দিচ্ছে, যারা মন্দির রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা কি তাহলে মুশরিক হলো না? অবশ্যই তারাও মুশরিকদের মতো মূর্তি পূজারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে কাউকে শরিক করলে তাকে ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কাউকে শরীক করলো; সে মূলত উনার প্রতি অপবাদ দিলো, কঠিন গুনাহ অর্জন করলো। নাঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করো না। নিশ্চয়ই শিরক অত্যন্ত কঠিন অপরাধ। (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
এরপর তারা এই মন্দির পাহারা দেয়ার কারণে লা’নতগ্রস্ত হচ্ছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
وَلَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ
অর্থ: তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলিতে তাদের মন্দিরে প্রবেশ করো না। কেননা ঐ সময় তাদের উপর লা’নত বর্ষিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৯/৩৯২, মুসনাদুল ফারূক্ব ২/৪৯৪)
সম্মানিত ঈমান উনার তিনটি স্তর রয়েছে। শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলে হাতে বাধা দেয়া, সেটা না পারলে মুখে প্রতিবাদ করা, এটাও না পারলে অন্তরে খারাপ জেনে সেই স্থান ত্যাগ করা। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো খারাপ কাজ হতে দেখবে তখন তার দায়িত্ব হচ্ছে সে যেন সেটাকে হাত দিয়ে বাধা দেয়, যদি সেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে সে যেন মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে। যদি সে মুখ দিয়েও প্রতিবাদ করতে না পারে তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে; (সেখান থেকে চলে যায়) আর এই তৃতীয় নাম্বারটা হচ্ছে দুর্বল ঈমানের পরিচয়। (মুসলিম শরীফ; হাদীছ শরীফ নং ১৮৬, মুসনাদে আহমদ ৩/৪৯)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে-
لَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الإِيمَانِ حَبَّة خَرْدَلٍ
অর্থ: এরপরে সম্মানিত ঈমান উনার আর কোনো স্তর নেই। (আল আহকামুশ শরইয়্যাহ লিল ইশিবীলী ৩/২১৬)
অর্থাৎ হারাম কাজ দেখে বাধা না দেয়ার কারণে এবং সেখানে অবস্থান করার কারণে তাদের ঈমানের আর কোনো স্তর বাকী থাকলো না। তারা বেঈমান হিসেবেই সাব্যস্ত হলো। তারা মূলত মুশরিকই হয়ে গেলো। নাঊযুবিল্লাহ!
কোনো স্থানে মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াত শরীফ বা নিদর্শন মুবারক উনাকে অস্বীকার করতে বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে দেখলে সে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آَيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
অর্থ: আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কিতাবে নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে (কোনো স্থানে বা মজলিসে) মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে ও সেগুলোকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে তখন তোমরা তাদের সঙ্গে বসে থেকো না, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কোনো প্রসঙ্গে যায় (বা এটা থেকে বিরত থাকে), (যদি তোমরা সেখানে বসে থাকো) নিঃসন্দেহে তাহলে তোমরাও তাদের মতোই হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুনাফিক ও কাফিরদেরকে সম্মিলিতভাবে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪০)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাহে যিলক্বদ শরীফ উনার আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে গরুর গোস্ত শি‘আরুল ইসলাম (৭)
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ মহিলা সবার জন্য ফরজ
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে সকল ওলামায়ে সূ’রা মন্দির ও মূর্তি পাহারা দিয়েছে, হিন্দুদের পূজায় গিয়েছে, তাদেরকে পূজা করতে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, সমর্থন করেছে, সম্মতি প্রকাশ করেছে, তাদের সাথে মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করেছে, তাদেরকে সম্মান করেছে, তা’যীম করেছে, তাদের সম্পর্কে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করেছে এবং সম্মানসূচক শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেছে, বাহ বাহ দিয়েছে এবং বেশি বেশি মূর্তি তৈরী করতে বলেছে এবং বেশি বেশি পূঁজা করতে বলেছে তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২)
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (১০) সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার কর্তৃক নাসী করা বা তারিখ আগ-পিছ করা
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খালি চোখে চাঁদ দেখে মাস শুরু করা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার নির্দেশ মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পূর্ব গণনাকৃত বর্ষপঞ্জী দিয়ে মাস শুরু করা শরীয়তসম্মত নয়
২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে গরুর গোস্ত শি‘আরুল ইসলাম (৬)
২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িয
২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)